আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের কর্মী ভ্লাদিমির এভসেয়েভ মনে করেন যে, মার্কিন কংগ্রেসের রাশিয়াকে ন্যাটো সদস্য দেশ গুলি ও ইউরোপীয় সংঘের থেকে বড় অস্ত্র সম্ভার বা অন্য কোন আক্রমণাত্মক অস্ত্র প্রযুক্তি বিক্রী না করার নতুন সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে আলোচনা করার চেষ্টা, ন্যাটোর মহা সচিবের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণার সম্পূর্ণ ভাবে পরিপন্থী. বিশেষজ্ঞ বিশ্বাস করেন যে, এই ধরনের প্রচেষ্টার কারণ কয়েকজন মার্কিন কংগ্রেসের সদস্য আগের মতই চেষ্টা করে যাচ্ছেন মস্কো ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফয়দা লোটার.

    এই সিদ্ধান্তের সূচনা করেছেন রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যা ইলিয়ানা রস-লেইটিনেন, যিনি পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে কমিটির সদস্যা. দেখাই যাচ্ছে যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ফরাসী হেলিকপ্টার বহন কারী জাহাজ মিস্ত্রাল কেনার বিষয়ে কথাবার্তা শুরু হওয়ার পরেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে. ন্যাটো জোটের মহাসচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেনের মস্কো সফরের সময় করা ঘোষণার সঙ্গে এই উদ্যোগ কি করে মিলতে পারে? কারণ তিনি তো বলে গেলেন যে, রাশিয়ার নতুন সামরিক নীতিতে যেন ন্যাটো জোটের সাথে সহযোগিতার কথা থাকে. মনে হয়েছিল রাশিয়া ও পশ্চিমের নেতৃত্বের মধ্যে কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনা ও উত্সাহ আছে. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সব সময়ই কিছু শক্তি রয়েছে যারা রাশিয়া এবং আমেরিকার বিবাদ সৃষ্টি করে রাজনীতিতে টিকে থাকতে চায়. ভ্লাদিমির এভসেয়েভ বলেছেনঃ

    "এই সময়ে এরকম একটা দলিল নেওয়ার কোন ভিত্তি নেই, বিশেষত যখন রাশিয়া ও মার্কিন সম্পর্ক মজবুত হচ্ছে. রাশিয়া বাইরের দেশ থেকে এমনিতেই বড় কোন সামরিক অস্ত্র কেনার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে, বিশেষত মিস্ত্রাল জাহাজের মত কিছু কিনতে. আর এই ধরনের কোন সিদ্ধান্ত হলে রাশিয়া আরও বেশী করে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয় এমনকি ন্যাটো জোটের সদস্য বাকী দেশ গুলি থেকেও কিছু নেবে না. ন্যাটোর মহা সচিবের ঘোষণার সঙ্গে এর কোন মিলই নেই, যেখানে বলা হয়েছে যে ব্রাসেলস চায় রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তির বিষয়ে সহযোগিতা করতে, অংশতঃ হেলিকপ্টার গুলির আধুনিকীকরণের জন্য, যা আজও ন্যাটোর নতুন সদস্য মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলি এবং আফগানিস্থানে রয়েছে. একই সঙ্গে এই দলিলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিষয়ে বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গেও মেলানো যায় না. আরও এই দলিল রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনা বেচার বিষয়কে কঠিন করে তুলবে".

    এই দলিল অবশ্য মার্কিন কংগ্রেসে গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ বেশীর ভাগ সদস্যই ডেমোক্র্যাট দলের এবং তাঁদের নেতা বারাক ওবামা রাশিয়ার বিষয়ে অনেক নমনীয় নীতি নিয়েছেন, রিপাব্লিকান দের তুলনায়. শ্রীমতী রস-লেইটিনেন এটি বিলক্ষণ জানেন.