কোপেনহেগেন শহরে বিশ্ব পরিবেশ সংরক্ষণ সম্মেলনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আজ তাঁর বক্তব্য রাখবেন. শতাধিক দেশের নেতা ও সরকার প্রধানেরা আজ ডেনমার্কের রাজধানীতে জমা হয়েছেন, যাতে এই সম্মেলনের আলোচনায় সঠিক জোর দেওয়া যায় এবং কিয়োটো প্রোটোকলের পরবর্তী চুক্তির বয়ানের জন্য সঠিক নীতি তৈরী করা সম্ভব হয়. আলোচনায় যে প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছিলেন, তাঁরা গত দুই সপ্তাহ ধরে অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেন নি. এই সম্মেলনকে এখনই অনেকে বলেছেন অর্থহীণ এবং প্রায় নিষ্ফল.

    রাশিয়া মনে করে যে কোন চুক্তি বা সমঝোতার জন্য এই সম্মেলনে যদি কোন বয়ান তৈরী হয়, তবে তাতে সমস্ত দেশেরই নির্দিষ্ট দায়িত্বের কথা লেখা থাকবে. দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার জাতীয় পরিবেশ সংরক্ষণ নীতির কথা বলবেন এই সম্মেলনে. ডেনমার্ক যাওয়ার আগে তিনি এই জাতীয় দলিলে স্বাক্ষর করেছেন.

    মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, রাশিয়া চেষ্টা করবে বাতাসে দূষণ সৃষ্টি কারী গ্যাসের নির্গমণ আগামী ২০২০ সালের মধ্যে ১৯৯০ সালের সঙ্গে তুলনায় শতকরা ২৫ ভাগ কমাতে. সেই কারণে রাশিয়াতে ১৯৯০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আবহাওয়ায় দূষণের পরিমান কম হবে ৩০ বিলিয়ন টন. এই সংখ্যা বিশ্বের পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজের ভান্ডারে একটি বিশাল অনুদান.

    আজ রাশিয়ার শিল্পের আবহাওয়াতে দূষণের পরিমান ভিত্তি মূলক স্তরের থেকে ৩৪ শতাংশ কম. তাই যখন ২৫ ভাগের কথা বলা হয়েছে, তখন বোঝাই যাচ্ছে যে আমাদের শিল্পের আরও উন্নতি করার জন্য জায়গা রয়েছে. এই সংখ্যা যথেষ্ট বার শিল্পের আধুনিকীকরণ ও জ্বালানী সংরক্ষণের কথা মাথায় রেখে হিসেব করে তবেই বলা হয়েছে. ২০০০ সালের পর থেকে রাশিয়ার অর্থনীতির বৃদ্ধির হার ছিল শতকরা ৮ শতাংশ, আর দূষণের যোগ্য গ্যাসের নির্গমণ শতকরা ১ শতাংশ. জানিয়েছেন, বিশ্ব বন্য প্রাণী ও বনাঞ্চলের রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই ককোরিন, তিনি বলেছেনঃ

    "পরিবেশ দূষণের হার কমানোর জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় উপায় এবং বিশেষত রাশিয়ার জন্য হল – জ্বালানী শক্তি সংরক্ষণ এবং শক্তির প্রয়োগে ফল বেশী করে পাওয়া. উত্তাপ পরিবহনের ক্ষেত্রেও আরও দাম কমানোর চেষ্টা, আরও নতুন যন্ত্রপাতি. জাতীয় ক্রয়ের নীতি পাল্টানোর দরকার, যা আজ একেবারেই শক্তি সংরক্ষণের উপযুক্ত যন্ত্রপাতি কিনতে সাহায্য করছে না, বাস্তু নির্মাণের স্ট্যান্ডার্ড বদলানো দরকার, যাতে নতুন বাড়ী নির্মাণ ও পুরনো বাড়ী মেরামতের ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণ করা যায়. অবশ্যই এই সবই একসাথে আমাদের এমন জায়গায় নিয়ে যাবে, যাতে পরিবেশে নির্গত দূষণ থাকলেও বা আগামী কয়েক বছরে তা বাড়লেও, কম বাড়বে. বছর দশেক পরে বোধহয়, এই পরিমান স্থিতিশীল হবে আর এটাই প্রমাণ করবে যে, আমরা উন্নতি করছি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে".

    কোপেনহেগেন সম্মেলনে যে চুক্তির কাঠামো তৈরী হবে এই আশা কমেই আসছে, রাশিয়া আশা করেছে যে, কিছু একটা রাজনৈতিক রাস্তার মানচিত্র (রোড ম্যাপ) তৈরী হবে, যাতে আগামী মাস ও বছর গুলির জন্য পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য কাজের পরিকল্পনা করা থাকবে. ককোরিন বলেছেনঃ

    "রাশিয়া সবার জন্য একটি চুক্তির পক্ষে বক্তব্য রেখেছে, এটা প্রথমতঃ. দ্বিতীয়তঃ হল, কোপেনহেগেনে এই সম্বন্ধে বলা হয়েছে এবং মস্কোতেও সমর্থন করা হয়েছে যে, বেশ কয়েকটি রাস্তার মানচিত্র বানানোর দরকার আছে – একটা ২০৫০ সাল অবধি, যা নতুন চুক্তির শুরু তে থাকবে, আর  একটা ২০২০ সাল অবধি, যেখানে দেশ গুলির দায়িত্ব উল্লেখ করা হবে. আরও দরকার আগামী বছরের জন্য. কারণ সকলেই বুঝতে পেরেছে যে, এখানে চুক্তি করা সম্ভব হবে না".

    কোপেনহেগেন সম্মেলনের একটি ইতিবাচক দিক হল অনেক দেশই তাদের পরিবেশ দূষণ কমানোর কথা ঘোষণা করেছে, যেমন, চীন ২০০৫ সালের তুলনায় ২০২০ সালে দূষণের পরিমান শতকরা ৪০-৪৫ ভাগ কমানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে. জাতীয় ভাবে ভারত, ব্রাজিল ও অন্যান্য উন্নতিশীল দেশ গুলিও পরিকল্পনা গ্রহণ করছে. রাশিয়াও শক্তি সংরক্ষণ নীতি চালু করেছে, তা কোপেনহেগেনের বিশ্ব পরিবেশ সম্মেলনে যা ফলই হোক না কেন.

<sound>