পুরনো ও নতুন বছরের সঙ্গম স্থলে উপস্থিত হয়ে লোকে চিন্তা করে, তাদের জন্য পুরনো বছর কেমন ছিল আর নতুন বছরই বা কেমন কাটবে. এই চিন্তা করে থাকে দক্ষিণ এশিয়ার লোকেরাও, তার ওপর এই সবচেয়ে লোক বহুল ও দ্রুত উন্নতিশীল অঞ্চলের ঘটনা গুলি যা কখনোই একই রকমের মানে নিয়ে ঘটে না, তা ভাবিয়ে তোলে সকলকেই.

    এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলি যেমন, ভারত, পাকিস্থান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল এমনকি ভুটানও বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের হাত থেকে রেহাই পায় নি. প্রত্যেক দেশই এর সাথে নিজের ক্ষমতা অনুযায়ী লড়াই করেছে ও করছে. ভারত যেমন, নিজের উন্নতির বার্ষিক হার শতকরা সাত থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করেছে, কিন্তু উন্নতির হার ধণাত্মক রাখতে পেরেছে. পাকিস্থানের পক্ষেও কিছুটা এই রকমই করা সম্ভব হয়েছে, কিন্তু সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সঙ্কট দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলির উপর নিদারুণ বেদনা দায়ক আঘাত হানতে পেরেছে. এই অঞ্চলের এমনিতেই যথেষ্ট সমস্যা বহুল সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে.

    দক্ষিণ এশিয়ার অন্য আরেকটি সমস্যা হল সন্ত্রাস বাদ ও ধর্মীয় চরমপন্থী মতবাদ যা আজ দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক হয়েছে. বলা যেতে পারে না যে, এই অঞ্চলে বোধোদয় হয় নি যে, এই সমস্যার মোকাবিলা করা উচিত আন্তর্জাতিক ভাবেই, সহযোগিতা করে, কিন্তু দুঃখের কথা হল সব সময়ে তা করা সম্ভব হয়ে উঠছে না. ভারত ও পাকিস্থান এখনও মুম্বাই হামলার পর একে অপরের প্রতি বৈরী মনোভাব ভুলতে সক্ষম হয় নি. লস্কর এ তৈবার যোদ্ধারা পাকিস্থান থেকে এসে ভারত পাকিস্থানের শান্তি চুক্তি, যার জন্য আগে প্রায় পাঁচ বছর কাজ হয়েছে তা ধ্বংস করে দিয়েছে. পারস্পরিক বিশ্বাসের মূলেই কুঠার হেনে. তার ওপর ইসলামাবাদ ভারতকে, যারা এই হামলার পিছনে ছিল, তাদের গ্রেপ্তার করে তুলে দেয় নি, ফলে ভারত পাকিস্থানের মধ্যে শান্তি আলোচনা অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে আছে. ভারত পাকিস্থানের সঙ্গে আর তাদের শর্ত না মানলে কথা বলতেই রাজী নয়. অনেক পর্যবেক্ষকই মনে করেন যে, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা আনতে হলে ভারত ও পাকিস্থানের মধ্যে শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্ক আনার প্রয়োজন আছে.

    এই সমস্ত কিছু স্বত্ত্বেও বলা যায় না যে, পাকিস্থানের সরকার সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে লড়াই করছে না. দেশের উত্তর পশ্চিমে তালিবান ও আল কায়দা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে বিশাল যুদ্ধ মনে করিয়ে দেয় যে, ইসলামাবাদ সন্ত্রাসবাদীদের হুমকির গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে. কিন্তু পাকিস্থান, অনেক পর্যবেক্ষকের মতেই সন্ত্রাসবাদীদের ভাল ও খারাপ এই দু ভাগে ভাগ করেই চলেছে, যার ফলে ভারতের সম্পর্ক ভাল হতে পারছে না এবং প্রতিবেশী আফগানিস্থানের সঙ্গেও সম্পর্ক ভাল হতে পারছে না.

    শ্রীলঙ্কার অবস্থা আশা জাগিয়েছে, কলম্বো অবশেষে তামিল টাইগার বা তামিল ইলম দলের সন্ত্রাস, যা দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়েছিল গত কয়েক দশক ধরে ও রক্তের বন্যা ঘটিয়ে ছিল শ্রীলঙ্কায়, তার একটা ইতি করতে পেরেছে, এই সন্ত্রাস কে ধ্বংস করতে পেরে. এই জাতিগত বিরোধ প্রায় ১৪ বছর ধরে এক লক্ষের বেশী লোকের প্রাণ হানীর কারণ হয়েছে. এই বিরোধের ক্ষতি ধীরে হলেও আন্তর্জাতিক সমর্থন ও সাহায্যের সুযোগে কমে আসছে. এখানে রাশিয়া তার সাহায্যের হাত বাড়িয়েছে. শীঘ্রই শ্রীলঙ্কায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং আশা করব এখানে শান্তিপূর্ণ জীবন ফিরে আসবে.

    নেপালে গৃহযুদ্ধের শেষ হয়েছে, দুই শত বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ও নেপালকে প্রজাতন্ত্র ঘোষণা আশার উপযুক্ত ইতিবাচক ফল দেয় নি. নেপালের বাম পন্থী কমিউনিস্ট পার্টি, যে দলের লোকেরা নিজেদের মাওবাদী বলে থাকে, নির্বাচনে জিতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে কোন সম মতে আসতে পারে নি, যারা রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক সময় সাথেই ছিল. ২০০৯ সালের শেষ কয়েক মাসের মধ্যে মাওবাদীরা দেশে অনেক হাজার লোকের মিছিল করেছে, যাতে সরকার তাদের দাবী মেনে নেয়, কিন্তু এই সব মিছিলে কোন লাভ হবে না বুঝতে পেরে, অবশেষে তারা বছরের শেষ দিন গুলিতে ঘোষণা করেছে যে, তারা নেপালের অন্যান্য রাজনৈতিক দল গুলির সাথে দেশের নতুন সংবিধানের জন্য হাত মিলিয়ে কাজ করতে তৈরী. কিন্তু তাদের এই মত পরিবর্তন কত দিনের তা কে বলতে পারে.

    দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশ গুলিও ঘটনার স্রোত থেকে দুরে সরে নেই. এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পারমানবিক শক্তি প্রকল্প নির্মাণের কথা উল্লেখ করা যায়. এই রকম প্রস্তাব নিয়ে গরমে এই দেশের সরকার মস্কোর কাছে এসেছিল, আর তা ইতিবাচক ইঙ্গিত পেয়েছে. ভুটানে নতুন সময় এসেছে, গত কিছু কালে সেখানে বিমানবন্দর, জল বিদ্যুত কেন্দ্র, হোটেল ও নতুন রাস্তা ঘাটের নির্মাণ করা হয়েছে.

    "রাশিয়ার দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলিতে কম বন্ধু নেই, ২০০৯ সালে রাশিয়াতে ভারত বর্ষ উদযাপন এবং তার এক বছর আগে ভারতে রাশিয়া বর্ষ উদযাপন তা প্রমাণ করে দেয়", - বলেছেন ভারত অনুসন্ধান কেন্দ্রের প্রধান তাতিয়ানা শাউমিয়ান. "আমরা চাইব এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশ গুলিতে যেন মানুষের শান্তি বজায় থাকে ও সার্বিক উন্নতি হয়".