জাতীয় দুষ্কর্মের প্রতি বিক্ষোভ দেখানো হয়েছে জর্জিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর কুতাইসি তে, জর্জিয়ার প্রশাসনের প্রতিবাদী পক্ষ সরকারের কাজকে এই ভাবেই মূল্যায়ণ করেছেন, সরকারের হুকুমে গত শনিবারে শহরের সৈন্যবাহিনীর বিজয়ের স্মৃতি সৌধকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে. দুজন ব্যক্তি নিহত হয়েছেন.

    দেশের প্রধান বিরোধী দল গুলি এই বিক্ষোভ অংশ নিয়েছেন. তাঁদের মধ্যে অনেকেই স্মৃতি স্তম্ভ ধ্বংস করাকে প্রশাসনের খাম খেয়ালী পণা বলে আখ্যা দিয়েছেন. প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমানের ন্যায়ের জর্জিয়া পার্টির নেতা জুরাব নোগাইদেলি খোলাখুলি ভাবে যারা এই কাণ্ড করেছেন তাঁদের নাম বলে দিয়েছেন. তিনি বলেছেন যে, তিনি মনে করেন যে এই স্মৃতি স্তম্ভ ধ্বংস করার পিছনে যারা রয়েছে তাদের মধ্যে দুজন লোকের মৃত্যুর জন্য দায়ী দেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাকাশভিলি. নোগাইদেলি জর্জিয়ার সংবাদপত্র আসাভালদাসাভালি তে মত পোষণ করেছেন যে, এই দুষ্কর্ম যারা করেছে তাদের শাস্তি অবধারিত.

    এর আগে ন্যায়ের জর্জিয়া দলের নেতা ফ্যাসীবাদের সঙ্গে যুদ্ধে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের স্মৃতির প্রতি অশ্রদ্ধা যে জর্জিয়ার সরকার বর্তমানে দেখিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য করে বলেছেনঃ

    "এই স্মৃতি স্তম্ভ সাকাশভিলির জন্য নয়, বরং সেই সব অমর শহীদ দের স্মৃতির উদ্দেশ্যে, যাঁরা মহান পিতৃভূমির যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন. আমি আরো একবার আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, প্রত্যেক দশম জর্জিয়ার লোক এই যুদ্ধে প্রাণ বলিদান করেছেন. দশ জনের একজন আর ঘরে ফেরে নি".

    ইতিহাসের প্রতি, মানুষের আত্ম ত্যাগের প্রতি, এমনকি জর্জিয়ার সাধারন মানুষের প্রতি চরম ঘৃণ্য ব্যবহার করছে সাকাশভিলি ও তার প্রশাসন, তাদেরই ন্যক্কার জনক কাজের নিদর্শন এই স্মৃতিস্তম্ভ ধ্বংস করা. এই ক্ষেত্রে মনে করিয়ে দেওয়া যায়, স্মৃতি স্তম্ভ ভাঙা হয়েছে ২১ শে ডিসেম্বর সাকাশভিলির জন্ম দিনে. এ দিনে সে চেয়েছিল এই ধ্বংস লীলার সময়ে উপস্থিত থেকে দেখতে এবং এই জায়গায় নতুন জর্জিয়ার পার্লামেন্টের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে. কিন্তু জনতার বিক্ষোভের ভয় পেয়ে বিস্ফোরণ সময়ের আগেই ঘটানো হয়েছে.

    বর্তমানে প্রতিবাদী দল গুলি প্রশাসনের নতুন পার্লামেন্ট বসানোর মতলবে বাধা দিয়েছে, যেখানে স্মৃতি স্তম্ভ ছিল এবং নতুন করে দুজন লোকের অকালমৃত্যু হয়েছে, সেখানে পার্লামেন্টের ভবন বানানো যেতে পারে না. সেখানে ঠিক করা হয়েছে একটি অর্থোডক্স গির্জা বানানো হবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মৃত সৈনিক এবং বিস্ফোরণে কংক্রীটের টুকরোর ঘায়ে সদ্য মৃতা মা ও তাঁর কণ্যার স্মৃতির উদ্দেশ্যে তা অর্পণ করা হবে, এখন কথা হল সাকাশভিলি আর তার মতন লোকদের তা পছন্দ হবে কিনা.