মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির সাথে নতুন নিয়মিত আলোচনার ব্যবস্থা করতে চলেছে, যাতে এই দেশ গুলির সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পায় এবং বাস্তব ক্ষেত্রে তা কাজে পরিণত করা যায়. এই বিষয়ে মার্কিন কংগ্রেসের অধিবেশনে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্বে থাকা সহকারী মহাসচিব জর্জ ক্রল ঘোষণা করেছেন.

আমেরিকার কূটনীতিবিদ বলেছেন, এই রকমের প্রথম বাত্সরিক আলোচনা ও সাক্ষাত্কার এই সপ্তাহের শেষে ওয়াশিংটনে উজবেকিস্থানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভ্লাদিমির নোরভের সফরের সময় হবে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনা করছে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই ধরনের আলোচনা কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান ও তুর্কমেনিয়ার সঙ্গেও করতে. জর্জ ক্রল বলেছেন, এই ধরনের আলোচনা হবে বাস্তবে প্রয়োগ যোগ্য পদক্ষেপ গুলি নিয়ে, যাতে উভয় পক্ষেরই স্বার্থের উপযোগী সমস্যা সমাধান করা যায়. অংশতঃ প্রশাসনের প্রতিনিধি উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খুবই চাইছে আফগানিস্থানের নূতন স্ট্র্যাটেজির বিষয়ে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলি আরও সক্রিয় ভূমিকা নিক. এই বিষয়ে বিশেষ করে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহের ইনস্টিটিউটের মধ্য এশিয়া সংক্রান্ত বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই গ্রোজিন বলেছেনঃ

"আমেরিকা চেষ্টা করছে একদিকে নিজেদের বর্তমানের সমস্যার সমাধান করতে, যাতে উত্তরের দিক থেকে আফগানিস্থানে নতুন সৈন্যদের সাথে রসদের যোগান দেওয়া সহজ হয় এবং এই ক্ষেত্রে তাদের স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী কাজ করতে যাতে অসুবিধা না হয়, মধ্য এশিয়াতে প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা বিশেষ সুবিধা জনক নয়, তাই প্রয়োজন বিভিন্ন প্রভাব শালী দলের সাথে একসঙ্গে কাজ করা. অন্যদিকে ভূ রাজনৈতিক স্বার্থও সংশ্লিষ্ট, কারণ এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদের জন্য প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে বাড়বে বই কমবে না. এই কারণেই আমেরিকার প্রয়োজন নানা ধরনের কাঠামোর সঙ্গে একযোগে কাজ করা. অবশ্যই তারা গুরুত্ব দিয়েছে মধ্য এশিয়ার ক্ষমতাসীন প্রশাসনের লোকেদের উপর রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সম্পর্কের প্রভাবকে কমানোর চেষ্টাকে এবং উদীয়মান চীনের প্রভাবকেও কমাতে. দ্বিতীয় কাজটি আমার মতে আমেরিকা বিশেষ করে গুরুত্ব দিয়েছে, কারণ গত দুই তিন বছরে এই অঞ্চলে চীনের প্রভাব বিস্তার আমেরিকার বহু লোকেরই উদ্বেগের কারণ হয়েছে".

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলে ভূ রাজনৈতিক স্বার্থের আরও একটি প্রত্যক্ষ প্রমাণ – চীন, ইরান বা রাশিয়ার মধ্য দিয়ে মধ্য এশিয়ার খনিজ তেল ও গ্যাস মধ্য ও পশ্চিম ইউরোপে পাঠানোর বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ, কারণ মধ্য এশিয়া বর্তমানে আঞ্চলিক জ্বালানী শক্তি সরবরাহ কেন্দ্র, যেখানে বর্তমানে অস্থিতিশীল পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলির তুলনায় রাজনৈতিক সমস্যা কম.