নেপাল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী মাওবাদীরা জানিয়েছে যে তারা  রাজধানী কাঠমান্ডু দখল করে সেখানে স্বাধীন রাষ্ট্র ঘোষণা করেছে. নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা পুষ্প কমল দহল বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, এই অঞ্চলে আরও তেরটি স্বাধীন রাষ্ট্র সৃষ্টি করা হবে, যেখানে মাওবাদীরা আগে সমান্তরাল সরকার তৈরী করেছিল.

    আমাদের সমীক্ষক বিশদ করে লিখেছেন.

    নেপালে রাজ তন্ত্র উচ্ছেদের পর তিন বছর কেটে গেছে, যা বিগত ২৪০ বছর ধরে রাজত্ব করেছিল, আর দেশ যেন একটা দিক শূণ্যতায় ভুগছে. আভ্যন্তরীন রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জীর্ণ দেশের সরকার যেখান থেকে পার্লামেন্টের একের তৃতীয়াংশ সদস্য পদের দখলদার মাওবাদীরা বেরিয়ে গিয়েছিল, তা এক অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে. রাস্তায়, বাজারে চলছে মাওবাদীদের হিংসা আর মিছিলের বহর. সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে দেশে একনায়কতন্ত্র চালানোর চেষ্টা করছে মাওবাদীরা.

    রাজধানী দখলের এই শেষ নাটকে তারা লাল পতাকা, গুলি বর্ষণ ও বীভত্স জোরে গান চালিয়ে যে কাণ্ড করছে, তাতে একটা জিনিস ভালই বোঝা যাচ্ছে যে, মাওবাদীরা দেশকে একটা গভীর অশান্ত পরিস্থিতিতে ঠেলে দিয়েছে ও এরপর কি হতে পারে তা কেউই জানে না. দেশ বিদেশের পর্যবেক্ষকেরা বলেছেন, মাওবাদীরা অবশ্যই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিস্ফোরণ করতে জেনেছে, কিন্তু দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের বিষয়ে তাদের জ্ঞানের ভান্ডার শূণ্য. দেশকে ভাঙতে তারা পারে, কিন্তু গড়তে নয়.

    অংশতঃ নেপালের এই অবস্থা সম্বন্ধে রাশিয়ার নেপাল বিশেষজ্ঞ প্রফেসর সের্গেই লুনেভ বলেছেনঃ

    "মাওবাদীরা দেশ পরিচালনার বিষয়ে কিছু জানে না, দেশের অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য তাদের কিছুই দেওয়ার নেই. তারা শুধু পারে রাজনৈতিক পদে বিস্ফোরণ করতে আর বিভিন্ন জায়গা কে স্বাধীন বলে ঘোষণা করতে. রাজনীতি ও অর্থনীতির বিষয়ে গভীর কোন চিন্তা করা তাদের শক্তির ও এক্তিয়ারের বাইরে. তারা আশা করে বসেছিল যে, চীন থেকে আসবে সমর্থন, কিন্তু এখানে ভারতের স্বার্থ জড়িত এবং ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে হিমালয়ের বর্তমান বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতিতে, যেখানে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, সেখানে চীনের রাজনীতি নিয়ে ভারত চিন্তিত. নেপালে চীনের ভূমিকা ভারতকে ভাবাচ্ছে, বেইজিং তাই মনে হয় মাওবাদীদের সম্বন্ধে পরিস্কার বলেছে যে, মহান মাও সে তুং এর সাথে এই মাওবাদী অসুরদের কোন সম্বন্ধ নেই.

    আমি মনে করি বর্তমানের নেপালের পরিস্থিতিতে মাওবাদীদের রাজনৈতিক ভান্ডার শূণ্য. তারা সম্পূর্ণ ভাবে রাজনৈতিক অর্থে শক্তি হীণ হয়ে পড়েছে. তারা এই সব কাণ্ড করছে কারণ দেখতে পেয়েছে সাধারন মানুষ তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, বাকী রাজনৈতিক দল গুলিকে এই কাণ্ড এক করবে এবং নতুন রাজনৈতিক সম্মিলিত দলের সৃষ্টি হবে যাতে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়".