ইরান দু মাসের জন্য নিজের পারমাণবিক কর্মসূচি অচলাবস্থায় রেখেছে. এ সম্বন্ধে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রামিন মেহমানপরস্ত. ইউরেনিয়ামের পরিশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ইরানের কর্তৃপক্ষ, কূটনীতিজ্ঞের ভাষায়, পশ্চিমী দেশগুলিকে সময় দিচ্ছে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণুর অধিকার বাস্তবায়ন জনিত সঙ্কট মীমাংসার পথ সম্বন্ধে চিন্তা করার.

   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির স্বীকৃতি অনুযায়ী, তেহেরান এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে একসারি দেশের অনুরোধে, যারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সমস্যা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মীমাংসার পক্ষে মত প্রকাশ করছে, তবে তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আলাপ-আলোচনাকারী ষষ্ঠী দেশের অন্তর্ভুক্ত নয়. কূটনীতিজ্ঞ সঠিক করে বলেন নি এরা কোন কোন দেশ, তবে জোর দিয়ে বলেন যে, পাশ্চাত্যের উচিত নির্দারিত সময়ের মধ্যে ইরানের প্রস্তাব বিবেচনা করা. অন্যথায় ইরান নিজের পরিকল্পনা অনুযায়ী কার্যকলাপ শুরু করবে.
   তেহেরান নিশ্চয়োক্তি করছে যে, ২০ শতাংশ মান পর্যন্ত ইউরেনিয়াম পরিশোধন প্রক্রিয়া বন্ধ করতে সম্মত, যদি প্রয়োজনীয় মানের জ্বালানী তাকে বিদেশ থেকে বিক্রি করা হয়. অথবা বিনিময়ও সম্ভব, তবে, ষষ্ঠী দেশের চেয়ে পার্থক্যে, প্রথমে ইরানকে পরিশোধিত জ্বালানী সরবরাহ করা হোক, আর তারপর তার দেশ থেকে স্থানীয় নিম্ন পরিশোধিত ইউরেনিয়াম নিয়ে যাওয়া হোক.
   সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম পরিশোধন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা সম্পর্কে তেহেরানের সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ভলোদিন প্রাজ্ঞতাপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেনঃ
 কূটনৈতিক কলার দৃষ্টিভঙ্গী থেকে ইরান পুরোপুরি সঠিকভাবে কাজ করছে. দু মাস ইউরেনিয়াম পরিশোধন স্থগিত রাখার সম্মতির কথা ঘোষণা করে সে ভবিষ্যতের পদক্ষেপ সম্পর্কে চিন্তা করার সময় দিচ্ছে নিজেকে এবং পাশ্চাত্যকেও যথাযথ সুযোগ দিচ্ছে. সেই সঙ্গে ভুলে যাওয়া উচিত নয় যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র প্রসার নিরোধের চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশ. আর ইরান এ চুক্তি লঙ্ঘন করছে এমন কোনো প্রমাণ নেই. এটা বিবেচনায় রেখে এগুনো উচিত.
   তেহেরানের এই সদিচ্ছার সঙ্কেত পাশ্চাত্য মূল্যায়ন করতে কি প্রস্তুত? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এবং গ্রেট বৃটেন ক্রমেই বেশি সক্রিয়ভাবে সমর্থন করছে ইরানবিরোধী বাধানিষেধ কঠোর করার ধারণা, একথা বিবেচনা করে যে, চিন্তার জন্য ইরানকে দেওয়া সময় পার হয়ে গেছে. হয়ত, এই প্রশ্নটিই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে ১৬ই জানুয়ারী নিউ-ইয়র্কে মধ্যস্থ ষষ্ঠী দেশের- রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, গ্রেট বৃটেন ফ্রান্স ও জার্মানির প্রতিনিধিদের সাক্ষাতে. মার্কিনী পররাষ্ট্র সচিব হিলারী ক্লিন্টন ১২ই জানুয়ারী বলেছেন যে, ষষ্ঠী দেশঅধ্যয়ন করছে কেন মাত্রার বাধানিষেধের দিকে পক্ষগুলি এগুবে.
   এদিকে রাশিয়া ও চীন, বর্তমান পর্যায়ে, নতুন নতুন বাধানিষেধ প্রবর্তনে আপত্তি করছে, কারণ এখনও মনে করে যে, ইরানের দ্বারা সামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি প্রণয়নের কোনো প্রমাণ নেই. ট্যাক্টিক্যাল মতভেদ সত্ত্বেও ষষ্ঠীদেশ এখনও পর্যন্ত একমতে ইরানের সাথে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে, ক্রমাগত তাকে পারমাণবিক সমস্যা নিয়ে পূর্ণ পরিসরের আলাপ-আলোচনায় আনার জন্য বাধ্য করতে চেষ্টা করে.
   মঙ্গলবার রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির রাজনৈতিক-কূটনৈতিক মীমাংসা খোঁজার অভিপ্রায়ের কথা আবার বলেছে. এ ছিল ওয়াশিংটনের স্থিতির স্বকীয় ধরনের উত্তর, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অধিনায়কমণ্ডলীর অধিনায়ক জেনারেল ডেভিড পেত্রেউসের ভাষায়, ইরানের পারমাণবিক প্রকল্পের উপর আঘাত হানার সম্ভাবনা বাদ দেন না, যদি তেহেরান ও আন্তর্জাতিক জনসমাজের মাঝে মতভেদ মীমাংসিত না হয়.