আফগানিস্থানের সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধে নিযুক্ত বহুজাতিক সৈন্যবাহিনীর জন্য রসদ সরবরাহের কাজের জন্য পাঠানো জাপানী নৌবহর ভারত মহাসাগর থেকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে. জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী তোসিমি কিতাদ্জাভা টোকিও তো এই ঘোষণা করেছেন.

    জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এর মধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন দেশের প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নৌবহরকে ন্যাটো জোট ও পাকিস্থানের জাহাজ গুলিকে পানীয় জল ও জ্বালানী সরবরাহ করার কাজ বন্ধ করতে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ই সেপ্টেম্বর ২০০১ সালের সন্ত্রাসবাদী হানার পর জাপানের গৃহীত বিশেষ আইনের ভিত্তিতে এই রসদ সরবরাহের কাজ করা হয়েছিল, একই সময় থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তার জোটের দেশ গুলি আফগানিস্থানে আল কায়দা এবং তালিবান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে চলেছে. রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের সামরিক ভবিষ্যত ধারণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ কর্নেল ইভগেনি জাখারভ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেনঃ

    জাপানের অংশ গ্রহণ এই ক্ষেত্রে ছিল রসদ সরবরাহের মতো পিছনে থেকে কাজ করার, আসল কাজ ছিল বিনা মূল্যে পানীয় জল এবং জাহাজের ও হেলিকপ্টারের প্রয়োজনীয় জ্বালানী সরবরাহ করা. তা স্বত্ত্বেও এই সাহায্যের মূল্য ছিল অপরিসীম, এই গত আট বছরে জাপানীরা জোট কে বিনা মূল্যে ৫০ লক্ষ টনের বেশী ডিজেল তেল ও ১১ হাজার টন পানীয় জল দিয়েছে. আফগানিস্থানের সন্ত্রাস বিরোধী জোটের নেতৃত্বের প্রতিনিধি স্বীকার করেছেন যে, জাপানের এই পিছন থেকে সাহায্য না পেলে বহু অপারেশন করা তো প্রায় সম্ভবই ছিল না, এমনকি কখনও একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়তে পারত. সুতরাং বর্তমানে জাপানের মিশন ভারত মহাসাগরে শেষ হয়ে গেলে, জোটের সেনা বাহিনীকে আফগানিস্থানে নির্দিষ্ট কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে.

    প্রধানমন্ত্রী ইউকিও হায়াতোমার নেতৃত্বে গত সেপ্টেম্বর মাসে শপথ নেওয়া জাপানের বর্তমানের মন্ত্রী পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, ভারত মহাসাগরে নৌবাহিনীর মিশন আর দীর্ঘায়িত না করার. এর জায়গায় টোকিও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আফগানিস্থানে মানবিক ও সামাজিক প্রকল্পে অংশ নেওয়ার, বর্তমানের মন্ত্রীসভা মনে করেছে এই ভাবে বরং সামরিক ব্যবস্থার চেয়ে বেশী করে সন্ত্রাসবাদ দমন করা সম্ভব হবে. অংশতঃ জাপান তালিবানের প্রাক্তন যোদ্ধাদের চায় পেশাদারী প্রশিক্ষণ দিয়ে শান্তিপূর্ণ জীবনে তাদের জীবন যাপনকে সুবিধাজনক করতে. তাছাড়া টোকিও যে প্রকল্প করেছে, তাতে আফগানিস্থানের রাজধানীর ও নিকটবর্তী অঞ্চলের  পরিকাঠামো গত উন্নতি করা এবং আফগানিস্থানের কৃষি ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কাজের কথা রয়েছে. জাপানের পক্ষ থেকে আফগানিস্থানের ৮০ হাজার পুলিশ বাহিনীর অর্ধেক লোকের বেতনের জন্য ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে. পাঁচ বছরের মধ্যে জাপান এই বিষয়ে পাঁচ হাজার কোটি ডলার খরচ করবে বলে পরিকল্পনা নিয়েছে.