রাশিয়ার বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী ও সমাজ কল্যাণ কর্মী দিমিত্রি ইভানোভিচ মেন্ডেলেয়েভ ৮ই ফেব্রুয়ারী ১৮৩৪ সালে তবোলস্ক শহরে জন্মেছিলেন. তাঁর মৃত্যু হয়েছিল সেন্ট পিটার্সবার্গে ২রা ফেব্রুয়ারী ১৯০৭ সালে. দিমিত্রি ছিলেন তাঁদের পরিবারে শেষ ও ১৭ তম সন্তান, তাঁর আট ভাই বোন শিশু বয়সে মারা যান. ১৫ বছর বয়সে তিনি জিমন্যাসিয়াম এ পড়াশোনা শেষ করেছিলেন. তাঁর পিতা ইভান পেত্রোভিচ এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন.    ১৮৫০ সালে ষোল বছরের দিমিত্রি মস্কোর প্রধান শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছিলেন, যেখানে তাঁর পিতাও এক সময়ে ছাত্র ছিলেন. ২১ বছর বয়সে তিনি এই ইনস্টিটিউট শেষ করার পরীক্ষায় দারুণ ভাল ফল করেছিলেন ও তাঁর মাস্টার্স ডিগ্রীর থিসিস কে পি এইচ ডি থিসিস বলে স্বীকার করা হয়.    ১৮৫৬ সালে মেন্ডেলেয়েভ পিটার্সবার্গের বিশ্ববিদ্যালয়ে রীডার পদে যোগ দেন. ১৮৫৭ থেকে ১৮৬১ সালে তিনি ফ্রান্স ও জার্মানীর নানা জায়গায় উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন.    ১৮৬৩ সালে তাঁর লেখা পাঠ্য বই জৈব রসায়ন নামে প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরস্কৃত হয়. ১৮৬৫ সালে ডক্টরেট থিসিস প্রকাশ করে তিনি পিটার্সবার্গের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের পদে আসীন হন. মেন্ডেলেয়েভ অন্যান্য জায়গাতেও পড়িয়েছেন.    ১৮৬৯ সালে মেন্ডেলেয়েভ তাঁর বিখ্যাত রাসায়নিক মৌলের সারণী প্রকাশ করেন, যা শুধুমাত্র উনবিংশ শতকের রসায়নে একটি বৃহত্তম ঘটনাই শুধু ছিল না বরং বলা যেতে পারে যে, বিগত সহস্র ছরে মানুষের চিন্তার উত্কর্ষের প্রমাণ হিসাবে এটি অনন্য.

    ১৯০৭ সালের ২রা ফেব্রুয়ারী মেন্ডেলেয়েভ ফুসফুসের সংক্রমণে মারা যান. তাঁর নামে মৌল সারণীতে ১০১ নম্বর মৌলের নাম দেওয়া হয়েছে মেন্ডেলেয়েভি.