বিদেশী কোম্পানী গুলি অর্থনৈতিক সঙ্কট স্বত্ত্বেও রাশিয়ার কোম্পানী গুলির শেয়ার কিনতে আগ্রহী হয়েছে. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক কোম্পানী গুলির শেয়ার বিদেশী কোম্পানী গুলির ক্রয়ের বিষয়ে সরকারের কমিটি মিটিং এ আলোচনা হবে পনেরোটিরও বেশী বড় কেনা নিয়ে.

    ২০০৮ সালের গরমে সরকারের এই কমিটি তৈরী করা হয়েছিল, যাতে রাশিয়ার নিরাপত্তা এবং সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনের কোম্পানী গুলির শতকরা পাঁচ ভাগের বেশী শেয়ার বিদেশী কোম্পানী কিনতে চাইলে তার জন্য আসা প্রস্তাবকে সরকার যাচাই করে দেখতে পারে. রাশিয়া অন্য যে কোন আত্ম সম্মান জ্ঞান সম্পন্ন দেশের মতই জ্বালানী শক্তি, খনিজ দ্রব্য উত্তোলন, পরিবহন, টেলি যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে বিদেশী বিনিয়োগের গতিবিধির খেয়াল রেখে থাকে.

    বর্তমানের রাশিয়ার ইতিহাসে এমন ঘটনাও ঘটেছে, যখন বিদেশী কোম্পানীর হাতে প্রশাসনের ও দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানীর মালিকানা চলে গিয়েছিল. সেখানে নিয়ম করে এই ধরনের কোম্পানীকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়েছিল, কোম্পানীর যন্ত্র ও রসদের ভিত্তি সম্পূর্ণ ভাবে কাজের অযোগ্য করে দেওয়া হয়েছিল এবং খুব উচ্চ শিক্ষিত পেশাদার কর্মীরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছিলেন. আর দেশের প্রযুক্তি এমনকি যে সমস্ত প্রযুক্তি দেশের প্রয়োজনে সম্পূর্ণ গোপনীয় ছিল তাও কোন দিকে বয়ে চলে গিয়েছিল কেউ তার হদিস করতেই পারে নি.

    বিগত কয়েক বছরে এই সব ক্ষেত্রে একটি কাঠামো তৈরী করা সম্ভব হয়েছে. কিন্তু দেশের প্রশাসন মানতে বাধ্য হয়েছিল যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় মালিকানা খুব একটা ফলপ্রসূ হয় নি, তাই রাশিয়ার কোম্পানী গুলিতে ব্যক্তিগত মালিকানা এবং বিদেশী বিনিয়োগকে পথ করে দেওয়া হয়েছে ফল লাভের আশায়.

    এই বছরে পঞ্চম অধিবেশনে কমিটির বৈঠকে সাইপ্রাস, হল্যাণ্ড, সুইজারল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুরের কোম্পানী গুলির প্রস্তাব বিবেচনা করে দেখা হবে. এই দেশগুলির কোম্পানীরা রাশিয়ার জ্বালানী শক্তি, সুদূর উত্তরের খনিজ উত্পাদন, পরিবহন, টেলি যোগাযোগ এবং ব্যাঙ্কিং সেক্টরে বিনিয়োগ করতে চেয়েছে. এই কোম্পানী গুলি ও বিনিয়োগের পরিমান এখনও অপ্রকাশিত রয়েছে.

    রাশিয়ার বিদেশী সহযোগীদের বিনিয়োগের সক্রিয়তা আরও একবার প্রমাণ করছে যে, রাশিয়ার বাজারের সম্বন্ধে তাদের বহুদিন ধরে বিনিয়োগের আগ্রহ সমান ভাবেই বজায় আছে. বিশ্বাস আছে যে, সঙ্কট পরবর্তী কালে তা বৃদ্ধি পাবেই. গত বিদেশী বিনিয়োগ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই কথাই বলেছেন. রাশিয়ার উচ্চ অর্থনৈতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের প্রধান ইভগেনি ইয়াসিন প্রধান মন্ত্রীর মতকে সমর্থন করে বলেছেনঃ

    "আমি মনে করি বর্তমানের বিশ্বের বিনিয়োগের বাজারে যথেষ্ট জটিল অবস্থা রয়েছে, বিনিয়োগ কারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা হল কোথায় বিনিয়োগ করা সম্ভব তা নির্ণয় করা. প্রত্যেক কোম্পানী নিজের জন্য পথের সন্ধান করে থাকে, আর আমাদের দেশে বিনিয়োগের উত্সাহ মনে করিয়ে দেয় যে, বিশ্বের সব দেশেই কোম্পানীরা বিশ্বাস করে যে, রাশিয়াতে অবস্থার উন্নতি হবে অন্যান্য বাজার ও দেশের চেয়ে দ্রুত".

    বর্তমানে জাতীয় মোনোপলী নিবারণ কমিটির কাছে আশির বেশী প্রস্তাব এসে পড়ে রয়েছে, যেখানে বিদেশী বিনিয়োগ কারীরা রাশিয়ার কোম্পানীর শেয়ার কিনতে চেয়েছেন. জাতীয় বিনিয়োগ কমিটি মাত্র কয়েকটি প্রস্তাব দেখছেন এই ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, রাশিয়ার বাজার শুধুমাত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানী গুলির প্রস্তাবই বিবেচনা করে দেখছেন.