শুল্ক সঙ্ঘ ও একক অর্থনৈতিক এলাকা গঠন – আলমা-আতায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ, কাজাখস্তানের রাষ্ট্রপতি নুরসুলতান নজরবায়েভ এবং বেলোরুশিয়ার রাষ্ট্রপতি আলেক্সা্ন্দর লুকাশেনকোর অংশগ্রহণে বেসরকারী শীর্ষসাক্ষাতের মুখ্য আলোচ্য বিষয়. তাঁরা শুল্ক সঙ্ঘ বলবত্ হওয়ার আগে সবকিছু খতিয়ে দেখছেন. এ সঙ্ঘ কার্যকরী হবে ২০১০ সালের ১লা জানুয়ারী থেকে.

   তিন রাষ্ট্রপতি সমবেত হচ্ছেন আলমা-আতার কাছে উচুঁ পাহাড়ী ক্রীড়া সম্বন্ধিত স্বাস্থ্য-নগরীতে, শুল্ক সঙ্ঘ গঠন শেষ করার জন্য. এদিকে, শীর্ষসাক্ষাতের বেসরকারী চরিত্রের জন্য তাতে অতি ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে খোলাখুলি মত বিনিময় হতে পারে. কথা হবে আঞ্চলিক পারস্পরিক ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে, এবং বর্তমান কালের চ্যালেঞ্জ ও বিপদের প্রতিরোধ করা সম্পর্কে. বিশেষ করে, আফগান সমস্যা সম্পর্কে, নার্কোটিক বিপদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের কর্তব্য সম্পর্কে.
   শুল্ক সঙ্ঘের প্রথম পর্যায়ে তিনটি রাষ্ট্র অংশ নিচ্ছে- কাজাখস্তান, রাশিয়া ও বেলোরুশিয়া. তবে দ্বার উন্মুক্ত- অন্যান্য দেশও এ চুক্তিতে যোগ দিতে পারে. শুল্ক সঙ্ঘ- এ হল সোভিয়েত পরবর্তী এলাকায় নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা গঠনের পথে প্রথম ধাপ, এ স্থিরবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রীয় দুমার স্বাধীন রাষ্ট্রবর্গ সংক্রান্ত ব্যাপার ও স্বদেশবাসীদের সাথে যোগাযোগ সংক্রান্ত কমিটির উপ সভানেত্রী তাতিয়ানা মস্কালকোভাঃ
   আজ আমরা শুল্ক সঙ্ঘ গঠন সংক্রান্ত দলিলের প্রায়োগিক বাস্তবায়নে পদার্পণ করছি. এটি রাশিয়া, বেলোরুশিয়া ও কাজাখস্তানের সমন্বয় সাধনের মূলনীতিগত নতুন পর্যায়. শুল্ক সঙ্ঘের মর্ম হল- একক শুল্ক এলাকা গঠিত হচ্ছে যার ভেতরে শুল্ক চৌকি থাকবে না, এবং ফলে পণ্য আবর্তন বাড়বে. আর তার ফলে এ সঙ্ঘের দেশগুলির অর্থনীতি আরও নমনীয় হবে, সঙ্কটের বিরুদ্ধে আরও স্থিতিশীল হবে,
   বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে এ সঙ্ঘের অর্থনৈতিক লাভের হিসেব করছেন. তাঁদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাশিয়ায় আমদানির গড় ভারসাম্যপূর্ণ শুল্ক কমবে প্রায় ১ শতাংশ. এদিকে প্রধান প্রধান পণ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে রাশিয়ার শুল্কের পরিমাণে পরিবর্তন হবে না. যেমন, বিদেশী মার্কার মোটরগাড়ীর আমদানির শুল্ক রাশিয়ার মডেলের সমান হবে. তাতে, শুধু রাশিয়ার মোটর উত্পাদকদেরই উপকার হবে না, বহু বিদেশী কোম্পানি, যারা রাশিয়ায় ও কাজাখস্তানে নিজেদের কারখানা তৈরি করেছে, প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাবে.
   উল্লেখযোগ্য যে, রাশিয়া, বেলোরুশিয়া ও কাজাখস্তানের বাজারের পরিমাণ, বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই লক্ষ কোটি ডলারের উপর. এখানে পৃথিবীর বৃহত্তম সঞ্চয় রয়েছে হাইড্রো-কার্বনের এবং বিকাশের বিপুল সম্ভাবনা আছে. এইভাবে, শুল্ক সঙ্ঘ খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তবুও এ হল আরও বড় লক্ষ্যের দিকে- একক অর্থনৈতিক এলাকা গঠনের দিকে একটি ধাপ মাত্র. ইউরোসঙ্ঘ কর্মবলের স্বচ্ছন্দ গতিবিধিতে, শুল্ক সীমানা বাতিল এবং একক মুদ্রায় এসেছে প্রায় ৪০ বছরে, কিন্তু ইউরেশীয় অর্থনৈতিক সমিতি, যাতে অন্তর্ভুক্ত রাশিয়া, বেলোরুশিয়া, কাজাখস্তান, কির্গিজিয়া, তাজিকিস্তান তা করতে পারবে তার চেয়ে অনেক কম সময়ে. আশা করা হচ্ছে যে, আলমা-আতায় রাষ্ট্রপতিরা রাশিয়া, বেলোরুশিয়া ও কাজাখস্তানের একক অর্থনৈতিক এলাকা গঠনের পরিকল্পনার খসড়া আলোচনা করবেন. সোভিয়েত পরবর্তী এলাকা অধ্যয়ন কেন্দ্রের ডিরেক্টর জেনারেল আলেক্সেই ভ্লাসোভের স্থিরবিশ্বাস যে , এ হল গুরুতর অগ্রগতি, যা সোভিয়েত পরবর্তী এলাকায় সমন্বয় সাধনের প্রমাণ দেয় এবং তা বাস্তব, তা কল্পনা নয়, আর তার অর্থ, আরও এগিয়ে যাওয়া যেতে পারেঃ
   এখন নতুন কর্তব্য উথ্থাপিত হচ্ছে- শুল্ক সঙ্ঘের মাধ্যমে ধীরে ধীরে একক অর্থনৈতিক এলাকায় উত্তরণ. এই দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়নে শুধু এই তিন দেশই নয়, অন্যরাও আগ্রহ প্রকাশ করছে. যেমন কির্গিজিয়া শুল্ক সঙ্ঘের কাজে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জোর কণ্ঠে বলা শুরু করেছে.
   বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাষ অনুযায়ী, ইউরেশীয় অর্থনৈতিক সমিতির এলাকায় অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতি আগামী বছরগুলিতে বাড়বে. আর শুল্ক সঙ্ঘের গঠন এ প্রক্রিয়ায় একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করবে. তা জাতীয় পরিকল্পনা ও যৌথ প্রকল্প ফলপ্রসূভাবে সঙ্গতি সাধনের, চাহিদা ও প্রস্তাবের স্থিতিশীলতা এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করবে. আর, এইভাবে, সমাজের প্রধান লক্ষ্য- ইউরেশীয় অর্থনৈতিক সমিতিকে পৃথিবীতে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক বৃদ্ধির এলাকায় পরিণত করার দিকে সক্রিয়ভাবে এগিয়ে যাওয়া যাবে.