রাশিয়া ও ন্যাটো জোট সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আবার শুরু করার বিষয়ে একমত হয়েছে. দক্ষিণ অসেতিয়াতে সশস্ত্র সংঘর্ষের পর এই প্রথম ব্রাসেলসে সামরিক বাহিনীর অধিনায়কদের মধ্যে আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার পর সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার আলোচনা অবশেষে শুরু হয়েছে ও ন্যাটো রাশিয়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করা চালু হয়েছে. ২০০৮ সালের আগষ্ট মাসে জর্জ্জিয়ার আগ্রাসনকে রাশিয়ার কঠোর জবাবের জন্য ওয়াশিংটন ও ব্রাসেলসের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে আলোচনা থেমে গিয়েছিল. রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশটির প্রতিরক্ষায় না ছোড় অবস্থান পশ্চিমে নেতিবাচক মনোভাবের ঝড় তুলেছিল. যখন এই বিষয়টি নিয়ে মোহের ঘোর ভঙ্গ হয়েছে এবং দক্ষিণ অসেতিয়া ও আবখাজিয়াকে স্বাধীন দেশ হিসাবে স্বীকার করার কথা বাস্তবে পরিণত হয়েছে, তখন দুই পক্ষই আবার আলোচনাতে বসেছে. রাজনৈতিক ও সামরিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার শারাভিন এই প্রসঙ্গে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেনঃ

    আশা করছি ন্যাটো জোট ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা আবার পুরো দমে শুরু হবে. এমনকি তা করতে গিয়ে যত রকমের বাঁধা ধরা মত বা বাধাই উপস্থিত হোক না কেন. আমাদের মধ্যে কোন মূল গত বিবাদ নেই, বরং সম্মিলিত স্বার্থ রয়েছে. আমাদের মধ্যে কোন রকমের সামরিক সংঘর্ষ হলে তা পারমানবিক স্তরে পৌঁছতে পারে. আর এটা বুদ্ধি বিবেচনা বহির্ভূত কাজ. রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের নেতারা এটা ভালই বোঝেন.

    খুবই সময় বুঝে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব পরিষদের প্রধান নিকোলাই মাকারভ ও তাঁর পশ্চিমের সহকর্মীদের সাক্ষাত্কারের সময় বাছা হয়েছে. গত দেড় বছর ধরে আলোচনার যোগ্য বিষয় অনেক জমেছে. এদের মধ্যে মুখ্য হল আফগানিস্থানের পরিস্থিতি ও বর্তমানের ইরাকের হাল, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, মাদক পাচার বন্ধ করা, রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে সমস্যা ইত্যাদি. এই বার আফগানিস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে মূল আলোচনা হয়েছে. এই রাজনৈতিক ও দলাদলির বিবাদে জীর্ণ দেশ আন্তর্জাতিক বিশাল সাহায্যের দিকে হাত পেতে আছে. রাশিয়া সে দেশে অনেক কল কারখানা আবার চালু করতে তৈরী আছে, কিন্তু মূল সমস্যা হল ন্যাটো জোটের সৈন্যরা এই দেশে অনুপ্রবেশ করার পর থেকেই রাশিয়াতে এই দেশ থেকে পাচার করা মাদক দ্রব্যের ঢল লেগেছে. ন্যাটো জোট যাই বলুক সেখানে মাদক বিষ উত্পাদনের পরিমান বহু গুনে বেড়েছে.

    রাশিয়ার ভৌগলিক রাজনীতি অ্যাকাডেমীর উপ প্রধান ও বিখ্যাত সামরিক বিশেষজ্ঞ লিওনিদ ইভাশভ মনে করেন যে, রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের সম্পর্ক আজকের দিনে একেবারে নির্মেঘ বলা যায় না, তিনি বলছেনঃ

    আমি অন্ততঃ এখনই ন্যাটো জোট ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা যে পুরো দমে হচ্ছে তা বলতে পারি না. আপাততঃ আবার নকল ভাব ভঙ্গী দেখা যাবে, এই সহযোগিতার উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের এখনও কোন ঠিক নেই. বেশী করে বললে বলা যেতে পারে যে, ন্যাটো জোটের মহাসচিব তো ঘোষণা করেই দিয়েছেন যে, ন্যাটো জোট রাশিয়াকে কোন ছাড় দেবে না. বর্তমানে এই জোটের গভীর রদবদল হচ্ছে, যার ফলে এক বিশ্ব জোড়া সামরিক শক্তি শালী দানব তৈরী হতে পারে, যার লক্ষ্য হবে এক মেরুর বিশ্ব নির্মাণ. এখনই এই সংস্থা ইউরোপে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা বসানোর সম্বন্ধে রাশিয়ার উদ্বেগকে আমল দিচ্ছে না, বরং সমগ্র ইউরোপের রাজনীতিকে ঠিক করে দিতে চাইছে নিজে থেকে.

    কিন্তু নিকোলাই মাকারভের ব্রাসেলস সফরের ফলের মূল্যায়ণ করতে গিয়ে ন্যাটো জোটে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন স্বীকার করেছেন যে, এই সফর সফল হয়েছে. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই ধরনের যোগাযোগের বাস্তবায়ন এই সামরিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্কের ঠাণ্ডা অবস্থা থেকে উষ্ণ হওয়ার কথাই বলে. রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের সামরিক নেতৃত্ব ৬ই মে মস্কোতে আবার বৈঠকে বসবেন, তখন সামরিক সহযোগিতার খসড়া চুক্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে.