মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদী সংস্থার তালিকায় আরব উপদ্বীপের আল কায়দা সংস্থাকে জোড়া হয়েছে, যারা নাকি গত বছরের শেষে এক অদ্ভূত সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড করতে চেয়েছিল আমেরিকার একটি বিমানে. ইরাকে আল কায়দা নামের সংস্থা আছে, ধরা হয়েছে যে, আল কায়দা আফগানিস্থান ও পাকিস্থানেও রয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার জোটের দেশগুলি গত আট বছর ধরে এই সংস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু আল কায়দা এখনও বেঁচে রয়েছে, কেন তারা এত দীর্ঘজীবী? রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন এবং আলেকজান্ডার ফ্রলোভ চেষ্টা করেছেন তা বোঝার, প্রথমে এই বিষয়ে আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেনঃ

    "আমার মতে, আল কায়দা ঘটনা ও তার দীর্ঘজীবী হওয়ার কারণ হিসাবে কিছু লোক মনে করেন যে, ওটা একটা খুব গোপন ও প্রচুর অর্থ ও মানুষের সম্পদে ধনী সংস্থা সেটা ঠিক নয়, বরং আল কায়দা বেঁচে থাকাটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের পক্ষে সুবিধাজনক বলে তাদের নাম বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে. বেশীর ভাগ সময়েই দেখা গেছে, আল কায়দা তখনই কিছু একটা করছে, যখনই মার্কিন প্রশাসনের সন্ত্রাস বিরোধী কোন একটা সিদ্ধান্তকে কায়েম করার প্রয়োজন আছে. অন্ততঃ এই রকম একটা মত আছে এবং তা অনেক কিছুর ব্যাখ্যায় সাহায্য করে. যেমন, ইরাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঢুকেছিল, আল কায়দার সঙ্গে যুদ্ধ করার নামে, যদিও সেখানে তাদের চিহ্নও ছিল না. বর্তমানে ইয়েমেন দেশে আল কায়দা আছে বলে শোরগোল করা হয়েছে, যদিও তারা সেখানে আছে কিনা সেটাই এখনও প্রশ্নের বিষয়. কিন্তু আমি অন্ততঃ অবাক হব না, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কোন একটা শক্তি প্রদর্শনের পদক্ষেপ নেয়".

    আমাদের অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশগ্রহণকারী আলেকজান্ডার ফ্রলোভ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল তিনি আল কায়দা দীর্ঘজীবী হওয়ার বিষয়ে কি মনে করেন? আলেকজান্ডার ফ্রলোভ বলেছেনঃ

    "আমার মতে নিকট ও মধ্য প্রাচ্যের দেশ গুলিতে আর্থ সামাজিক পরিস্থিতি খুবই জটিল, যেমন, আফগানিস্থানে ও পাকিস্থানে. এই সব দেশের নাগরিকেরা মনে করেন যে তাঁদের সমস্ত সমস্যা ও বাধার কারণ হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, আমেরিকার প্রভুত্ব, জোর করে তাদের জন্য বিদেশী ধারণায় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করার প্রচেষ্টা. এই সবের কারণে একটা প্রতিবাদী মানসিকতা তৈরী হয়েছে, আর আল কায়দা ধরনের সংস্থারা তার ফায়দা তুলছে".

আন্দ্রেই গ্রোজিন কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি কি আলেকজান্ডার ফ্রলোভ যে বলছেন, আমেরিকা খুব একটা আল কায়দাকে পরাজিত করতে চায় না? অথবা সাধারন ভাবেই পারে না? আন্দ্রেই গ্রোজিন উত্তরে বলেছেনঃ

    "আল কায়দা আসলে কি – সম্ভবতঃ জেমস বন্ডের বই পড়া আধুনিক মানুষের মনে একটা বিশ্ব জোড়া গোপন সংস্থার সম্বন্ধে ধারণা তৈরী হয়ে আছে, কিন্তু বর্তমানের স্বচ্ছ দুনিয়াতে, সংবাদ মাধ্যম গুলির প্রভূত ক্ষমতার ফলে, এই ধরনের সংস্থা বোধহয় বেশী দিন বাঁচতে পারত না. অবশ্যই নানা ধরনের দল আছে, আল কায়দা নামেরও আছে, যারা সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম করে থাকে. তারা বেশীর ভাগ সময়েই লোকের আমেরিকার প্রতি বিদ্বেষ কে ব্যবহার করে থাকে. কিন্তু আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থার মূল্যায়নে আফগানিস্থানেই আল কায়দার যোদ্ধার সংখ্যা ১০০ জনের বেশী নয়. আর পাকিস্থানে তিনশো লোকের বেশী নয়. এটা কি ভাবা সম্ভব যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অসংখ্য বিশেষ বাহিনী, সামরিক ক্ষমতা, আর্থিক সামর্থ্য দিয়ে এই ধরনের সন্ত্রাসবাদী দলের মোকাবিলা করতে অক্ষম"?