আফগানিস্থানের তালিবান দলের নেতাদের ক্রম তালিকার দ্বিতীয় লোক মুল্লা আবদুল ঘানি বারাদার কে গ্রেপ্তারের খবর প্রথমে ইসলামাবাদ তারপর ওয়াশিংটন সমর্থন করেছে. হোয়াইট হাউসের সরকারি প্রতিনিধি রবার্ট গিবস বলেছেন মুল্লা বারাদার কে ধরতে পারা পাকিস্থান এবং মার্কিন বিশেষ নিরাপত্তা সংস্থা গুলির সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত.

    সত্যি কি এটি সাফল্যের কথা? এই প্রশ্ন নিয়ে আমরা রেডিও রাশিয়ার তরফ থেকে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভের কাছে তাঁর মন্তব্য চেয়ে ছিলাম. তিনি বলেছেনঃ

    "আমি মনে করি, তেহরিক ও তালিবান, পাকিস্থান সন্ত্রাসবাদী দলের কয়েকজন নেতাকে ওয়াশিংটনের চাপে পড়ে ধরা হচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদের কাছ থেকে আরও সক্রিয় ভাবে তালিবান আন্দোলনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী কাজের দাবী করেছে, বিশেষত পাকিস্থানের এলাকার মধ্যে যারা আছে, তাদের ধরা নিয়ে. আর তাই আমার মনে হয়েছে যে, বর্তমানের এই অপারেশন স্রেফ একটা লোক দেখানো ব্যাপার. কারণ আগে উত্তর ওয়াজিরস্থানে সন্ত্রাস বিরোধী কাজকর্মের কথা ইসলামাবাদ কখনো ভাবে নি".

    আমেরিকার সামরিক বাহিনীর লোকেরা তালিব নেতাদের ধ্বংস করার কাজকে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ বলে মনে করেছে. জানা আছে যে, তালিব নেতাদের ধরার জন্য আমেরিকার গুপ্তচর বাহিনী বহু দিন ধরেই কাজ করছে. গত বছরের মে মাসে পাকিস্থানের দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানে আমেরিকার পাইলট বিহীণ বোমারু বিমানের আঘাতে পাকিস্থানের তালিব দের নেতা বেইতুল্লা মেহসুদের মৃত্যু হয়েছিল, তার পরে ক্ষমতায় তাকা হাকিমুল্লা মেহসুদ ও মরে ছিল একই রকম ভাবে. ইসলামাবাদ এই ধরনের অপরাধী নিরপরাধী নির্বিশেষে হত্যা করার জন্য আক্রমণের বিরুদ্ধে যতই সরব হোক না কেন, তা চলেই আসছে.

    "ইসলামাবাদের নিজেদের সামরিক শক্তি প্রয়োগের একটি ধারণা আছে, সন্ত্রাসবাদী দল তেহরিক এ তালিবান, পাকিস্থান এই দেশে এত বেশী ছড়িয়ে আছে যে, সাময়িক কোন সামরিক শক্তি প্রয়োগে তা ধ্বংস করা সম্ভব হবে না, অথবা সন্ত্রাসবাদ ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে বলা যাবে না. এর জন্য অন্য পথ দেখতে হবে".

    তা স্বত্ত্বেও পাকিস্থান আমেরিকার সামরিক বাহিনীর সাথে তালিব নেতাদের গ্রেপ্তার করা ও ধ্বংস করার জন্য অপারেশন করেই চলেছে. আজ যেমন পাকিস্থান থেকে খবর এসেছে যে, আরও একজন পাকিস্থানের প্রভাব শালী তালিব নেতা আবু ওয়াকাস (ছবি) ধরা পড়েছে.

    "আমার মনে হয়েছে পাকিস্থান সত্যি নিজে থেকে উদ্যোগী না হয়েও এই ধরনের অপারেশনে সঙ্গ দিয়েছে. ইসলামাবাদে বুঝতে পারে যে, আন্তর্জাতিক সাহায্য বিশেষত মার্কিন সাহায্য, যা আজ তারা পাকিস্থানে পাচ্ছে, তা শুধু মাত্র সেই ক্ষেত্রেই দেওয়া হবে, যদি তারা মার্কিন সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে এক সাথে যায়. যখন মার্কিন বাহিনী পাশের দেশ আফগানিস্থানে বিশাল যুদ্ধের আয়োজন করেছে, ঠিক তখনই এই সব নেতারা ধরা পড়তে আরম্ভ করেছে, এই ঘটনা খানিকটা সাজানো বলেই মনে হয়েছে. এখানে পাকিস্থান সরকারের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে কিছু একটা পূর্ব পরিকল্পনার কথাই মনে পড়িয়ে দেয়. কিন্তু শুধু সৈন্য দিয়ে তালিবদের জয় বোধ হয় করা যাবে না".