রাশিয়া সম্প্রতি ন্যাটোর পক্ষ থেকে নেওয়া কার্যক্রমকে বিশ্বের যেকোন দেশের পক্ষে আগ্রাসনীমূলক মনোভাবের সমতূল্য বলে দাবী করছে রাশিয়া.রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ চলতি সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিবৃতি প্রদান করেন.
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন,ন্যাটোর পক্ষ থেকে গৃহীত প্রস্তাবনাগুলি জাতিসংঘের গঠনতন্ত্রের সাথে কোন মিল নেই.
ন্যাটোর পক্ষথেকে গৃহীত ঐ প্রস্তাবনাগুলোকে ল্যাবরোভ আগ্রাসনীমূলক মনোভাবের সমতূল্য বলে দাবী করে বলেন-এ ফলে ন্যাটো বিশ্বের যে কোন দেশেই জাতিসংঘের অনুমতি ছাড়াই তার মিত্রবাহিনী পাঠাতে পারবে.
উল্লেখ্য ন্যাটোর নতুন এই প্রস্তাবনাগুলির পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয় গতবছর এপ্রিলে ন্যাটোর জয়ন্তী সম্মেলনে.
নতুন গৃহীত এই প্রস্তাবনায় যে বিষয়গুলিকে গূরুত্ব দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে-নতুন কোন জঙ্গী তত্পরতা বা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি,জ্বালানি সরবরাহে বাধা ও জলদস্যুদের কার্যক্রম ভন্ডুল করা.
আর এই প্রতিটি প্রস্তাবেই থাকবে ন্যাটোর দাঁত ভাঙ্গা জবাব.এই বিষয়ে আমাদেরকে জানান যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইন্সটিটিউটের সভাপতি ভিকতর ক্রিমেনইয়ুকা.
“রাশিয়া কখনই ন্যাটোর এই ধরনের প্রস্তাব মেনে নিবে না,যে ন্যাটো জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে নিজেই সিদ্ধান্ত নিবে কোথায়ে সৈন্য পাঠাতে হবে আর কোথায় হবে না.এই ধরনের জরুরি পরিস্থিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে একমাত্র জাতিসংঘেরই রয়েছে এই অধিকার.অন্য কোনকিছুরই এখানে দরকার নেই .যদি ন্যাটো নিজের এই সিদ্ধান্তে অনড় থাকে তাহলে রাশিয়া নিজেকে ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রতিরক্ষার জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করবে.যা ন্যাটো-রাশিয়ার মাঝে সম্পর্কের আবারও টানাপোড়ন সৃষ্টি করবে”.
আমরা এ বিষয়ে আরও জানার জন্য কথা বলি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গবেষনা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ভ্লাদিমার বেলাউসের সাথে.তিনি বলেন-
“গত ৫ ফেব্রুয়ারী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর জন্য নতুন প্রজ্ঞাপন জারী করেন.যেখানে পরিষ্কার করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাশিয়া প্রথম পর্যায়ে কোন প্রকার অস্ত্র দিয়ে জবাব দিবে না.শুধুমাত্র তখনই সামরিক বাহিনীকে ব্যাবহার করা হবে যখন রাশিয়া নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি আছে বলে মনে করবে.এটা পরিষ্কার যে,ন্যাটোর নতুন এই প্রস্তাবনা গৃহীত হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আহবানের কারণে”.
উল্লেখ করা যায় যে, ১৯৯৯ সনে ওয়াশিংটনে ন্যাটোর সর্বশেষ প্রস্তাবনা গৃহীত হয়.নতুন এই প্রস্তাবনা সম্পর্কে ন্যাটোর জেনারেল সেক্রেটারী আন্দ্রেস ফোগ রাসমুসেন ঘোষনা করেন যে,”নতুন এই প্রস্তাবনা ন্যাটোর ইতিহাসে সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হবে”.
  (sound)