বিদেশী ন্যাটো জোটের সৈন্য দলের নেতৃত্ব আফগানিস্থানে আমেরিকার সেনা বাহিনীর পরিকল্পনা মত কার্য সিদ্ধির উপায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে. ফ্রান্সের ফিগারো কাগজে ন্যাটো জোটের একজন অফিসারের সার্ভিস নোট থেকে কিছু অংশ প্রকাশ করেছে, যিনি এই মিশনের পরিদর্শনের কাজ নিয়ে আফগানিস্থানে ছিলেন.

    অবোধ্য মনোভাব বিশেষত প্রকাশ পেয়েছে, আফগানিস্থানে আমেরিকান সৈন্যরা যে ভাবে আফগানিস্থানের নিজস্ব স্বয়ং সম্পূর্ণ সৈন্যবাহিনীর জন্য সৈনিক তৈরী করছে সে বিষয়ে. ন্যাটো জোটের সকলের পক্ষ থেকে সাধুবাদ পাওয়া বারাক ওবামার পরিকল্পনা মতো ধীরে আফগানিস্থানে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার দায়িত্ব আফগানিস্থানের বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার কথা, যার ফলে এই দেশ থেকে বিদেশী সৈন্য অপসারণ সম্ভবপর হবে বলা হয়েছিল, তা এই পরিকল্পনার অংশ.

    কার্য ক্ষেত্রে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে খুবই কঠিন ভাবে. আমেরিকার জোটের সহকর্মীরা ইতিমধ্যেই বলেছেন যে, আমেরিকার সৈন্য বাহিনীর শিক্ষকেরা এই দেশের বাস্তবের সঙ্গে তাদের কাজকর্মের কোন মিল করার চেষ্টাই করছে না. অংশতঃ আফগানিস্থানের নতুন রিক্রুট দের বাধ্য করা হচ্ছে বিশাল সামরিক নির্দেশ মুখস্থ করতে, যা তারা প্রায়ই বুঝতেই পারছে না. বিভিন্ন জায়গায় তাই দুর্নীতি বেড়েই চলেছে, সামরিক বাহিনী তৈরীর বরাদ্দ অর্থ চলে যাচ্ছে আফগান সামরিক অফিসারদের পকেটে, যারা তাদের কাজে নিয়োজিত সৈন্য সংখ্যা নিয়ে ভুল রিপোর্ট জমা করছে. অন্য দিকে, আমেরিকান সৈন্য শিক্ষকেরা অনিচ্ছা নিয়ে আফগানিস্থানে আসছে. কারণ এই ধরনের কাজের জন্য তাদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে কোন লাভ হওয়ার গ্যারান্টি নেই.

    আফগানিস্থানের সৈন্যদের ক্ষমতা খুবই কম দেওয়া হয়েছে, তাদের পুরনো কিন্তু সহজে ব্যবহার যোগ্য কালাশনিকভ মেশিনগানের জায়গায় ভারী আমেরিকান এম – ১৬ রাইফেল দেওয়া হয়েছে, আফগানিরা তাদের ঐতিহ্য অনুযায়ী ছোট ছোট দল বানিয়ে যুদ্ধ করতে চাইলে তা করতে দেওয়া হচ্ছে না. এই দেশে বিদ্রোহীরাও একই ভাবে সাধারণতঃ যুদ্ধ করে থাকে. জোর করে তাদের নির্দেশ মতো সৈন্য তৈরী করতে গিয়ে, আমেরিকা যে ধরনের সৈন্য বাহিনী পাচ্ছে, তা তাদের সমর্থনে তো কাজ করছেই না, উল্টে বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে. ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় সৈনিক আক্রমণ আফগানিস্থানের গেলমেন্দ অঞ্চলে করতে গিয়ে যেখানে চার হাজার সামুদ্রিক সৈন্যকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করেছে, সেখানে স্থানীয় সৈন্যের সংখ্যা ছিল মাত্র সাড়ে ছয় শ. তাদের কে আগের মতই বিশ্বাস করা হয় নি. যে অফিসার কাবুলে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন, তিনি বুঝতে পারেন নি, এই রকম হাল হলে, কি করে আমেরিকা ও তার জোটের সৈন্যরা প্রশাসনের নির্দেশ মতো আফগানিস্থান থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের দায়িত্ব স্থানীয় দের বুঝিয়ে দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবে? তারা এখনও যুদ্ধ করা তো দূরের কথা, সামান্য নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখার কাজই করে উঠতে পারছে না. এর কি ফল হতে চলেছে? এই বিষয়ে আমাদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ, তিনি বলেছেনঃ

    "যদি স্থানীয় সৈন্য বাহিনী এই রকম ভাবেই কাজে বিমুখ ও অপরিণত থাকে, তাহলে বারাক ওবামা ঘোষিত সৈন্য প্রত্যাহার করার সময় পিছিয়ে যেতে বাধ্য. শুধুমাত্র এই করণে যে, যেই গত আট বছর ধরে মার্কিন সহায়তা পেয়ে যে রাষ্ট্র কাঠামো ও নেতৃত্ব এই দেশে রয়েছে, তা বহু দেশীয় সৈন্য প্রত্যাহার করার অল্প সময়ের মধ্যেই তালিবান আক্রমণে ও নানা রকমের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের চাপে আপনা থেকেই ভেঙে পড়বে. যদি না এই সময়ের আগে কোন বিরাট পরিবর্তন আসে. যেমন, যদি আন্তর্জাতিক ভাবে সবাই মিলে তালিবান দের এমন ক্ষতি করে যাতে তারা বহু দিনের আগে নিজেদের সম্বিত ফিরে না পায়.

    আর আপাততঃ, ন্যাটো জোটের অফিসারের কথায় যা বোঝা যাচ্ছে, তা চলতে দিলে, আমেরিকার খরচের ফল প্রার্থিত ফলের সঙ্গে মিলবে না, অফিসারের মত অনুযায়ী, তাদের সামরিক উপায় পুরনো হয়ে গিয়েছে এবং তা ভিয়েতনামের যুদ্ধের সময়ের সঙ্গে মেলে. আর তাই এবারে যেন ভিয়েতনামের মতো আমেরিকানদের জন্য একটাও নিরাপদ রাজ্য, যুদ্ধের উপযুক্ত স্থানীয় বাহিনী, সহমতে আসা প্রশাসন বা এই যুদ্ধে বহু কোটি ডলার খরচ করার জন্য কোন সঠিক কারণ খুঁজতে বসতে না হয়".