আন্তর্জাতিক পারমানবিক পরিষদের জেনেরাল ডিরেক্টর ইউকিও আমানো তাঁর যে রিপোর্ট পরিচালনা পরিষদকে পাঠিয়েছেন তাতে বলা হয়েছে যে, ইরান দেশের ইউরেনিয়াম শতকরা ১৯, ৮ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করতে পেরেছে.

    ইরান সংস্থাকে মাস স্পেকট্রোমেট্রি করার ফল দেখিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, এই বছরের নয় থেকে এগারোই ফেব্রুয়ারী নাতাঞ্জে শহরের পরীক্ষা মূলক রিয়্যাক্টরে এই ফল পাওয়া গিয়েছে.

    ইউকিও আমানো যে রিপোর্ট দিয়েছেন, তাতে বিশেষ করে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার বর্তমান অধিকারের মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে পারমানবিক শক্তি প্রয়োগের পরীক্ষা করার অধিকার নেই, তাই এই ক্ষেত্রে বিশেষ ক্ষমতা আরোপের প্রয়োজন আছে, তা না হলে ইরান তাঁর রকেট ব্যবস্থায় পারমানবিক অস্ত্র তৈরী করে লাগানোর প্রচেষ্টা করছে কি না, তা পরীক্ষা করে বলা সম্ভব হবে না. রিপোর্টে পরিস্কার করে রকেটে বহন যোগ্য পারমানবিক অস্ত্রের সম্ভাব্য নির্মাণের কথা বলা হয়েছে. এখানে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে, আগে সংস্থার রিপোর্টে এ রকম কোন কথা বলা হয় নি. বলা হয়েছিল যে, সামরিক ক্ষেত্রে পারমানবিক শক্তি প্রযোগের প্রচেষ্টা ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে এমন কোন স্পষ্ট প্রমাণ নেই.

    সুতরাং ইরানের প্রশাসনের নিজেরাই পারমানবিক জ্বালানী সমৃদ্ধ করার প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত, ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্বন্ধে সন্দেহের অবকাশ তৈরী করেছে. আর তা আরও প্রকট করেছে ইরান আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত সেই দেশের ইউরেনিয়ামের বদলে কুড়ি শতাংশ সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম জ্বালানী বদলের শর্ত প্রত্যাখ্যান করাতে. এই ইউরেনিয়াম দেওয়ার কথা হয়েছিল তেহরানে মেডিক্যাল আইসোটোপ বানানোর জন্য.

    বোঝাই যাচ্ছে এই ধরনের ঘটনার পরম্পরা নিজেদের পছন্দ মত ব্যবহার করতে সেই সমস্ত দেশ দেরী করে নি, যারা আগে থেকেই ইরানের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করে আসছে এবং তাদের পারমানবিক পরিকল্পনার প্রতিও. মার্কিন প্রশাসনের সরকারি প্রতিনিধি ফিলিপ ক্রউলি এর মধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী যে সমস্ত সিদ্ধান্ত রয়েছে তা মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টনের মূল্যায়নের সঙ্গে মেলে. একই সঙ্গে বলা হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে অন্যান্য দেশের সঙ্গে একসাথে ইরানের বিরুদ্ধে আরও নিষেধাজ্ঞা জারী করার চেষ্টা করছে.

    রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইরানের প্রতি সম্পর্ক গত কিছু সময় পর্যন্ত খুবই ভারসাম্য রেখে করা হয়েছিল, এই বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রাচ্য দপ্তরের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিন মন্তব্য করে বলেছেনঃ

    আমরা এক দিকে শতকরা কুড়ি শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার খবরে উদ্বিগ্ন, আবার অন্য দিকে আমরা চাই যে, ইরান যেন বিশ্ব সমাজের একটি দেশ হয়েই থাকে. আমরা সমস্ত শক্তি দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধতা বন্ধ করার চেষ্টা করছি যাতে তারা বিশ্বের সমাজ বহির্ভূত দেশে পরিণত না হয়. পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণের আওতার বাইরে যাতে চলে না যায়. আর তারপর আমরা এই ধারণা থেকে কাজ করছি যে ইরান তো আগে পারমানবিক অস্ত্র প্রসার বন্ধের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল.

    একটাই পরিস্কার. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার শীর্ষ দের আগামী অধিবেশনে, যা ১ লা মার্চ শুরু হতে চলেছে, সেখানে এই বিষয়ে একে অপরের মতামত শুনবে. তেহরান কে সেখানে তাদের কাজের ব্যাখ্যা দিতেই হবে.

(sound)