এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তার বিষয়ে সমস্ত দেশের আইনের মধ্যে একটি সমাকলনের রুশ প্রচেষ্টাকে আঞ্চলিক দেশ গুলির লোকসভার সদস্যরা সমর্থন করেছেন. সিঙ্গাপুরে এই সপ্তাহে বাত্সরিক এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির লোকসভার সম্মেলনের প্রতিনিধিরা এই বিষয়ে একটি ঘোষণা করেছেন. রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিকা লাদা করোতুন সংবাদটি জানিয়ে বলেছেনঃ

    "শক্তি নিরাপত্তার প্রশ্নটি বর্তমানে খুবই ক্ষুরধার হয়েছে. এক্ষেত্রে দুটি মত চলতে পারে না. কার্বহাইড্রোজেন যৌগের স্থিতিশীল সরবরাহের বিষয়ে যে সব দেশের স্বার্থ জড়িত তাদের সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এবং প্রচেষ্টা ব্যতিরেকে এই ধরনের কাজ সাফল্যের সঙ্গে করা অসম্ভব. পারস্পরিক স্বার্থের কথা চিন্তা করেই অবশ্য এই কাজ করার প্রয়োজন. এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৭ টি দেশের লোকসভার সদস্যরা, যাঁদের মধ্যে কয়েকজন এই বছরের শীতেই প্রকৃতির পূর্ব্বাভাষ অযোগ্য মনোভাবের পরিচয় হাড়ে মজ্জায় টের পেয়েছেন, তাঁরা সকলেই আলোচনাতে যোগ দিয়েছেন. সব রকমের দিক থেকেই উষ্ণ শহর সিঙ্গাপুরকে সার্থক ভাবেই চির গ্রীষ্মের দেশ বলে ডাকা হয়ে থাকে, আর এই শহরে – দেশে জমায়েত হয়ে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিশাল সংসারের লোকসভার সদস্যরা আলোচনা করেছেন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সঙ্কট পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির গতি প্রকৃতি এবং আঞ্চলিক সমস্যা গুলিকে নিয়ে. একই সঙ্গে আলোচিত হয়েছে শক্তি নিরাপত্তার বিষয় টিও".

    মস্কো তৈরী হয়ে আছে এই দেশ গুলির উপযুক্ত সহযোগীর ভূমিকায়, জ্বালানী শক্তির বিঘ্ন বিহীণ সরবরাহ করার মতো ক্ষমতা আছে মস্কোর. রাশিয়ার জাতীয় সভার পররাষ্ট্র পরিষদের উপপ্রধান ইলিয়াস উমাখানভ এই ঘোষণা করেছেন. আলোচনা সভাতে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি মূল ধারণা গুলি সম্বন্ধে বলেছেন, যার উপর ভিত্তি করেই জ্বালানী ক্ষেত্রে আইন সঙ্গত বিনিময়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা সম্ভব. তিনি বলেছেনঃ

    "রাশিয়ার পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছে যে, খনিজ তেল ও গ্যাসের রপ্তানী কারক, মধ্যস্থ দেশ ও গ্রাহক দের সম্মিলিত স্বার্থের কথাও চিন্তা করতে হবে, দেখতে হবে যেন জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত প্রকল্প গুলি স্বচ্ছ এবং খোলাখুলি করা হয়. জ্বালানী সংক্রান্ত ক্ষেত্রে প্রতিটি পক্ষই যেন তাঁদের কাজের জন্য সম্পূর্ণ ভাবে দায়িত্ব নিতে পারেন. এই মূল ধারণা গুলি আলোচনায় অংশগ্রহণ কারী পেরায় সব কটি দেশের প্রতিনিধিরাই সমর্থন করেন এবং দেখাই যাচ্ছে জ্বালানী শক্তি সংক্রান্ত নিরাপত্তা বিশ্ব নিরাপত্তার একটি অন্যতম অঙ্গ, অংশতঃ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্যও তা প্রযোজ্য".

    ভবিষ্যতের ধারণায় আগামী ২০২০ সালের মধ্যেই রাশিয়ার প্রাকৃতিক তেল ও গ্যাসের রপ্তানীর বিষয়ে একটি রদবদল ঘটতে চলেছে. রাশিয়ার কালো সোনার একের তৃতীয়াংশ চলে যাবে এশিয়াতে. এক্ষেত্রে বিশেষ করে দেখা হয়েছে পূর্ব্ব সাইবেরিয়া প্রশান্ত মহাসাগর পাইপ লাইনের গুরুত্ব. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন গত বছরের শেষে এই লাইনের উদ্বোধন করেছেন, দেশের পশ্চিম ও পূর্ব্ব সাইবেরিয়া থেকে খনিজ তেল এর ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশ গুলিতে সরবরাহ করা যাবে সুদূর প্রাচ্যের বন্দর থেকে.

    রাশিয়ার জাতীয় সভার প্রধান সের্গেই মিরোনভ সিঙ্গাপুরে বক্তৃতায় বলেছেন যে, ২০১৩ সালের সম্মেলন রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দর শহর ভ্লাদিভস্তকে হতে চলেছে, এই জায়গা বাছাই করার কারণও সহজ, যেহেতু ২০১২ সালের এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলির অর্থনৈতিক শীর্ষ সম্মেলন এখানেই অনুষ্ঠিত হবে, সেহেতু দেশ গুলির লোকসভা এবং বিধান সভা গুলির আলোচনার বিষয় বস্তু বেশীর বাগই হবে তাঁদের দেশের প্রধানদের বক্তব্যের উপরে. মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে সের্গেই মিরোনভ বলেছেন সেই দেশের তেল ও গ্যাসের কোম্পানী পেত্রোনাস যেন সাইবেরিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় পাইপ লাইন নির্মাণের দ্বিতীয় অধ্যায়ের কাজে অংশ নেয়. মিরোনভ উল্লেখ করেছেন যে, "রাশিয়া শুধুমাত্র ক্ষমতা শীল ও দ্রুত উন্নতি করছে এমন বাজারই নয়, বরং বিনিয়োগের জন্য এক সুবিশাল ক্ষেত্র. একই সঙ্গে তিনি মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন যে, রাশিয়ার কোম্পানী গুলি বিগত কয়েক বছরে বহু বার প্রমাণ করেছে যে, তারা বিশ্বাসী সহযোগী. তেল ও গ্যাসের ক্ষেত্রে সহযোগিতা দুই দেশের ক্ষেত্রেই বাস্তবিক প্রকল্প এবং সাফল্য এক্ষেত্রে অবশ্যম্ভাবী". পেত্রোনাস রাশিয়ার রসনেফত্ কোম্পানীর প্রায় এক হাজার কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে, রাশিয়ার গাজপ্রম পেত্রোনাসের সঙ্গে সহযোগিতা বিষয়ক বোঝাপড়ার চুক্তি করেছে. যে চুক্তির মধ্যে মালয়েশিয়া ও রাশিয়ার ভিতরে প্রকল্প গুলিতে একসাথে কাজ করতে পারবে এবং একই সাথে তৃতীয় কোন দেশেও বিজ্ঞান – প্রযুক্তি বিষয়ে এই উত্পাদন, পরিবহণ, সংরক্ষণের কাজে অংশ নিতে পারবে.