২০১০ সালে বিশ্ব অর্থনীতিতে এই বছরের চেয়ে আরও বেশী করে তেল দরকার পড়বে বলে খনিজ তেল রপ্তানী কারক দেশ গুলির সংস্থার (ওপেক) শেষ মাসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে. এই সংস্থার বিশেষজ্ঞরা বিশ্বের অর্থনীতি সুস্থ হওয়ার লক্ষণকে তেলের চাহিদা বাড়ার কারণ বলে মনে করেছেন. এই রিপোর্টে রাশিয়াতে তেলের উত্পাদনের ভবিষ্যত পরিমান সম্বন্ধেও বলা হয়েছে.

    গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক জ্বালানী শক্তি এজেন্সী নিজেদের রিপোর্ট দিয়েছিল, একই ধরনের আশার সংবাদ দিয়ে. আ.জ্বা.শ.এ. জানিয়েছে যে, ভারত ও চীনের জন্যই এই চাহিদা বাড়বে. ওপেক বলেছে এই দেশ গুলির জন্যই বিশ্ব অর্থনীতির হাল ফিরবে.

    লক্ষ্য করার বিষয় হল খনিজ তেলের উত্পাদনের ক্ষেত্রে যারা আগামী বছর আগে থাকবে, তারা কেউই ওপেক সংস্থার সদস্য নয়. ব্রাজিল, কাজাখস্থান, আজারবাইজান, কলম্বিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া. রাশিয়া এই বছরেই উত্পাদন বাড়িয়েছে, সোভিয়েত দেশ পতনের পর প্রথম বার রেকর্ড পরিমান তেল উত্পাদিত হয়েছে. দেশের সঙ্কট ক্ষতিগ্রস্থ বাজেটের অনেকটাই এই বাড়তি খনিজ তেলের আয় দিয়ে পূর্ণ করতে হয়েছে. রাশিয়ার উপ প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর সেচিন এই সংবাদ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ কে. তিনি বলেছেনঃ

    "রাষ্ট্রীয় বাজেটে জ্বালানী রপ্তানী থেকে ১, ৮ ট্রিলিয়ন রুবল জমা পড়েছে. এই পরিমান বাজেটের থেকে ১৩১ শতাংশ বেশী. এই কাজ করা সম্ভব হয়েছে, নতুন তৈলক্ষেত্র যোগ হওয়াতে. এই ক্ষেত্র গুলির জন্য সঙ্কটের সময়ও বিনিয়োগ করা হয়েছে. রাশিয়ার কোম্পানী গুলি বেশী তেল উত্পাদন করেছে পূর্ব সাইবেরিয়ার ১৩টি তৈলক্ষেত্র থেকে উত্পাদিত তেলের উপর রপ্তানী শুল্ক শূণ্য বলে ঘোষণার ফলে. যে সিদ্ধান্ত গত বছরের হেমন্তে সরকার নিয়েছিল এবং আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়েছিল যে, তাতে সরকারের লাভ হওয়ার কথা নয়. কিন্তু খনিজ তেল ও তার থেকে উত্পন্ন পণ্যের উপর রপ্তানী শুল্ক কমিয়ে দেওয়ার ফলে তেল কোম্পানী গুলির উপর করের বোঝা কমেছে, যা এর আগে সঙ্কটের সময়ে তেল কোম্পানী গুলির উপর করের পরিমান বাড়িয়ে দিয়েছিল প্রায় সাত হাজার কোটি রুবল. হিসাব দেখা গেল সরকার ঠিকই করেছে এবং ফল পেতেও দেরী হয় নি".

    ওপেক এবং আ.জ্বা.শ.এ. সংস্থার বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন যে, এই বছর আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের সবচেয়ে খারাপ বছরের একটি. কিন্তু ২০১০ সালে সম্ভাবনা রয়েছে নেতিবাচক লক্ষণের জায়গা ইতিবাচক লক্ষণ নিয়ে নেবে.