ম্যুনিখ শহরে জড় হতে যাওয়া বিশ্ব রাজনীতির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বের সামনে ইউরো অতলান্তিক নিরাপত্তার কাঠামোকে এক সার্বজনীন মেনে নেওয়ার মত বিষয়ে পরিণত করবার জন্য কাজ রয়েছে. ৫ থেকে ৭ই ফেব্রুয়ারী জার্মানীর বাভারিয়া প্রদেশের রাজধানীতে এই কাজের জন্য এক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে আজ অবধি সমস্ত সম্মেলনের চেয়েও বেশী রাজনীতিবিদ, বিশেষজ্ঞ এবং কূটনীতিবিদেরা হাজির হবেন.

    বর্তমানের ৪৬ তম নিরাপত্তা সম্মেলনের প্রধান আয়োজক ও জার্মান কূটনীতিবিদ ভোলফগাঙ্গ ইশিঙ্গার বলেছেন যে স্লোগান হবে, "২০১০ সালে আর দেরী না করে কাজ করতে হবে, কোন গা বাঁচানো কথা চলবে না". এই ভাবে আয়োজকেরা বিশ্বের বৃহত্তম দেশ গুলির নেতাদের বুঝতে বাধ্য করবেন যে, এবারে কথা থেকে কাজে পৌঁছতে হবে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই সম্মেলনে নেতৃত্ব করতে চলেছেন উপ প্রধানমন্ত্রী সের্গেই ইভানভ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. রাশিয়ার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক ও ইউরোপীয় নিরাপত্তার বিষয়ে বক্তৃতা দেবেন লাভরভ. আশা করা হয়েছে যে, ম্যুনিখ শহরে রাশিয়ার প্রস্তাবিত ইউরোপীয় নিরাপত্তা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে. ভোলফগাঙ্গ ইশিঙ্গার বলেছেন যে, এই উদ্যোগ রাশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যে নতুন ধরনের সম্পর্কে অনুঘটকের কাজ করবে. দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রস্তাবে নতুন বিপদের মোকাবিলা করার সুবিধা হবে ও ঠাণ্ডা যুদ্ধের উত্তরাধিকার থেকে অবশেষে রেহাই পাওয়া যাবে বলে মনে করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইন্স্টীট্যুটের বিশেষজ্ঞ নাদেঝদা আরবাতোভা. তিনি বলেছেনঃ

    "আমার মতে এই প্রস্তাবে সমস্ত ইউরো অতলান্তিক দেশগুলিকে সেই কাজ করতে আহ্বান করা হয়েছে, যা ঠাণ্ডা যুদ্ধের শেষে করা হয়ে ওঠে নি. পূর্ব্ব ইউরোপ যে ভেঙে পড়েছে, আর পশ্চিম যেমন ছিল তেমনই আছে এই ঘটনা ন্যাটো জোটের দেশ গুলিতে এক ভ্রান্তি তৈরী করেছে যে, কিছুই বদলানোর প্রয়োজন নেই, সব কিছুই ঠিক আছে. যদিও বিশ্ব পাল্টে গিয়েছে, তাই সময় এসেছে পুরনো ফেলে রাখা কাজ শেষ করার".

    একই সঙ্গে আমরা পুরনো জোট ভেঙে নতুন সংস্থা গড়তে আহ্বান করছি না, কিন্তু তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, তাহলে কি করে নিরাপত্তার নতুন কাঠামো তৈরী করা সম্ভব হবে? এপ্রসঙ্গে আরবাতোভা বলেছেনঃ

"উচিত্ হবে হেলসিংকি অ্যাক্টের দশটি মূল্যবোধ কে আবার নতুন করে পর্যালোচনা করে দেখে বোঝা যে, কি আজকের দিনে চলতে পারে আর কোনটা বর্জন করতে হবে. আমার মতে ইউরোপের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য চারটি দিক রয়েছে. এটি যে কোন দেশের জন্যই জ্বালানী শক্তি, মানবিক সম্পদ, আভ্যন্তরীন ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষার প্রশ্ন. আর সমস্ত ইন্স্টীট্যুটের জন্যই জায়গা রাখতে হবে".

    রাশিয়ার স্বার্থ অবহেলা করে ইউরোপের আভ্যন্তরীন নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব হবে না, ককেশাসের সমস্যা এই বিষয়ে প্রমাণ দিয়েছে, এখানে অন্যতম বেরোনোর পথ হল ইউরোপীয় সংঘের রাশিয়া ও প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের সমস্ত দেশের সঙ্গে সহযোগিতা. এ ছাড়া আরও একটা বিষয় রয়েছে, যা থেকে ইউরোপে বুঝতে পেরেছে যে, রাশিয়ার প্রস্তাবের ফলে ইউরোপীয় সংঘ, ন্যাটো জোট, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সবার পক্ষেই পারমানবিক নিরস্ত্রীকরণ, জলদস্যূ দের মোকাবিলা ও আফগানিস্থানের সমস্যার মোকাবিলা করা সহজে সম্ভব হবে.