মস্কোতে আলেকজান্ডারের বাগানে আবার চির প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শিখা আবার ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে. এই অগ্নি শিখা একটি সামরিক সাঁজোয়া গাড়ী করে বিশেষ মশাল জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা পাহাড় থেকে নিয়ে আসা হয়েছে. এই শিখা আলেকজান্ডার বাগানের স্মৃতি সৌধ ৬৫ তম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ উপলক্ষে নতুন করে বানানোর জন্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ২৭ শে ডিসেম্বর ২০০৯. দিমিত্রি মেদভেদেভ ও ভ্লাদিমির পুতিন স্মৃতি সৌধের সামনে পুষ্প স্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং ভেটেরান দের অভিনন্দন জানিয়েছেন.

    এই অনুষ্ঠান দেশের জাতীয় রক্ষী দিবস উপলক্ষে করা হয়েছে, যা আজ রাশিয়াতে সর্বত্র অনুষ্ঠিত হচ্ছে. মস্কো ও বহু অন্যান্য শহরে আজ জাতীয় রক্ষী দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক মিছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, জাতীয় পোষাকের প্রদর্শনী এবং নাট্য উত্সব হবে. রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নানা ঘাঁটি ও ছাউনিতে ২৩শে ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে প্যারেড করা হবে. আজ সন্ধ্যায় রাজধানীতে, সামরিক কারণে সম্মানিত শহর গুলিতে, বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রীয় শহরে শত সহস্র কামান দিয়ে পরপর তিরিশ বার আকাশে রঙীণ আতস বাজীর স্যালুট করে এই দিনে পিতৃভূমির রক্ষায় যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন এবং যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁদের সবাইকে মনে করে বাজী পোড়ানো হবে, বলে ইতার তাস সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে. জাতীয় রক্ষী দিবসে রুশ লোকেরা দেশের সৈন্য বাহিনীকে, যাঁরা দেশের জন্য আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, ভেটেরান দের, যাঁরা বর্তমানে সেনা বাহিনীতে আছেন, তাঁদের সবাইকে ও তাঁদের পরিবারকে  নিজেদের সম্মান ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে থাকেন. তাঁরাই প্রথম মানুষ, যাঁরা দেশের উপর কোন রকম আক্রমণ হলে প্রথমে নিজেদের প্রাণ দিয়ে রক্ষা করেছেন এবং এখনও করে থাকেন. জাতীয় রক্ষী দের সব সময়েই ভাগ্য ছিল কঠিন. সামরিক বাহিনী আজ রুশ দেশের ভিত্তি ও জাতীয় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার গ্যারান্টি. এই উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ, বক্তৃতা করতে গিয়ে বলেছেন যে দেশের সামরিক বাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য হল দেশকে যে কোন ধরনের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা, তিনি বলেছেনঃ "আমাদের লক্ষ্য দেশের সামরিক বাহিনীকে একটি ফলপ্রসূ, আধুনিক বিশ্বের সমস্ত বিপদের মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় বাহিনীতে পরিণত করা, যা যে কোন রকমের বিপদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারবে ও আন্তর্জাতিক ভাবে নিরাপত্তা এবং ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বাস্তবিক কারণ হবে". কিছু আগে তিনি জাতীয় রক্ষী দিবস উপলক্ষে পদক প্রদান উত্সবে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভেটেরান দের উদ্দেশ্যে বলেছেনঃ শীঘ্রই আমরা জয়ের জয়ন্তী উত্সব পালন করব. সেই সময়ে ১৯৪৫ সালে আপনারা বিশ্বকে ফ্যাসীবাদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন, দেশকে রক্ষা করেছেন, আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মের সাফল্যকে রক্ষা করেছেন এবং প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, দেশকে ভালবাসার ক্ষমতা, মানসিক শক্তির বিপুল ক্ষমতা এবং বীরত্ব আমাদের সেনা বাহিনীকে অজেয় করেছে. আপনাদের রুচির উপমা দিয়ে আমরা পরবর্তী প্রজন্মের সেনা ও তাদের প্রধান দের কে শিক্ষিত করে তুলছি. রাশিয়ার সেনা বাহিনী উচ্চ পর্যায়ের পেশাদারীত্বের সাথে যোদ্ধার মনোভাবে শক্তিশালী এবং বীরত্বের ঐতিহ্যে শক্তিমান আর তারা যে কোন ধরনের বিপদের সম্মুখীন হতে প্রস্তুত. আমাদের সামরিক বাহিনী আগের মতই দেশের প্রতিরক্ষা করতে অতন্দ্র প্রহরায় রত এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেও তারা কাজ করে চলেছেন".

আর চির প্রজ্জ্বলিত অগ্নি শিখা ক্রেমলিনের দেওয়ালের গায়ে আজ চল্লিশ বছরেরও উপর ধরে পবিত্র স্থান হয়ে রয়েছে, যেখানে শুধু রাশিয়ার রাজনীতিবিদেরাই আসেন না, আসেন বিদেশী প্রতিনিধিদল, তাঁদের রাজনীতি বিদেরা এবং মস্কো শহরের বহু সহস্র নব বিবাহিতেরা, সেই সব অমর সৈনিক দের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে, যাঁরা আত্ম বলিদান করেছেন দেশ ও জাতির রক্ষার কাজে.

<sound>