রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর ব্লগের নতুন ভিডিও আহ্বানে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি গুলিকে একই সঙ্গে বাতাসে গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানোর জন্য প্রস্তাব করেছেন.

    "বৃহত্তম অর্থনীতি মানে যারা সবার চেয়ে বেশী বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাস ছাড়ছে, যেমন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রাজিল, জার্মানি ও ইউরোপীয় সংঘ এবং ভারত আরও অন্যান্য দেশ, সকলেই একই সঙ্গে নিজেদের উপর প্রয়োজনীয় দায়িত্ব নিয়ে যদি পরবর্তী সময়ে বিনা পরিবর্তনে তা পালন করে, তবেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে. আমি চাই বিশেষ করে বলতে যে, এই দায়িত্ব সকলকে একই সঙ্গে নিতে হবে এবং সকলেই তা পালন করতে বাধ্য. আমাদের আলাদা করে কোন প্রচেষ্টা এই ক্ষেত্রে কোন ফল দেবে বলে মনে হয় না এবং তার কোন অর্থও নেই". রাষ্ট্রপতি বলেছেন তাঁর ব্লগে.

    একই সঙ্গে তাঁর মতে, উন্নত ও উন্নতিশীল দেশ গুলির জন্য আলাদা পথ বার করতে হবে, দেখতে হবে, যাতে অর্থনীতির উন্নতির পথ রোধ না করা হয়, আর সবচেয়ে বিশেষ বিষয় হবে, যাতে দেশ গুলির রাষ্ট্রীয় উন্নতির পরিকল্পনার তা বিরোধী না হয়. বোঝাই যায় যে, অধুনা উন্নতিশীল দেশ গুলির জ্বালানীর প্রয়োজন শিল্পোন্নত দেশ গুলির চেয়ে বেশী. রাষ্ট্রপতি বলেছেনঃ

    "বিশেষ করে বলতে চাই যে, রাশিয়া বর্তমানে বাতাসে দূষণ কমানোর বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম প্রধান নেতৃত্ব দিয়েছে, বিশ্বের পরিবেশের উন্নতির ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা আমাদের বনাঞ্চলের সঙ্গেও জড়িত. আমাদের এই অবদান বিশ্বের স্বীকৃতি পাওয়ার উপযুক্ত. কিন্তু তাও আমরা নিজেদের জন্য নতুন কর্মসূচী নিতে তৈরী".

    রাষ্ট্রপতি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই কর্মসূচী বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য গ্যাস বর্জনের পরিমান ২০২০ সালের মধ্যে শতকরা ২৫ ভাগ কমাবে, যদি ১৯৯০ সালকে হিসেবের জন্য বছর হিসাবে মনে করা হয়. এই ভাবে রাশিয়া বাতাসে গ্রীন হাউস গ্যাসের পরিমান কমাবে প্রায় তিরিশ মিলিয়ন টনেরও বেশী. বিশ্বের সংগ্রহের ভাণ্ডারে এটি একটি বিরাট অবদান বলে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন. তাঁর কথা মতো, রাশিয়া এই কর্মসূচী পালনের জন্য নিজের অর্থনীতিকে আরও আধুনিক এবং পরিবেশের জন্য ফলপ্রসূ করতে চলেছে., অর্থাত্ সেই আধুনিকীকরণ, যা নিয়ে আমরা আগেও বলেছি. শক্তির খরচ কমানোর জন্য পরম্পরা বজায় রেখে প্রযুক্তির পরিবর্তন করতে হবে এবং পুনর্নবীকরণ যোগ্য শক্তির প্রয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে. দিমিত্রি মেদভেদেভ ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতির শক্তি খরচ কমানোর হার ২০২০ সালে শতকরা ৪০ ভাগ হবে.

    দিমিত্রি মেদভেদেভ জানিয়েছেন যে, তিনি রাষ্ট্রসংঘ আয়োজিত পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছেন এবং কোপেনহেগেন শহরে চেষ্টা করবেন সেই সমস্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে কাজ করতে যা সব দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গ্রহণযোগ্য হবে – সমস্ত দেশের জন্যই তা হতে হবে. এটি খুবই দরকারী কারণ আমাদের চুক্তির ফলে বিশ্বের ভবিষ্যত জীবনের গুণমান নির্ভর করছে – বলেছেন রাষ্ট্রপতি.