রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ একটি নতুন আইনে স্বাক্ষর করেছেন, দেশের লোকসভা ও বিধানসভার দুই কক্ষই আগে এই আইনের পক্ষে রায় দিয়েছে, যার ফলে রাশিয়াতে বিচার ব্যবস্থায় শাস্তির এক নতুন পদ্ধতির সূচনা হল, লোক কে আর স্বাধীনতা হারিয়ে জেলে থাকতে হবে না. আগে দেশের অপরাধের আইনে গৃহ বন্দী রাখার বন্দোবস্ত থাকলেও বাস্তবে তা প্রায় ব্যবহার করাই হত না.

    বর্তমানের আইনে খুব বড় অপরাধ না করলে আদালত দোষীকে দুই মাস থেকে চার বছর মেয়াদের গৃহবন্দী থাকার নির্দেশ দিতে পারবে. এই রকম বন্দী দশার নানা ধরন হতে পারে, বাড়ী থেকে নির্দিষ্ট সময়ের পরে বেরোনো চলবে না, বিভিন্ন জায়গায় যাওয়া যাবে না, বড় কোন উত্সবে বা মেলাতে অংশ নিতে পারবে না ইত্যাদি. অল্প বয়সী অপরাধী দের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে.

    যে সব লোকেরা আদালতের রায়ে গৃহবন্দী থাকবেন, তারাও দেশের অন্য জায়গায় গিয়ে ঘর বাঁধতে পারবেন না, থানার হুকুম ছাড়া কাজ বা স্কুল, কলেজ বদলাতে পারবেন না. আইন ভাঙলে তাকে ঘর থেকে নিয়ে জেলে পোরা হবে. তাই আইন ভাঙার ইচ্ছা খুব একটা হবে বলে মনে হয় না. তার ওপরে কিছু দিন পরেই এই সব লোককে ইলেকট্রনিক বালা পরানো হবে, যাতে তারা কে কোথায় আছে তা সব সময়ে জানা সম্ভব হয়. রাশিয়ার বিভিন্ন জেল কলোনীতে এই ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ এই গত কয়েক দিনে অনেক গুলি আইনের সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেছেন, যেখানে নানা ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি কমানো হয়েছে, বিশেষত কর আদায়ের ক্ষেত্রে. রাষ্ট্রপতি অনেক বার ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার শাস্তি ব্যবস্থা, যা গত দশকে বদলায় নি, তা পাল্টানোর সময় এসেছে. রাষ্ট্রপতি মনে করে বলেছেনঃ

    "শাস্তি প্রদানের পুরো ব্যবস্থা পাল্টে দিতে হবে, অর্থাত্ শাস্তি দেওয়ার চেয়ে শাস্তি নির্ধারণ করতে ব্যবস্থা করতে হবে. যদি কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ বা কোন খুব ভয়ানক অপরাধ কেউ করলে অবশ্যই তার শাস্তি হবে প্রচণ্ড কড়া, দেখতে হবে সমস্ত অপরাধের মাত্রা, কাউকে কেউ হত্যা করতে চাইলে, স্বাস্থ্যহানি করতে চাইলে তার শাস্তি হবে এক রকম. যারা এই ধরনের অপরাধ করতে পারে, তাদের জন্য মায়া দয়ার জায়গা নেই. কিন্তু একই সঙ্গে আমরা বুঝতে বাধ্য যে, কর আদায় বা অর্থনৈতিক ছোট খাট কোন অপরাধের জন্য সোজা জেলে ভরে দেওয়ার কোন মানে নেই".

    দেখাই যাচ্ছে, রাষ্ট্রপতি দেশের আইন ব্যবস্থায় পরম্পরা বজায় রেখে খোলা হাওয়া আনতে চাইছেন. এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হল, দেশের নাগরিক তার প্রাপ্য শাস্তি ভোগ শেষে সমাজে ফিরলে যাতে পুরো দমে মানুষের মত থাকতে পারে, কোন আগ্রাসী বা বিপজ্জনক চিন্তা নিয়ে যেন না ফেরে.