২০০৯ সাল কেটে গেল. রুশ-ভারত সম্পর্কের জন্য বছর কেমন কাটল? এই বিষয়ে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ আলোচনা করেছেন অর্থনীতির ডক্টরেট প্রফেসর গেন্নাদি চুরফিনের সঙ্গে.

    "রাশিয়াতে বলা হয়ে থাকে যেমন করে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে, তেমনিই কাটবে বছর. এই বছর ছিল রাশিয়াতে ভারতের বছর. সত্যই কি আমাদের জন্য বছরটি তেমনি ভারতীয় বছর হতে পেরেছে"?

    "শেষ হয়ে আসা ২০০৯ সাল আমার দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই বিশিষ্ট হয়েছে রুশ ভারত সম্পর্কের ক্ষেত্রে. অনেক গুলি বিষয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে এই বছরের গুরুত্ব এবং সহযোগিতার গভীরত্ব আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন পদক্ষেপের ঘোষণা করেছে, যেগুলি থেকে শুধুমাত্র এক সময়ের রুশ ভারত মৈত্রীকে শুধুমাত্র আবার পুরনো দিনের মতই শুধু গুরুত্বপূর্ণ স্তরেই উন্নত করা সম্ভব হয় নি, এমনকি আরও সাবলীল করা সম্ভব হয়েছে. সব মিলিয়ে ২০০৯ সাল আমাদের দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক বিশেষ স্তরে উন্নীত করতে পেরেছে".

    "আপনি কি নির্দিষ্ট করে বলতে পারেন কোন ক্ষেত্রে এই সহযোগিতা সম্ভাব্য হয়েছে"?

    "এই শেষ হয়ে আসা বছরে অনেক নির্দিষ্ট কাজ করা গিয়েছে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট স্বত্ত্বেও দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে. যদিও আগের ধারণা মত তা হয় নি, তবুও আশা জেগেছে যে, আগামী ২০১০ সালে তা ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে এবং আর দশ বছরের মধ্যেই তা দ্বিগুণ হবে, যদিও দুই দেশের ক্ষমতার তুলনায় তাও খুবই সামান্য. কিন্তু এটা ইতিবাচক লক্ষণ.

    মনে রাখতে হবে বাণিজ্যের পরিমান বিষয়েও তফাত আছে, ভারতে রাশিয়া থেকে যা রপ্তানী হয়, তার অধিকাংশই উচ্চ প্রযুক্তির উত্পাদন, এর মধ্যে প্রথমতঃ আছে পারমানবিক প্রযুক্তি, পারমানবিক জ্বালানী সরবরাহ, কয়েকটি নতুন রিয়্যাক্টর রপ্তানী এবং শুধুমাত্র আগের জানা জায়গা গুলিতেই নয়, এমন কি নতুন করে ভারতের দক্ষিণে এবং বঙ্গ দেশে.

    দ্বিতীয়তঃ, রুশ ভারত যৌথ উদ্যোগে অসামরিক বহু কাজের উপযোগী বিমান নির্মাণের জন্য কাজ হচ্ছে, আর তা আশা করা হয়েছে যে, ২০১০ – ১১ সালের মধ্যেই ফল দেবে.

    তৃতীয়তঃ, সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ও এক অধুনা প্রসার হয়েছে, অ্যাডমিরাল গর্শকভ জাহাজের ভারতের নৌবাহিনীর জন্য পুনর্নির্মাণের বিষয়ে চুক্তি শেষ অবধি হয়েছে, ২০১২ সালে ওই জাহাজ ভারতীয় নৌ বাহিনী পেয়ে যাবে. ভারতের নৌবাহিনীর জন্য মিগ -২৯ বিমান বহরের বরাত পাওয়া গিয়েছে, এছাড়াও আরও বহু ক্ষেত্রে সামরিক প্রযুক্তির সহযোগিতা হয়েছে, ভারত ও রাশিয়ার যৌথ ভাবে বানানো ব্রামোস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরী করা সম্ভব হয়েছে. যদি গত বছরের শেষে এই সব বিষয় নিয়ে সন্দেহ থাকতেও পারত, তবে বর্তমানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের রাশিয়া সফরের পর সব সন্দেহের অবসান হয়েছে.

    রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অনেক জায়গাতেই আমাদের দুই দেশের সহযোগিতায় বিভিন্ন আঞ্চলিক বিবাদের ক্ষেত্রে সমাধান করার কাজ এগিয়েছে, এখানে আফগানিস্থান এবং পাকিস্থানের উত্তর পশ্চিম অংশের অশান্ত পরিস্থিতিও আছে এবং রাশিয়া ও ভারতের স্বার্থ এখানে সমতলেই আছে. ভারত, রাশিয়া এবং চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে ও প্রতিনিধিদলের মধ্যে আঞ্চলিক সমস্যার সমাধান বিষয়ে আলোচনা হয়েছে.

    সুতরাং বছরের মূল্যায়ণ করতে গেলে দেখব যে. ২০০৯ সাল আমার মতে ভারত ও রাশিয়ার রাজনৈতিক সাফল্যের বছর বলে মনে করাই যায়".