২০১০ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী রাশিয়ার একটি অন্যতম সম্মানিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছরের জয়ন্তী পালিত হয়েছে. এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বের প্রায় ১৪০টি দেশের বেশী দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা নানা বিষয়ে পড়াশোনা করতে পারেন. বিশ্বের সমস্ত কোন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিলেন আগে উত্তীর্ণ হওয়া ছাত্রছাত্রীরা. এই সময়ে প্রচুর দেখা শোনা হয়েছে, কেমন লাগছে তা বলা হয়েছে, স্মৃতি কথা শোনা হয়েছে. এই দিনের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর, রাশিয়া ও বিদেশের বহু পুরনো ছাত্রছাত্রী এবং পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন বহু প্রফেসর এবং শিক্ষকেরা. গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় – এটি শুধুমাত্র শিক্ষা লাভের জায়গা নয়, এর ঐতিহ্য বহু জাতিক, সংস্কৃতি বিভিন্ন ধারার, ভাষা বহু, বিভিন্ন দেশের সঙ্গীত, কৌতুক ও ভাল করার ইচ্ছা এখানে জড়িয়ে রয়েছে.

    পাঁচ দশক কেটেছে তারপর থেকে যখন ১৯৬০ সালের ৫ই ফেব্রুয়ারী মস্কোতে সোভিয়েত দেশের সরকারের সিদ্ধান্তে এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল. এই সময়ে এশিয়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বহু দেশ বিদেশী কলোনীর থেকে স্বাধীন হয়েছিল এবং তাদের প্রয়োজন ছিল বিভিন্ন বিষয়ে বহু বিশেষজ্ঞের. এই কাজে সাহায্যের জন্য প্রয়োজন পড়েছিল এক আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের.

    রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে এখানে লোকে রুদেএন বলে চেনে. তা এক বিরল বিশ্ববিদ্যালয়, এর দুনিয়াতে কোন সমকক্ষ নেই. একে সত্যিই ছাত্রদের মক্কা নামে ডাকার কারণ আছে, ১৪১ দেশের লোক এখানে পড়ে. আজকের রুদেএন রাশিয়ার সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলির মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে, ৫০ বছরে এখান থেকে পাশ করে বেরিয়েছেন প্রায় ৭০ হাজার ছাত্রছাত্রী, যারা বিশ্বের ১৭০টি দেশে কাজ করছেন. আজকের বিশ্ববিদ্যালয় ও তার বিভিন্ন প্রশাখা মিলিয়ে প্রায় ২৭ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছেন. এই বছরে মস্কোতে সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের সব জায়গা থেকেই পুরনো ছাত্রছাত্রীরা এসেছেন, তাঁরা নিজেদের মধ্যে দেখা সাক্ষাত করেছেন, বহু গোল টেবিল বৈঠক হয়েছে, সম্মেলন হয়েছে, সেমিনার, খেলাধূলা, বেড়ানো কিছুই বাদ যায় নি. রাশিয়ার ক্রেমলিনের সম্মেলনের মঞ্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়ন্তীর অনুষ্ঠান হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের নাচ গানের দল অংশ নিয়েছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশ্ববিদ্যালয়কে তাঁর শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন.

    জয়ন্তী দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অনুষ্ঠান হয়েছে, যেখানে এই নিয়ে একটি তথ্য চিত্র দেখানো হয়েছে, যাতে প্রথম দিন থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস আছে.

    "যত দূরেই তারা চলে যাক না কেন, তাদের হৃদয়ে সব সময়েই সেই সব লোকেদের জন্য কৃতজ্ঞতা থেকে যাবে, যাঁরা তাদের শিখিয়েছিল. মস্কোতে কাটানো সেই সব দিন মনে পড়বেই. প্রিয় বন্ধুরা আপনাদের যাত্রা শুভ হোক! সুখ ও সাফল্যে মণ্ডিত হোক আপনাদের জীবন"!

    এই তথ্য চিত্র দেখানোর পর রুদেএন এর মঞ্চে রাশিয়া ও বিদেশের বিখ্যাত প্রাক্তন ছাত্র ছাত্রীরা যারা আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করছেন, তারা বক্তব্য রেখেছিলেন. প্রফেসর ও শিক্ষকদের পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল. বর্তমানের রেক্টর, রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর শিক্ষা বিষয়ে একাডেমিক ও এক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ভ্লাদিমির ফিলিপভ বক্তৃতা দিয়েছিলেন. এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র দের মধ্যে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীরা, রাজদূত, বড় কোম্পানীর প্রধান, কূটনীতিবিদ ও বিজ্ঞানীরা রয়েছেন. রুদেএন এর বিরাট হল গুলিতে জয়ন্তী দিবসে আমরা তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছিলাম. চলুন প্রশ্ন করা যাক, তাঁদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা কি রকম করে মনে পড়েছে?

 (সাক্ষাত্কার)

         রুদেএন এর ছাত্র জীবন – এটা শুধু পড়াশোনা আর পরীক্ষা দেওয়াই নয়. এখানে ছাত্রছাত্রীরা সক্রিয় ভাবে খেলাধূলা, নানারকমের গান নাচ শেখার দলে যোগ দিতে পারে. বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌতুক ও প্রত্যুতপন্নমতিত্বের অধিকারী দের ক্লাবের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়া কেভেএন এর দল আজ গর্বের বিষয়, যারা বহু রকমের পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে. এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাদুঘর রয়েছে, আর আছে এক শীতের বাগান, যেখানে গাছপালা এনে দিয়েছে বিশ্বের নানা দেশ থেকে ছাত্রছাত্রীরা. এক কথায় রুদেএন – গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, এ শুধু জ্ঞান অর্জনের জায়গা নয়, এখানে বহু ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভাষা, গণ সঙ্গীত, কৌতুক ও ভাল করার ইচ্ছা একসাথে এক ধারায় মিলেছে.  (

0video

)