আমেরিকার পেন্টাগনের সামরিক বাহিনী একটা লোহার প্ল্যাটফর্ম বানানোর বরাত দিয়েছে, যেটা শুধু গড়িয়ে যাবে না, হেঁটে চলে বেড়াবে এমন কি দৌড়তেও পারবে. ওরা এটা চাইছে, সে সব জায়গার জন্য যেখানে গাড়ীতে যাওয়া যায় না. সাংবাদিকেরা ইতিমধ্যেই এটার নাম দিয়েছে "লোহার গাধা". গাধা তৈরীর বরাত এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে, যখন পেন্টাগনে আগামী চার বছরের জন্য সামরিক বাহিনীর নীতি তৈরী করার কাজ চলছে. প্রাচ্য বিশারদ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি বলেছেনঃ

    "আমেরিকার প্রশাসনের মাথায় ঢুকেছে যে, তাদের পুরনো পরিকল্পনাতে আর কাজ হচ্ছে না, আফগানিস্থানের যুদ্ধে এটা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে. যুদ্ধের চরিত্র পাল্টে গেছে, যে যুদ্ধে তারা মেতেছে সেখানে সৈন্যবাহিনীর পুরো রূপ বদলাতে হবে, তাদের পাইলট বিহীণ উড়ো জাহাজ আর হাঁটতে পারে এমন প্ল্যাটফর্ম রোবট দিতে হবে".

    কিন্তু পাকিস্থানে ও আফগানিস্থানে মার্কিন পাইলট বিহীণ উড়ো জাহাজ তো পুরো দমে ব্যবহার করা হচ্ছে, ইরাকের যুদ্ধ তাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে. বলা কি যায়, যে নতুন মার্কিন স্ট্র্যাটেজি ততটা নতুন কি না?

    "নূতনত্ব দেখা যাচ্ছে, কিন্তু লক্ষ্য সব পুরনো. পেন্টাগন মনে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রধান বিপদ আসবে প্রাকৃতিক সম্পদের বাটোয়ারা নিয়ে. আর তার মানে হল, ওদের মনোযোগ আগের মতই নিকট ও মধ্য প্রাচ্যে নিবদ্ধ থাকবে. এখানে ওরা ইতিমধ্যেই দুটি যুদ্ধ করছে. মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের পরিষদ প্রধান অ্যাডমিরাল মাল্লেন ঘোষণা করেছেন, যদি রাষ্ট্রপতি সিদ্ধান্ত নেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে, তাহলে আমরা তৈরী থাকব".

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইরানের প্রতিবেশী দেশ গুলিতে ও পারস্য সাগর অঞ্চলে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা দ্রুত বসানোর ব্যাপারে তোড়জোড় চলছে বলে ঘোষণা করা হয়েছে. ইরানের রকেট থেকে প্রতিরক্ষার নামে এটা করা হচ্ছে. ইরান কি তাহলে নিজেদের রকেট পরীক্ষা করে এই ব্যাপারে আরও উস্কে দিচ্ছে?

    নাদেইন রায়েভস্কি বলেছেনঃ "ইরান এখন কোন রকম রকেট আক্রমণের জন্য মনে হয় না যে, তৈরী আছে. তাদের প্রতিবেশী দেশ দখল করার কোন ইচ্ছা আছে বলে তো মনে হয় না. তাদের সঙ্গে সমস্যা আছে, কিন্তু পক্ষ গুলির শান্তির পথে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করার ইচ্ছাও আছে. ইরানের রকেট আক্রমণ অনিবার্য বলে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভয় দেখিয়ে প্রতিবেশী দেশ গুলিকে বাধ্য করছে আমেরিকার কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে. ওয়াশিংটন নিজের স্বার্থে এই প্রাকৃতিক সম্পদে পরিপূর্ণ অঞ্চলে নিজেরাই সঙ্কট তৈরী করছে. বলা যেতে পারে যে, পেন্টাগনের ভবিষ্যত বাণী করা সম্পদের জন্য যুদ্ধ এখন চলছে, সত্য যে, এখনও ঠাণ্ডা যুদ্ধ".