বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি মহিউদ্দিন আহমেদ ও বজলুল হুদা, সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান এবং এ কে এম মহিউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে. বুধবার গভীর রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এই ফাঁসি কার্যকর হয়. তবে ফাঁসির ৭ আসামী এখনো পলাতক রয়েছে.

১৯৭৫-এর ১৫ই আগষ্ট কাল রাতে ঘাতকরা সপরিবারে হত্যা করেছিল স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে. বর্তমানে ষাট বছরের উপর বয়সী এরা হলেন, কর্নেল ফারুক রহমান, মেজর বজলুল হুদা, মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন, আহমেদ আর্টিলারি, মহিউদ্দিন ল্যান্সার ও সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান. এদিকে ফাঁসি নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের চারদিকে মোতায়েন ছিল র‌্যাব-পুলিশ সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কারী বাহিনীর বহু সদস্য ও নিরাপত্তা কর্মীদের সজাগ দৃষ্টি ছিল পথচারী সহ সবার দিকেই. মৃত্যু দণ্ড প্রাপ্ত ৭ জন আসামী এখনও পলাতক৷ এরা হচ্ছেন খোন্দকার আব্দুর রশিদ, নূর চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, রিসালদার মুসলেহ উদ্দিন, ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ, রাশেদ চৌধুরি এবং আবুল হাশেম মৃধা. তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য ইন্টারপোলের পরোয়ানা রয়েছে. এক সময় বিচার চেয়ে লাঞ্ছিত হতে হলেও ১৯৯৬ এ আওয়ামী লীগ শাসন আমলে বঙ্গবন্ধুর ২০ খুনিকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন বঙ্গবন্ধুর আবাসিক সহকারী মুহিতুল ইসলাম৷ এরপর মামলা চলে প্রায় ১৩ বছর. ১৯৯৮ সালে বিচার আদালত ১৫ জনকে মৃত্যু দণ্ড দিলেও হাইকোর্ট ১২ জনের মৃত্যু দণ্ড বহাল রাখে৷ এর মধ্যে কারাগারে আটক পাঁচ আসামী আপিল করেন ওই রায়ের বিরুদ্ধে৷ আপিল খারিজ হলে তারা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন৷ তাদের এই আবেদনও বুধবার খারিজ করে দেয় আদালত৷ তাদের ৪ জন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষাও চান৷ সে আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে৷ আবেদন খারিজ হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যে তাদের ফাঁসি কার্যকর হল৷

১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে বর্তমানের দিন পর্যন্ত এই দেশে প্রায় কুড়িটি প্রশাসন ফেলে দেওয়ার জন্য সশস্ত্র গৃহযুদ্ধ হয়েছে, তাই ঢাকা শহরে আশা করা হয়েছে এই ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর ভবিষ্যতে সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে প্রশাসন উল্টানোর প্রচেষ্টা বন্ধ হবে. উচ্চপদস্থ সরকারী উকীল আনিসুল হক তাত্ক্ষনিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে  বলেছেন যে, ফাঁসি কার্যকর করার মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্ক মুক্ত হল. এদিকে নাশকতার আশংকায় সারা দেশের আইন -শৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্ব্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে.