রাশিয়া এবং ভারত অদূর ভবিষ্যতে একক পারমানবিক শক্তি প্রকল্প সহযোগিতার মাধ্যমে তৈরী করা থেকে ভারতের নানা জায়গায় অনেকগুলি তৈরী করতে চলেছে. রাশিয়ার রসঅ্যাটম সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টর সের্গেই কিরিয়েঙ্কো প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারে এই কথা বলেছেন. রসঅ্যাটম সংস্থার জেনেরাল ডিরেক্টরের মতে এই ধরনের সহযোগিতায় খরচ কমানো সম্ভব হবে. কিরিয়েঙ্কো মনে করেন সব মিলিয়ে প্রতিটি ব্লক তৈরী করার বিষয়ে ভারতের পক্ষে প্রায় শতকরা ২৫ থেকে ৩০ ভাগ খরচ কমানো সম্ভব হবে.

    আজকের দিনের পৃথিবীতে খুব বেশী দেশ নেই যারা নিজেদের ক্ষমতায় পুরোপুরি একটি পারমানবিক শক্তি প্রকল্প বানাতে পারে, তার উপরে অন্য দেশকে এই বিষয়ে সাহায্য করতে পারে আরও কম. রাশিয়া এই ক্ষেত্রে বর্তমানে বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার মত জায়গায় রয়েছে. বাস্তবে রাশিয়া অন্যতম দেশ যারা একই সঙ্গে বিশ্বের নানা জায়গায় এই রকম প্রকল্প তৈরী করছে. এই রকম একটি হল ভারতের দক্ষিণে কুদানকুলামে রাশিয়ার সহযোগিতায় নির্মীয়মান পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প. এই প্রকল্পের প্রথম দুইটি শক্তি উত্পাদনের  ব্লক আগামী ২০১০ সালে ১০০০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুত উত্পাদন শুরু করবে. আরও চারটি ব্লক এখানে যোগ হবে সামনের কয়েক বছরের মধ্যে. এই বিষয়ে গত বছরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সফরের সময় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে.

    কিন্তু ভারত তার শক্তি ও পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য এবং দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনীতি হওয়ার কারণে, আরও অনেক বেশী পারমানবিক বিদ্যত কেন্দ্রের কথা ভাবছে আর তাই রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার জন্য তৈরী, বলা যেতে পারে একক বরাত থেকে ক্রমাগত পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র রাশিয়ার প্রযুক্তিগত ও প্রকৌশল গত সহযোগিতায় তৈরী করতে প্রস্তুত. এই প্রশ্নটি বিস্তারিত ভাবে আলোচিত হয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের সদ্য শেষ হওয়া রাশিয়া সফরের সময়ে রাশিয়ার নেতৃ বৃন্দের সাথে. এই আলোচনার শেষে ভারত তার পশ্চিম বঙ্গ রাজ্যে আরও একটি রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতায় পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র বানানোর কথা বলেছে. এই খানে ৪ থেকে ৬ টি রিয়্যাক্টর ব্লক বসানো হবে. কুদানকুলামের সঙ্গে ভারতে আগামী কয়েক বছরে ১২ থেকে ১৪ টি ব্লক বসানো হবে.

    এই বিষয়ে রাশিয়ার রসঅ্যাটমের প্রতিনিধি ভ্লাদিস্লাভ বোচকভ বলেছেনঃ

    "নতুন পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প যা ভারতে নতুন জায়গায় বসানোর কথা হয়েছে তার রিয়্যাক্টর হবে তিন প্লাস জেনারেশনের, আর তার ক্ষমতা হবে ১২০০ মেগাওয়াট. অন্যভাবে বলতে হলে, আমরা সম্পূর্ণ নতুন ধরনের রিয়্যাক্টরের কথা বলছি, যাদের অনেক গুলি নিরাপত্তা বলয় রয়েছে ও শক্তি উত্পাদনের পরিমানও বেশী. এই প্রকল্প গুলি রাশিয়ার পারমানবিক প্রযুক্তির অধুনাতম সংযোজন. আর আমার মনে হয়ে, ভারতীয়দের সবচেয়ে বেশী দাবীও এই প্রকল্প গুলি আদায় করতে পারবে. রসঅ্যাটমের পক্ষ থেকে একক থেকে এই ক্রমাগত বরাতের প্রকল্প তৈরী দুই দেশের সহযোগিতার উচ্চ তম স্তরে পৌঁছনোর প্রতিফলন এবং ভারতের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রসারের ইচ্ছার প্রমাণ".

    দিল্লীতে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে রাশিয়ার রাজদূত আলেকজান্ডার কাদাকিন বলেছেন যে, ভারতের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত চুক্তি আগামী মার্চ মাসেই রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের ভারত সফরের সময় হতে পারে. ভারতের জন্য রাশিয়ার কারখানাতে প্রচুর যন্ত্রপাতি তৈরী হচ্ছে কারণ সহযোগিতা প্রসারিত হয়েছে, রাশিয়াতে তৈরী রিয়্যাক্টর বসানোর মধ্য দিয়ে অনেক গুলি পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি কেন্দ্র নির্মাণের জন্য. দুই দেশের পারমানবিক ক্ষেত্রে এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতার অন্যান্য সুবিধা গুলির মধ্যে কাদাকিন উল্লেখ করেছেন পারমানবিক জ্বালানী রপ্তানীর অবিরাম নিশ্চয়তা এবং আলাদা ভাবে রিয়্যাক্টর গুলির দাম কমার কথা.