আফগানিস্থানের সমস্যা শুধুমাত্র সামরিক পদ্ধতিতে সমাধান করা সম্ভব হবে না, আফগানিস্থানের জনগনের ভালোর জন্য অন্যান্য প্রচেষ্টাও করা দরকার. এই বিষয়ে ইস্তাম্বুলে চতুর্থবার পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের নেতাদের সঙ্গে আঙ্কারা মধ্যস্থতা বৈঠকের শেষে ঘোষণা করেছেন তুরস্কের রাষ্ট্রপতি আবদুল্লা গুল.

এই বৈঠকে বিগত কিছু সময়ের মধ্যে আফগানিস্থানের নেতৃত্বের প্রস্তাবিত ও তাদের সবচেয়ে প্রমূখ বিশেষত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সহযোগীদের সমর্থিত, সম্ভবতঃ সবচেয়ে আলোড়ন জাগানো টাটকা জাতীয় শান্তি পরিকল্পনার কথা আলোচিত হয়েছে. এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, মাঝারি মাপের বিরোধী তথাকথিত মধ্য পন্থী তালিব যোদ্ধা নেতৃত্বকে দেশের রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে সংযুক্ত করে ও তাদের আর্থিক সাহায্য দিয়ে ফিরিয়ে আনা, এই আশায় যে, তারা এরপর আর সংযুক্ত জোটের শক্তি ও আফগানিস্থানের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবে না. প্রসঙ্গতঃ বহু উত্স থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৮ শে জানুয়ারী আফগানিস্থানের পরিস্থিতি নিয়ে লন্ডনের শুরু হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এই পরিকল্পনা আলোচনার মুখ্য বিষয় বস্তু হতে চলেছে.

আবু ধাবি শহরে এই পরিকল্পনার খুঁটি নাটি বিষয় গুলি নিয়ে কিছু দিন আগে কুড়িটি দেশের কূটনীতিবিদেরা আলোচনা করেছিলেন. আফগানিস্থানের আভ্যন্তরীন শান্তি উদ্যোগের মূল অর্থ যোগানের দায়িত্ব নিতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও জাপান কে. লন্ডন সম্মেলনের আগে নিজেদের অবস্থান মস্কো থেকেও জানানো হয়েছে. রাশিয়া মনে করে আফগানিস্থানের দেশের নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দেশের জনগনের ভূমিকা হওয়া উচিত্ আরও সক্রিয় এবং বিদেশী সৈন্য বাহিনীর হাত থেকে দেশের নিয়ন্ত্রণ ও দায়িত্ব দেশের ভিতরের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই দেশের সৈন্যবাহিনীর হাতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত ক্ষমতা হলে তবেই যাওয়া উচিত্.

আমাদের রেডিও স্টেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ এই প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

"আমি মনে করি যে, এই পরিকল্পনার অবশ্যই মানে আছে, আর কুড়িটি দেশের কূটনীতিবিদেরা এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করার অর্থ হল আমেরিকান দের মতই অন্যান্য সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধি দেশ গুলিও এই পরিকল্পনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে. অন্য ব্যাপার হল মধ্য পন্থী তালিবেরা যারা কিনা অন্য পক্ষে, তারা কতটা তৈরী আছে এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে সাহায্য করতে, সেটাই এখন দেখার বিষয়".

কিন্তু এর মধ্যেই কিছু আফগানিস্থানের রাজনীতিবিদ কারজাই এ এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করা খুব কঠিন অথবা ইউটোপিয়ান বলে অভিহিত করেছেন. তাদের কথা মতো, আফগানিস্থানের সাধারন মানুষ, কোন রকমে যারা গরীব অবস্থায় বেঁচে আছে, সঙ্গে সঙ্গেই তালিবদের দলে যোগ দেবে, কারণ একমাত্র তখনই তাদের পক্ষে বাসস্থান, কাজ ও কাঁচা টাকায় বড় রকম মিলবে. তাই কারজাই এর পরিকল্পনা সার্থক করতে হলে অনেক অর্থের প্রয়োজন পড়বে.