রাশিয়া ভারতকে ১০ বছরের জন্য ভাড়া হিসাবে একটি পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ নেরপা দেবে. এই বিষয়ে রাশিয়ার সামরিক মন্ত্রণালয় কয়েক দিন আগে জানিয়েছে.

    ডিসেম্বর মাসের শেষে নেরপা সমস্ত রকম পরীক্ষা সাফল্যের সঙ্গে শেষ করেছে এবং বর্তমানে রাশিয়ার নৌবহরের অংশ হিসাবে রয়েছে. দীর্ঘ সময়ের জন্য এই ধরনের জাহাজ ভাড়া করতে দেওয়া প্রমাণ করে দেয় দুই দেশের বিশিষ্ট সম্পর্কের কথা এবং স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার বিষয়ে উচ্চ স্তরের পারস্পরিক নির্ভরতার কথা. অংশতঃ ভারতই প্রথম দেশ, যাকে রাশিয়া এই ধরনের পরিষেবা দিচ্ছে.

    ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য যে বিশেষ কোম্পানী দায়িত্বে রয়েছে, সেই রসআবারোনএক্সপোর্ট কোম্পানীর তথ্য দপ্তরের প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভিদেঙ্কো বলেছেনঃ

    "আমাদের নেতৃত্ব ভারতকে তার ডুবোজাহাজ সংক্রান্ত সামরিক নৌবহরের সৃষ্টিতে বহু ভাবে সাহায্য করছে, আমরা বুঝতে পারি যে এই কাজ অনেক দিনের, সব সময়েই তাতে অনেক কঠিন কাজ করতে হয়, দামী কাজও বটে, কিন্তু এটাই একমাত্র কাজ, যা করার ফলে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতা এক মহান নৌবাহিনীর ক্ষেত্রে সামরিক শক্তি শালী দেশের মতো হতে পারবে. আমাদের সহযোগিতা শুধুমাত্র নৌবহরের ক্ষেত্রেই হচ্ছে না, আমরা বিমান বাহিনী ও পদাতিক বাহিনীর ক্ষেত্রেও বহু ভাবে সহযোগিতা করে চলেছি. এই কাজ খুবই সাফল্য মণ্ডিত ও ফলপ্রসূ হয়েছে".

    অবশ্যই ভারতীয় নৌ বাহিনীতে নেরপা জাহাজের সংযোজন ভারতের সামরিক ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে এবং স্ট্র্যাটেজিক নানা ধরনের কাজ করতে সাহায্য করবে, তা ভারত মহাসাগরেই হোক বা বিশ্বের অন্য কোন অঞ্চলেই হোক. একই সঙ্গে ভারতের নাবিকরা নিজেদের জন্য নতুন ধরনের সামরিক প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ পাবেন. রাশিয়া ভারতীয় ডুবোজাহাজের নাবিকদের প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছে, যেমন ভাবে এর আগেও ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট, পদাতিক বাহিনীর ট্যাঙ্ক চালকেরা ও অন্যান্য বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা এর আগে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন.

    রাশিয়া ও ভারতের সামরিক ক্ষেত্রে বহুল প্রসারিত সহযোগিতার মধ্যে ভারতীয় নৌ বহরের ডুবো জাহাজ ও অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের জাহাজ নির্মাণ রয়েছে. এর মধ্যেই রয়েছে বর্তমানে খুব গুরুত্ব সহকারে পুনর্নির্মিত বিমান বাহী জাহাজ অ্যাডমিরাল গর্শকভ, যার ভারতীয় প্রদত্ত নাম বিক্রমাদিত্য. ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের রাশিয়া সফরের সময় এই জাহাজের পুনর্নির্মাণের বিষয়ে সমস্ত অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগের সমস্যার সমাধান করা হয়েছে, আর তাই বর্তমানে কোন সমস্যা নেই সময় মতো এর কাজ শেষ করার. এই ধরনের জাহাজ ও ডুবোজাহাজ দিয়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মতে ভারতের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত হবে.