"Sochi Discovery World" — রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক অ্যাকোরিয়াম কে এই নাম দেওয়া হয়েছে, কৃষ্ণ সাগরের তীরের পর্যটন কেন্দ্রে এই মহাসমুদ্রের অ্যাকোরিয়াম কিছু দিন আগেই উদ্বোধন করা হয়েছে. ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকে সোচী শহরের ভিজিটিং কার্ড হওয়ার মতো বড় আর সুন্দর এই ওসানারিয়াম.

    ওসানারিয়াম ঢুকলেই লোকের মনে হবে যেন মহাসমুদ্রের তলায় পৌঁছনো হয়েছে. এই রকম লাগার কারণ ৪৪ মিটার লম্বা অ্যাক্রিল দিয়ে তৈরী টানেলের (সুড়ঙ্গের) ভিতর দিয়ে চলতে থাকলে এমনটাই মনে হওয়া স্বাভাবিক. চারদিক থেকেই ঘিরে রয়েছে সমুদ্রের জলের নীচে থাকা জীব জন্তু ও উদ্ভিদ. এখানে বিরল তম প্রজাতির আফ্রিকার পাথুরে মাছ, জাপানের কই মাছ, দাঁড়ের মত নাক ওয়ালা মাছ, দাঁড়া ওয়ালা মহাশোল মাছ এইসব মিলিয়ে প্রায় দুশো প্রজাতির চার হাজার জীব জন্তু ২৯ টি অ্যাকোরিয়াম জুড়ে রয়েছে. এই অ্যাকোরিয়ামে ৫০ লক্ষ লিটার জল ধরে. এখানে নানা রকমের আধুনিক প্রযুক্তির জল গরম, ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা, জল পরিস্কার ও নানা ধরনের জলে দ্রবণীয় মৌল ও যৌগ মিশ্রণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, শুধু তাই নয় প্রায় ৯ পয়েন্ট পর্যন্ত ভূমিকম্পেও এই অ্যাকোরিয়াম ভাঙ্গবে না.

    প্রতিটি আলাদা জায়গার জলও আলাদা, কারণ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও সামুদ্রিক প্রাণীর প্রয়োজন বিভিন্ন তাপমাত্রা, বিভিন্ন রকমের মৌল এবং বিভিন্ন রকমের জলের ক্ষারত্ব. এই অ্যাকোরিয়াম গুলির বাসিন্দারা শুধু খুঁত খুঁতেই নয়, তারা আবার বিপজ্জনকও বটে. বলা যেতে পারে মুখে আঙ্গুল দেওয়ার চেষ্টা করলেই বিপদ. প্রধান বিশেষজ্ঞ ভালেরি সেরদ্যুকভ যখন এই সব প্রাণীদের খাওয়ার দেন, তখন তাঁর হাত ঢাকতে হয় লোহার জাল দিয়ে. তাঁকে দেখতে হয় যাতে সবচেয়ে বেশী খেকো মাছ গুলো খাবার পায়.

    ভালেরি সেরদ্যুকভ বলেছেন, "কৃষ্ণ সাগরের এত বিচিত্র রকমের জীব জন্তু থাকা স্বত্ত্বেও এই ওসানারিয়াম যত রকমের প্রজাতিকে এক জায়গায় করতে পেরেছে তা একসাথে দেখতে পাওয়া যায় না. এর মধ্যে সবচেয়ে নতুন আর আগ্রহের বিষয় হল আমাদের বিশেষজ্ঞরা শুধুমাত্র এইসব বিভিন্ন প্রজাতিকে দেখতে বা অনুসন্ধান করতেই শুধু পারছেন না, এমন কি কয়েকটির পাশে গিয়ে সাঁতার কাটতেও পারছেন".

    ভবিষ্যতের অলিম্পিক রাজধানীর মহা নাগরিক আনাতোলি পাখোমভের চোখ যখনই তিনি এর কাছে আসেন, বাচ্চাদের মত আনন্দে চকচক করে ওঠে. তাঁর জন্য এটা শুধু দারুণ সুন্দর একটা জায়গাই নয়, এটা তাঁর একটি সফল বিনিয়োগ প্রকল্পও বটে. এর কাজের জন্য তিনি সংযুক্ত আরব আমীর শাহীর একটি কোম্পানীকে এই সঙ্কটের বিশ্বেও বিনিয়োগ করতে রাজী করেছেন. ওসানারিয়াম খোলার ফলে শহরে আরো কিছু কাজের জায়গা তৈরী হয়েছে.

    "আমি বিশ্বের সেরা পর্যটন কেন্দ্র গুলিতে গিয়েছি, তার মধ্যে দুবাই ছিল. সংযুক্ত আরব আমীর শাহীর সবচেয়ে বড় শহর. রাশিয়ার লোকেদের জন্য দুবাই খুব প্রিয় শহর, তার একটা কারণ হল ওসানারিয়াম. বর্তমানে সোচীর জন্যও সব কিছুই করা হচ্ছে, যাতে এই শহর বিশ্বের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গুলির সমকক্ষ হতে পারে".

    বছরে সোচী শহরের ওসানারিয়াম দেখতে পারবেন ১২ লক্ষ লোক. তাছাড়া এখানে শীঘ্রই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তারা জীব বিজ্ঞানের ক্লাস ও ছবি আঁকার ক্লাস করতে পারে.