পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী দক্ষিণ ওয়াজিরস্থানের পর পাক আফগান সীমান্ত অঞ্চলের নতুন জায়গা গুলিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবী অনুযায়ী সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান চালানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন. মানেটা কি দাঁড়াচ্ছে, পাকিস্থান তাহলে তালিবান আন্দোলনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান মুলতুবি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে?

মনে তো হয় না যে, মার্কিন প্রশাসন পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতির প্রত্যাখ্যান শুনে খুব খুশী হয়েছে. মনে করিয়ে দিতে পারি যে, রাষ্ট্রপতি ওবামার নতুন স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী পাকিস্থানের এই অঞ্চলের জন্য বেশী মনোযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে. অংশতঃ সেখানে বিশেষ করে বলা হয়েছে যে, ইসলামাবাদের প্রশাসনের এই অঞ্চলে সক্রিয় সাহায্য না থাকলে আফগানিস্থানের তালিবদের ধ্বংস করা আরও কঠিন হবে.

আর বিগত কিছু কাল আগে পর্যন্ত ইসলামাবাদ নিজেও বলছিল যে, দক্ষিণ ওয়াজিরস্থান থেকে তালিব হঠানো শেষ হলে দেশের সেনাবাহিনী উত্তর ওয়াজিরস্থানের ও পাক আফগান সীমান্তের অন্যান্য আরও কয়েকটি জায়গায় যুদ্ধ চালাবে. তবু, সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, এখনই তারা এই কাজ করতে তাড়া করছে না.

কি এমন হল যে, পাকিস্থানের প্রশাসন এমন সিদ্ধান্ত নিল, কি করেই বা এর ব্যাখ্যা করা সম্ভব. এই সম্বন্ধে পাকিস্থান বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেনঃ

"প্রথমতঃ, পাকিস্থানে উদ্বেগ বাড়ছে যে, এই যুদ্ধ চলতেই থাকবে এবং তালিবদের দলে আরও নতুন সৈন্য জমা হতেই থাকবে আফগানি তালিবদের মধ্যে থেকে. দ্বিতীয়তঃ, ইসলামাবাদে ভয় পাচ্ছে যে, সেনা বাহিনীর প্রযোগ বেশী করা হলে. এই যুদ্ধ দেশের অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়বে এবং স্থানীয় জনসাধারন বাড়ী ঘর ছেড়ে পালিয়ে পাকিস্থানের এমনিতেই ভয়ানক উদ্বাস্তু সমস্যা কে আরও সঙ্গীণ করে তুলবে. মনে করিয়ে দিতে পারি যে, সোয়াত উপত্যকাতে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময়ে পাকিস্থানে প্রায় কুড়ি লক্ষের ও বেশী উদ্বাস্তু ছিল.

তার ওপর বৈদেশিক নীতির বিষয়ও রয়েছে, পাকিস্থানে ওবামা নীতি অনুযায়ী পাক আফগান সীমান্ত অঞ্চল এবং এমন কি পাকিস্থানের ভিতরেও প্রয়োজনে মার্কিন সৈন্য বাহিনীর অভিযানের বিষয়ে নিজেদের অসন্তুষ্টির কথা জানানো হয়েছে. এর আগেও পাকিস্থান খুবই গুরুত্ব দিয়েছে আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর পাকিস্থানের ভিতরে ঢুকে পড়ে তালিবান দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর বিরোধীতা করে.

পাকিস্থানে বলা হয়েছে যে, আমেরিকানরা শুধুমাত্র তাদের নিজেদের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে রসদ ও অর্থ যোগাতে পারে.আর এই সূত্রেই পাকিস্থান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবার অর্থ সাহায্য চেয়েছে. নিজের উত্তরে পাকিস্থানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারী বারাক ওবামাকে ও মার্কিন প্রশাসনকে জানিয়েছেন যে, গত মে মাস থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত সোয়াত উপত্যকা অঞ্চলের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানেই শুধু প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার খরচা হয়ে গেছে.

কিন্তু সমস্ত উদ্বেগ যেগুলির কথা এখানে বলা হল, সেগুলি ছাড়াও পাকিস্থান মনে হয় না দেশের উত্তর পশ্চিমে নিজেদের সন্ত্রাস বিরোধী অভিযান বন্ধ করবে, যদি ওয়াশিংটন ইসলামাবাদের প্রয়োজনীয় অর্থ ও রসদ যোগানের জন্য ব্যবস্থা করতে পারে".