তুর্কমেনিস্থানের রাজধানী আশখাবাদে গাজপ্রম সংস্থার সহায়তায় মহাকবি পুশকিনের নামে রুশ-তুর্কমেন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি নতুন ভবন খোলা হয়েছে. এই বিদ্যালয়ের ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনা দুই দেশের একই মূল্যবোধ এবং পারস্পরিক ভাবে রাশিয়া ও তুর্কমেনিস্থানের বন্ধুত্বের যোগাযোগের উন্নতির প্রতিফলন, যার ভিত্তি সবচেয়ে ভাল ঐতিহ্য এবং গভীর আগ্রহের প্রমাণ আমাদের দুই জাতির লোকেদের মানসিক বন্ধনের, ঐতিহাসিক বন্ধনের, যা আমরা একই সঙ্গে বহু শতাব্দী ধরে এক সাথে মজবুত করেছি.

    রাশিয়া এবং তুর্কমেনিস্থানের রাষ্ট্রীয় শিক্ষা পরিষদের যৌথ আওতায় পড়া এই বিদ্যালয়ের উদ্বোধনকে দেশের নেতা তাঁর আশখাবাদ সফরের বিশেষ ঘটনা বলে মনে করেছেন, যা প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের নব্য স্বাধীন দেশগুলির মধ্যে প্রথম নতুন যৌথ বিদ্যালয়. এই প্রজাতন্ত্রের জন্য এটি বড় সম্মানের বিষয়, কারণ সমস্ত রুশ সংক্রান্ত বিষয়ই এখানে শ্রদ্ধার সঙ্গে মানা হয়ে থাকে. উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়া কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে এই বিদ্যালয়ের প্রধাণা শিক্ষিকা নাদেঝদা গোরিন বলেছেনঃ

    "আমাদের জন্যে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, কারণ বাড়ীটি অসম্ভব সুন্দর, বিদ্যালয়ের জন্য তৈরী. আশখাবাদ শহরের এক সুন্দরতম জায়গায় এটি খোলা হয়েছে. ৮০০ ছাত্র ছাত্রী এই বিদ্যালয়ে একসাথে পড়তে পারবে, এখানে খেলাধূলার জায়গা আছে, সাঁতার কাটার জন্য পুল আছে, কিন্ডার গার্ডেনের জন্য আলাদা ঘরও আছে. এই রকম একটা স্কুল তো স্বপ্নের বিষয়. এখানে শুধুমাত্র রুশ ভাষাতে পড়ানোই হয় না, পড়া শোনা হয় রাশিয়ার বিদ্যালয়ের পাঠ ক্রম মেনে. আর রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা সবসময়েই আকর্ষণীয়".

    পুশকিনের নামের এই বিদ্যালয় তুর্কমেনিস্থানে তৈরী হয়েছে রাশিয়া ও তুর্কমেন সরকারের চুক্তি অনুসারে. এটি তুর্কমেনিস্থানের একমাত্র রুশ ভাষার মাধ্যমিক বিদ্যালয়, যেখানে ১১ ক্লাস অবধি রাশিয়ার পাঠ ক্রম মেনে পড়ানো হয়. একই সঙ্গে প্রধাণা শিক্ষিকার মতে এখানে তুর্কমেনিস্থানের আঞ্চলিক বিষয়কেও গুরুত্ব দেওয়া হয়ে থাকে – যেমন, তুর্কমেনিস্থানের ইতিহাস এবং তুর্কমেন ভাষা ও রুহ নামা. কিন্তু রুশ ভাষা ও সেই ভাষাতে শিক্ষা কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, কারণ এই প্রজাতন্ত্রে রুশ ভাষা শিক্ষা আবশ্যিক. নাদেঝদা গোরিনের কথায় আশখাবাদের লোকেরা রুশ ভাষা ভালই জানেন এবং কথা বলেন কোন রকম টান ছাড়াই.

    রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা এই প্রজাতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. সেই কারণেই আজকের রাশিয়া এবং তুর্কমেনিস্থানের রাষ্ট্রপতিদের সাক্ষাত্কার বিশেষ করে শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে সহযোগিতাকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে. কিন্তু এই বিষয় জ্বালানী শক্তি বিষয়ে সহযোগিতাকে বাদ দিয়ে হতে পারে না, তাই দুই রাষ্ট্রপতি অনেক সময় এই বিষয়ের আলোচনাতে দিয়েছেন. অংশতঃ দুই রাষ্ট্রপতি ২০১০ সালের জানুয়ারী মাস থেকেই রাশিয়াতে আবার তুর্কমেনিস্থানের গ্যাস তিরিশ হাজার কোটি কিউবিক মিটার করার চুক্তি করেছেন.

    এই জ্বালানী শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা এই প্রজাতন্ত্রে শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে বিশ্ব মানের প্রকল্প গুলির বাস্তবায়নে সাহায্য করেছে, যেমন, এই নতুন ভবনের উদ্বোধন বা গত বছরে রাশিয়ার ই. এম. গুবকিন নামাঙ্কিত বিখ্যাত খনিজ তেল ও গ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাখা সৃষ্টি করা.