আজ কায়রোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ যে আলোচনাতে ব্যস্ত রয়েছেন তার মূল বিষয় হল নিকট প্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থার ভবিষ্যত. আজ তিনি ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি হোসনি মুবারক এবং আরব দেশ গুলির লীগের মহাসচিব আমির মুসার সঙ্গে সাক্ষাত্কার করছেন.

নিকট প্রাচ্যের সমস্যার সমাধানের ভবিষ্যত এখনও অস্পষ্ট. ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের মধ্যে গত বছরের শেষে গাজা অঞ্চলে ইজরায়েলের বোমা বর্ষণের পর আলোচনার শুরু হওয়া খালি পিছিয়ে যাচ্ছে. বর্তমানে এই আলোচনা শুরু না হওয়ার অন্যতম কারণ বেনিয়ামিন নাথানিয়াখু ও তাঁর প্রশাসন প্যালেস্তাইনের অধিকৃত অঞ্চলে বসতি নির্মাণ বন্ধ করতে চাইছেন না. এই বিষয় বন্ধ না হলে প্যালেস্তানীয় প্রশাসন, যেখানে পি.এল.ও. এবং হামাসের মধ্যে বিভাজন প্রকট, তারা কেউই আলোচনাতে বসতে রাজী নয়. এই অস্পষ্ট ভবিষ্যত অঞ্চলে অশান্তি বাড়িয়েছে. রাশিয়া এবং ইজিপ্ট এই সমস্যার বিপদ সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল. তাঁরা চেষ্টা করে দেখছেন অবস্থার মধ্যে স্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং শান্তিপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার পথ করে দিতে.

আমাদের বিশেষ সংবাদদাতা কায়রো থেকে জানিয়ে বলেছেনঃ

"ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইনের আলোচনার অনড় অবস্থা খুব কম লোকের জন্যই চলতে পারে. তার ওপরে দু পক্ষের তরফেই দূরদৃষ্টি হীণ কার্যকলাপের ফলে অবস্থা এত দূর আয়ত্বের বাইরে চলে গিয়েছে যে, এখন তার সমাধান করা যেতে পারে শুধুমাত্র সারা বিশ্বের সবাই মিলে. প্যালেস্তাইনের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান কিছু দিন আগের মস্কো সফরের সময় অন্ততঃ সেই রকমই ধারণা দিয়েছিলেন. আর কিছু সময় আগে আরব লীগের মহাসচিব আমির মুসা এই ধারণা কে সমর্থনই করেছেন. তিনি বলেছেন যে, রাষ্ট্রসংঘের উচিত ইজরায়েল ও প্যালেস্টাইন সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেওয়া".

মস্কো আত্ম পক্ষের সমর্থনে এই রকম কোন পথ বের হলে তার বিরোধিতা করবে না. কিন্তু তেল আভিভ ও রামালা এই দুই রাজধানীর সরাসরি আলোচনার দাবী জানিয়েছে. আর শুরু করতে গিয়ে একটি চার দলের পরিষদ গঠনের কথা বলেছে, যেখানে রাশিয়া ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাষ্ট্রসংঘ, ইউরোপীয় সংঘ ও থাকবে, যাতে এই কাজে গতি আসে.

নিকট প্রাচ্যের সমস্যার সমাধানে রাশিয়া এবং ইজিপ্টের সহযোগিতা থেমে থাকছে না, ২০১০ সালের পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে সহযোগিতা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান বলেছেনঃ

"এই পরিকল্পনা যথেষ্ট জটিল এবং এই বছরের জুন মাসের শীর্ষ বৈঠকে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তার উপরই ভিত্তি করে আমাদের দুই দেশের প্রকল্প গুলি নির্ণয় করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও কাজ করবে. এই কাজের মধ্যে রয়েছে নিকট প্রাচ্য, আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়া, মধ্য প্রাচ্য ও এই সব অঞ্চলের নিরস্ত্রীকরণ, পারমানবিক অস্ত্র প্রসার রোধ, রাষ্ট্রসংঘের কাজের প্রসার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতির পরিস্থিতির পর্যালোচনা".

বোঝাই যাচ্ছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রশ্ন অবশ্যই বাদ পড়বে না. রাশিয়া ও ইজিপ্টের মধ্যে সঙ্কট স্বত্ত্বেও অর্থনৈতিক বিনিময় বেড়েছে. এই বছরেই দুই দেশের মধ্যে বিনিময়ের পরিমান ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে. ভবিষ্যতে তা আরও বাড়বে বলেই আশা করা হয়েছে. <sound>