বিশ্বের উত্পাদনের শতকরা ১৮ ভাগ সোনা নিজেদের সোনা ও বিদেশী মুদ্রার ভান্ডারে দ্রুত গতিতে জমা করেছে নানা দেশের রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গুলি, এই খবর জানিয়েছে নিউইয়র্কের মূল্যবান ধাতুর বাজারের বিশ্লেষণ কারী সংস্থা সি পি এম গ্রুপ.

    গত ১১ বছরের পর্যবেক্ষণের পর এই প্রথম সি পি এম গ্রুপ বলেছে যে, দেশগুলির অর্থ দপ্তর বেশী করে হলুদ মূল্যবান ধাতুকে দ্রুত বিনিময় যোগ্য ডলার বা ইউরোর থেকে বেশী পাত্তা দিয়েছে. এই কাজটি করা হয়েছে বিশ্বের বাজারে সোনার দাম আগুন যখন হচ্ছে, তখনই. আর্থিক বছরের শেষ এখনও হয় নি, অথচ সোনার মূল্য আরও একবার রেকর্ড ছাড়িয়েছে, এক আউন্সের জন্য ১২০০ ডলারের বেশী দাম চাইছে. শিল্প বা জহুরিরা সোনার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেও এই বিরল ধাতুর বাজার কিন্তু দাম বাড়িয়েই চলেছে.

    শুধুমাত্র সোনার বাজারের মতলবি ব্যবসায়ীদের কাণ্ড ভেবে এটাকে আর অবহেলা করা যাচ্ছে না. সোনা বর্তমানে বিশ্বের দামী বিদেশী মুদ্রার দামের অস্থায়ী অবস্থার প্রতিকারে ব্যবহার করা হচ্ছে. এই বিষয়ে বিশেষ করে বলা যেতে পারে যে, এই মূল্যবান ধাতু কিন্তু বহুকাল হল খুব একটা বিনিময় যোগ্য বলে মনে করা হয় না. জিনিস বা পরিষেবার দাম বহুকাল হল এই ধাতুতে দেওয়া বন্ধ হয়েছে এবং তা সংরক্ষণ করাও খরচ সাপেক্ষ ব্যাপার. সি পি এম গ্রুপের বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন যে, সারা বছর ধরেই সোনার দামের বিষয় নিয়ন্ত্রণ করেছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশ গুলির রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গুলিই. তারা এই বছরে ৪২৯ টন কিনেছে ১৫, ৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করে. উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ৪ঠা ডিসেম্বর রাশিয়ার সোনা ও মুদ্রা জমার পরিমান আগের চেয়ে ১, ৫ বিলিয়ন ডলার বেড়ে এখন ৪৫১, ২ বিলিয়ন ডলার হয়েছে. এর মধ্যে অবশ্য কতটা সোনা তা জানে শুধু রাশিয়ার অর্থ দপ্তর. বিশ্লেষকেরা মনে করেছেন রাশিয়ার এই জমার পরিমান শতকরা ৯ শতাংশ. লন্ডনের সোনা বাজারের বিশেষজ্ঞ বলেছেন এখন থেকে সোনা ভবিষ্যতের মুদ্রা বিনিয়োগ বাজারে গত ২০ বছরের তুলনায় বেশী গুরুত্ব পাবে. বিশ্বায়নের সমস্যা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর মিখাইল দেলিয়াগিন মনে করেন যে, বিশ্বের সার্বিক অর্থনৈতিক অস্থিতি এই 'হলুদ শয়তানের' প্রতি অস্বাভাবিক আগ্রহের জন্য দায়ী, তিনি বলেছেনঃ

    "রিজার্ভ ব্যাঙ্ক গুলি নিজেদের ভান্ডার সোনা দিয়ে ভর্তি করতে শুরু করেছে, কারণ ভাবা হয়েছে সোনা সবচেয়ে বোধগম্য এবং স্থিতিশীল. কেউই এখনো বলতে পারছে না বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কটের গতি কোন দিকে হবে. আমার মনে হয়েছে এটা বিদেশী মুদ্রার বাজারের নীতির গুরুত্বপূর্ণ কোন বদল নয়. সোনা এখনও বিশ্বের বড় দেশগুলির ভান্ডারের একটি বিশেষ অংশ দখল করে আছে. এই পুরনো পন্থা অনেকেরই এখনো মেনে নিতে সুবিধা হয়, আর নতুন কোন নিয়ম ও এখনও নেই. আপাততঃ চলে আসা বিদেশী মুদ্রা ও সোনার ভান্ডারের আপনা হতেই ভেঙে পড়ার কথা এখনই ভাবা সম্ভব নয়, কারণ কিছুটা শক্ত হওয়ার মত ক্ষমতা এখনও আছে. এক বছর আরও থাকতে পারবে".

    কিন্তু আমেরিকার সি পি এম গ্রুপের বিশ্লেষকেরা নিজেদের ব্যাখ্যায় খুবই সমালোচনা করেছেন. তাঁদের মতে ডলারের বিশ্বের বাজারে অন্যতম বিনিময় ও সঞ্চয় যোগ্য মুদ্রার খ্যাতি দ্রুত হারানোর জন্যই এই সোনার দিকে ঝোঁক বেড়েছে. এই অবস্থায় বিশ্বের আর্থ বিনিয়োগ ব্যবস্থায় বড় মাপের পরিবর্তন আসার উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে.