আজ মস্কো আসছেন ন্যাটোর সাধারন সম্পাদক আন্দ্রেস ফন রাসমুসেন, তাঁর পরিকল্পনা হল রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ এবং প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করা. এই সফর রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গের শেষ প্রতীক সফর, যা গত বছরে ককেশাসের যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হয়েছিল.

মূলতঃ নতুন করে সম্পর্ক আবার শুরু হয়েছিল নতুন মার্কিন রাষ্ট্রপতি এবং ন্যাটো জোটের সাধারন সম্পাদকের বদল থেকেই. এই সময়কে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা নাম দিয়েছিলেন রাশিয়া ও পশ্চিমের সম্পর্কের "পুনরারম্ভ" এবং আন্দ্রেস ফন রাসমুসেন "নতুন করে শুরু". ন্যাটো জোটের মস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা করার কি প্রয়োজন? আমাদের রেডিও স্টেশন কে এই প্রশ্নের উত্তরে ন্যাটো জোটে রাশিয়ার পক্ষ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি দিমিত্রি রগোজিন বলেছেনঃ

প্রথমতঃ এই স্বার্থের কারণ নৈর্ব্যক্তিক, যা পশ্চিমের উন্নত ও নেতৃত্বের অধিকার সম্পন্ন দেশ গুলি নিজেদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রয়োজনীয় বলে বোধ করেছে. তাঁরা বুঝতে পেরেছেন, ন্যাটো জোটের নতুন মুখ গুলি যতই রাশিয়াকে জুজু বানানোর চেষ্টা করুক না কেন, ভয় পাওয়ার বাস্তব কোন কারণ নেই. সুতরাং এই কারণেই তাঁরা চেষ্টা করে দেখছেন রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার পথ গুলিকে অনুসন্ধান করে. ইউরোপের সেই সব বড় দেশ গুলি, যেমন, জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি আর এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা স্বাভাবিক ভাবেই বৃহত্ সামরিক শক্তি হিসাবে রাশিয়ার সাথে সেই সমস্ত জায়গায় সহযোগিতা করার পথের খোঁজ করছে, যেখানে আমাদের সাহায্য অনেকটা বাস্তবিক ভাবে দরকারি হতে পারত. সবার আগে আসছে আফগানিস্থানের প্রসঙ্গ, যেখানে ন্যাটো তার সমস্ত সম্মানকে বাজী রেখে নেমেছে. আমার মনে হয়, এই প্রসঙ্গই বর্তমানের বৈঠকের প্রধান বিষয় হবে, আন্দ্রেস ফন রাসমুসেন চাইবেন রাশিয়া যেন এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রয়াসের অংশীদার হয়.

একই সঙ্গে দিমিত্রি রগোজিন বলেছেন, আফগানিস্থান এমন একটি দেশ যাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই পুরনো এবং স্বার্থের মিল ও অনেক. আর তাই আমরা ন্যাটোর মাধ্যমে আফগানিস্থানের সঙ্গে কাজ করব, এটা বলা অবশ্যই ঠিক হবে না. এ ছাড়া আমাদের নিজেদের পরিকল্পনা আছে, যা নিজেরাই যৌথ ভাবে করে থাকি. যেমন, দোমোদিয়েদোভা শহরে স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ঘাঁটিতে আফগানিস্থানের মাদক মোকাবিলা পুলিশের প্রশিক্ষণের জন্য আর্থিক সাহায্য করছে ন্যাটো জোট. প্রায় হাজার খানেক লোক ইতিমধ্যেই তৈরী হয়েছেন, কারণ আমরাও চাই আফগানিস্থান থেকে যেন হেরোইন আগ্রাসন প্রসার না পায়. বর্তমানে আমরা পরিবহন ব্যবস্থায় সন্ত্রাস মোকাবিলার জন্য আফগানিস্থানের কুশলী দের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি. আর বাকি সব বিষয় সম্বন্ধে বলা যেতে পারে, যেমন, আফগানিস্থানের নিরাপত্তা রক্ষী বাহিনীকে সাহায্য ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি রাশিয়ার নেতৃত্ব সেই রকম কোন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন, তবে সেই ধরনের সাহায্য সরাসরি করা হবে, ন্যাটো জোটের মধ্যস্থতা ছাড়াই. যে কোন পরিস্থিতি তেই রাসমুসেনের মস্কো সফর রাজনৈতিক ভাবে ভাল আবহাওয়ার সৃষ্টি করবে, যাতে রাশিয়া ও ন্যাটো জোটের কূটনীতিবিদ এবং সামরিক বাহিনীর লোকেদের এক সাথে কাজ করতে সুবিধা হয়.