রাশিয়ার সবচেয়ে বড় টরেন্ট ট্র্যাকার বা সহজে বললে ইন্টার নেটের মাধ্যমে ফাইল দেওয়া নেওয়ার সাইট torrents.ru , যে সাইটের ব্যবহার করে লোকে, নানা রকমের গান, সিনেমা, ভিডিও ইত্যাদি সমেত ফাইল নিয়ে তা দেখত, তা রাশিয়ার অভিশংসক দপ্তরের (ছবি) সিদ্ধান্তে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. এই সাইটের বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হল কৃতিস্বত্ব বিষয়ে ও মাধ্যম স্বত্ব সম্বন্ধে আইন ভঙ্গ করার এবং বেআইনি বিষয় ইন্টারনেটে প্রচার করা. এই কারণে বিচারের ফল বেরোনো অবধি রু – সেন্টার কোম্পানী গ্রাহক দের এই সাইটে প্রবেশ নিষেধ করে দিয়েছে. এই ঘটনা রাশিয়ার রু ইন্টারনেট এলাকায় এই প্রথম, তাই এর জন্য সমাজে প্রচুর অনুরণন হয়েছে.

    অভিশংসক দপ্তরের উচ্চ পদস্থ কর্মী এলেনা দ্রেমোভা বলেছেন যে, এই সাইট একসাথে অনেকগুলি পাইরেটেড প্রোগ্রাম নিয়ে ফরিয়াদি মামলার কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. কিন্তু কে দেশের অভিশংসক দপ্তরে এই বিষয়ে আবেদন পত্র নিয়ে এসেছিল, তা কেউ জানে না. রুনেটে বর্তমানে সক্রিয় ভাবে আলোচনা করা হচ্ছে কার দরকারে এমন একটা কাজ করা হয়েছে তা নিয়ে. কেউ বলেছেন জানুয়ারী মাসে ইন্টারনেটে সিনেমা দেখানোর কোম্পানী ইকিনো – টি নামের কোম্পানীর স্বার্থেই এই কাজ করা হয়েছে. কোম্পানীর নেতৃত্ব তখন বলেছেন যে, তাঁরা রাশিয়ার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দেখবেন কারা কৃতিস্বত্ব এবং মাধ্যম স্বত্ব ভঙ্গ করছে. রেডিও রাশিয়া এই কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টর গ্লেব মার্কভ কে বিষয় টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেছেনঃ

    "আমাদের উদ্যোগের সঙ্গে সাইট বন্ধ করা জড়ানোর দরকার নেই. রু নেটে সমস্ত কিছুই আইন মত হওয়া উচিত, পাইরেটেড বিষয়ের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হলে প্রথমে সমস্ত বেআইনি কাজ বন্ধ করা দরকার, আমাদের কোম্পানী সমস্ত কৃতিস্বত্ব বজায় রেখে পয়সার বিনিময়ে বা বিনা পয়সায় সিনেমা দেখানোর ব্যবস্থা করেছে".

    টরেন্টস রু বন্ধ করে দেওয়ার ফলে পাইরেটেড বিষয়ে কোন তফাত হবে বলে ইন্টারনেট সার্ফিং মিডিয়া গ্রুপ বেঁচে থাকো র প্রধান আন্দ্রেই নাউমচিক মনে করেন না, তাঁর মতে যে সাইটে প্রতি মাসে তিন কোটি লোক ঢুকতো, সেই সাইট আইন সঙ্গত এবং বেআইনি সব ধরনের সাইটের মালিক দেরই বিরক্ত করছিল ভাল রকম. তিনি বলেছেনঃ

    "টরেন্টস রু বন্ধ করে কোন লাভ হবে না, কারণ বিশ্বে এই ধরনের সাইট আছে বহু হাজার এবং তারা এমন সমস্ত দেশে রয়েছে, যেখানে ইন্টারনেট কি তাই কেউ জানে না. তা ছাড়া যদি ট্র্যাকার সাইট গুলো বন্ধ করা হয়, তা হলে লোকেরা সোজা চুম্বক ঠিকানায় চলে যাবে, যাতে সোজা ব্যবহার কারীরা একে অপরকে বিনা ট্র্যাকার ব্যবহারেই খুঁজে পেতে পারে".

    তাঁর এই কথার সমর্থনে বলা যেতে পারে যে, টরেন্টস রু এর মধ্যেই বিদেশী ডোমেইন রু ট্র্যাকার. অরগ বলে এক সাইটে ঢুকে পড়েছে এবং তাদের কাজও করে যাচ্ছে আগের মতই. আন্দ্রেই নাউমচিক বলেছেন, এই বিষয়ে কিছু করতে হলে যারা বিনা পয়সায় সব পেতে চায়, তাদের সাথে যারা বিষয় বানায়, তাদের কোন একটা সহমতে আসতেই হবে. যেমন, ভাল লেগেছে, তাহলে দাম দাও অথবা বসে বিজ্ঞাপন দেখো. কিন্তু আইন সঙ্গত বিষয়ের জন্য দামও হওয়া উচিত মানবিক. যাতে সব ধরনের লোকই পকেট বুঝে ইন্টারনেটে বিনোদন খুঁজে নিতে পারে, তা না হলে ইন্টারনেটে পাইরেট আক্রমণ কোন দিনও বন্ধ করা যাবে না.