আজ মস্কোতে আছেন ন্যাটোর সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন, তাঁর আজকের পরিকল্পনা হল রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করা. এ ছাড়া তিনি দেখা করবেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, রাশিয়ার রাষ্ট্র সভার স্পীকার সের্গেই মিরোনভ, লোকসভার স্পীকার বরিস গ্রীজলভ, রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সম্পাদক নিকোলাই পাত্রুশেভ এবং মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রীদের সামনে বক্তৃতা দেবেন.

এত ঘটনা বহুল সফর রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গের শেষ প্রতীক সফর, যা গত বছরে ককেশাসের যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হয়েছিল. মূলতঃ নতুন করে সম্পর্ক আবার শুরু হয়েছিল নতুন মার্কিন রাষ্ট্রপতি এবং ন্যাটো জোটের সাধারন সম্পাদকের বদল থেকেই. এই সময়কে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা নাম দিয়েছিলেন রাশিয়া ও পশ্চিমের সম্পর্কের "পুনরারম্ভ" এবং আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন "নতুন করে শুরু". ন্যাটো জোটের মস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা করার কি প্রয়োজন? কারণ হল রাশিয়া আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আজ নিজের অবস্থান পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে. তা ন্যাটো জোট মুখে না বললেও কাজের ক্ষেত্রে স্বীকৃতী দিতে বাধ্য হয়েছে. তাই ন্যাটোর সাধারন সম্পাদক ইরান ও আফগানিস্থান ছাড়াও মস্কোতে আরও অনেক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন, কারণ রাশিয়া ছাড়া এই সব জায়গায় বিশেষ সুবিধা হচ্ছে না. তার মধ্যে আছে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রস্তাবিত ইউরোপীয় নিরাপত্তা বিষয়ক চুক্তি.  আমাদের রেডিও স্টেশন কে এই সফর প্রসঙ্গে ন্যাটো জোটে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন বলেছেনঃ

"প্রথমতঃ এই স্বার্থের কারণ নৈর্ব্যক্তিক, যা পশ্চিমের উন্নত ও নেতৃত্বের অধিকার সম্পন্ন দেশ গুলি নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় বলে বোধ করেছে. তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, ন্যাটো জোটের নতুন মুখ গুলি যতই রাশিয়াকে জুজু বানানোর চেষ্টা করুক না কেন, ভয় পাওয়ার বাস্তব কোন কারণ নেই. সুতরাং এই কারণেই তাঁরা চেষ্টা করে দেখছেন রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার পথ গুলিকে অনুসন্ধান করে. ইউরোপের সেই সব বড় দেশ গুলি, যেমন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি আর এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা স্বাভাবিক ভাবেই বৃহত্ সামরিক শক্তি হিসাবে রাশিয়ার সাথে সেই সমস্ত জায়গায় সহযোগিতা করার পথের খোঁজ করছে, যেখানে আমাদের সাহায্য অনেকটা বাস্তবিক ভাবে দরকারি হতে পারত. সবার আগে আসছে আফগানিস্থানের প্রসঙ্গ, যেখানে ন্যাটো তার সমস্ত সম্মানকে বাজী রেখে নেমেছে. আমার মনে হয়, এই প্রসঙ্গই বর্তমানের বৈঠকের প্রধান বিষয় হবে, আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন চাইবেন রাশিয়া যেন এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রয়াসের অংশীদার হয়. আমাদের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব করা হয়েছে, তাতে আমরা বলেছি রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য সামরিক শক্তি প্রয়োগ করা বা তা করার ভয় দেখানো চলবে না এবং এক্ষেত্রে একটিও দেশের উপর আক্রমণ হলে তা সমস্ত ইউরোপের উপর আক্রমণ বলে বিচার করতে হবে.

শুধু ইউরোপে নয়, এমন কি অন্যান্য অঞ্চল এবং এশিয়াতেও, কারণ একবিংশ শতাব্দীতে বিশেষ করে এই সমস্ত জায়গা থেকেই বিপদ আসছে. সমস্যা আন্তর্জাতিক সীমানা না মানা সন্ত্রাসবাদের, আর্কটিক অঞ্চলের খনিজ দ্রব্যের জন্য লড়াই, দেশ গুলির শিল্পের পরিকাঠামো সংক্রান্ত দুর্ঘটনার মোকাবিলা, জলদস্যূদের মোকাবিলা, মাদক দ্রব্যের প্রসার রোধ ইত্যাদি.

একই সঙ্গে দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন, আফগানিস্থান এমন একটি দেশ যাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই পুরনো এবং স্বার্থের মিল ও অনেক. আর তাই আমরা ন্যাটোর মাধ্যমে আফগানিস্থানের সঙ্গে কাজ করব, এটা বলা অবশ্যই ঠিক হবে না. এ ছাড়া আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা আছে, যা নিজেরাই যৌথ ভাবে করে থাকি. যেমন, দোমোদিয়েদোভা শহরে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘাঁটিতে আফগানিস্থানের মাদক মোকাবিলা পুলিশের প্রশিক্ষণের জন্য আর্থিক সাহায্য করছে ন্যাটো জোট. প্রায় হাজার খানেক লোক ইতিমধ্যেই তৈরী হয়েছেন, কারণ আমরাও চাই আফগানিস্থান থেকে যেন হেরোইন আগ্রাসন প্রসার না পায়. বর্তমানে আমরা পরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য আফগানিস্থানের কুশলী দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি. আর বাকি সব বিষয় সম্বন্ধে বলা যেতে পারে, যেমন, আফগানিস্থানের নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীকে সাহায্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি রাশিয়ার নেতৃত্ব সেই রকম কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেই ধরনের সাহায্য সরাসরি করা হবে, ন্যাটো জোটের মধ্যস্থতা ছাড়াই. যে কোন পরিস্থিতি তেই রাসমুসেনের মস্কো সফর রাজনৈতিক ভাবে ভাল আবহাওয়ার সৃষ্টি করবে, যাতে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের কূটনীতিবিদ এবং সামরিক বাহিনীর লোকেদের এক সাথে কাজ করতে সুবিধা হয়".

রাশিয়া এবং ন্যাটো জোটের আলোচনা করার মত বিষয় অনেক এবং সহযোগিতা করার জন্য জায়গা আছে. তাই এই সফরকে প্রতীক সফর বলা যেতে পারে. (sound)