এশিয়াতে বর্তমানে রাশিয়া এক অন্যতম অস্ত্র রপ্তানী কারক দেশ হিসাবে রয়েছে. এই ঘটনার প্রমাণ মিলেছে বর্তমানে ভারতের নয়া দিল্লীর পদাতিক ও নৌবাহিনীর জন্য প্রদর্শনী "ডিফেক্সপো – ২০১০" তে সম্পূর্ণ হওয়া অন্যান্য দেশের সহকর্মীদের সাথে আলোচনা ও চুক্তির পরিমানে.

    রাশিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতা "রসআবারোনএক্সপোর্ট" কোম্পানীর প্রতিনিধি ভিক্তর কমার্দিন "রেডিও রাশিয়ার" সঙ্গে সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, ভারত রাশিয়া থেকে আরও এক দল ফাইটার প্লেন "সু – ৩০ এম কা ই" কিনতে চেয়েছে. দিল্লীর প্রদর্শনীতে আরও জানানো হয়েছে যে, ফেব্রুয়ারী মার্চ মাসে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এক দল নৌবাহিনীর জন্য জাহাজে ওঠা নামা করতে পারে এমন "মিগ – ২৯ কা" বিমান কেনার জন্য চুক্তি হবে.

    ভারত ও রাশিয়ার এই ক্ষেত্রে সহযোগিতা গত কয়েক দশক ধরেই চলছে এবং কিছু দিন আগের "অ্যাডমিরাল গর্শকভ" জাহাজের বেচা কেনা নিয়ে সামান্য সমস্যা স্বত্ত্বেও দুই দেশের সহযোগিতার ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল বলে মনে করা যেতে পারে. রাশিয়ার "সামরিক অস্ত্রের রপ্তানী" নামের মাসিক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক দিমিত্রি ভাসিলিয়েভ বলেছেনঃ

    "এই সহযোগিতার ভিত্তি বায়ু সেনা সংক্রান্ত বিষয়. এখানে অনেকগুলি বিশাল চুক্তি রয়েছে, বর্তমানে ভারতে "সু – ৩০ এম কা ই" বিমান জোড়া লাগানোর বিষয়ে চুক্তির কাজ হচ্ছে, ২০১২ সালে তা শেষ হবে আর ২০১৪ সালে জোড়া লাগানো শুরু হবে. এই চুক্তির অর্থের পরিমান প্রায় ৩, ৫ বিলিয়ন ডলার. ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ১, ৩ বিলিয়ন ডলারে ৮০ টি "মি – ১৭" হেলিকপ্টার কিনছে, এটাকেও বড় চুক্তি বলা যেতে পারে. পদাতিক বাহিনীর জন্য প্রযুক্তির মধ্যে এক সঙ্গে অগ্নি বৃষ্টি করার ব্যবস্থা "ঘূর্ণি ঝড়" নামের অস্ত্র বিক্রীর চুক্তি হয়েছে, যা বর্তমানের চুক্তি পত্রে সমর্থন করেছে".

দিল্লীর প্রদর্শনী তে আবারও বলা হয়েছে যে, রাশিয়া ভারতে বর্তমানে আয়োজিত হাল্কা ফাইটার প্লেনের জন্য টেন্ডারে জয়ী হতেই পারে. এই টেন্ডারে রাশিয়া ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, সুইডেন ও ইউরোপীয় সংস্থা "ই এ ডি এস" অংশ নিয়েছে. রাশিয়ার বহুমাত্রিক ফাইটার প্লেন "মিগ – ৩৫" এর এই টেন্ডারে জয়ের সম্ভাবনা সম্বন্ধে বহু বিশেষজ্ঞ তাঁদের ইতিবাচক মত দিয়েছেন. এই টেন্ডারের অর্থ পরিমান ১১ বিলিয়ন ডলার.

ভারত ছাড়া রাশিয়া বর্তমানে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া, উত্তর আফ্রিকা, নিকট প্রাচ্যের বহু দেশের সাথেই সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার উন্নতি করেছে. এই সব দেশের মধ্যে মুখ্য যারা, তারা হল আলজিরিয়া, চীন, ভেনেজুয়েলা, মালয়েশিয়া, সিরিয়া. প্রায় অর্ধেক রপ্তানীই বায়ু সেনার জন্য হয়ে থাকে. কিন্তু বিশেষজ্ঞ দের মতে রাশিয়া আগামী কয়েক বছরে নৌ বাহিনী জন্য প্রযুক্তি রপ্তানীর বৃদ্ধি করবে. তুর্কমেনিয়া ও ভিয়েতনাম কে রাশিয়ার "রসআবারোনএক্সপোর্ট" এর মধ্যেই স্পীড বোট "সোবল" এবং "গেপার্ড" ধরনের ফ্রিগেট রপ্তানী করার জন্য চুক্তি করেছে. গত বছরেই ভিয়েতনামকে চারটি ডুবোজাহাজ বিক্রী করার চুক্তি করা হয়েছে রেকর্ড পরিমান অর্থের বিনিময়ে, প্রায় চার বিলিয়ন ডলার. দিল্লীর প্রদর্শনীতে আবারও প্রমাণিত হয়েছে যে, এই দেশ ও ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ভবিষ্যত খুবই উজ্জ্বল.

সেখানেই ঘোষিত হয়েছে বহু বিশেষজ্ঞের ভাষায় এক চাঞ্চল্যকর সংবাদ. রাশিয়ার বিশ্ব বিখ্যাত আকাশ পথে আক্রমণ নিরোধ ব্যবস্থা উত্পাদক "আলমাজ আন্তেই" সংস্থার কর্ণধারের প্রতিনিধি বলেছেন যে, একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি দেশ শুধুমাত্র রাশিয়ার রকেট ও বিমান বিরোধী ব্যবস্থা "এস – ৩০০", "এস – ৪০০" "বুক" এবং "তোর" ব্যবহার করে তাদের দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষার কাজ করতে চেয়েছে.