ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের রাশিয়া সফর ও মস্কোতে তাঁর বৈঠকের পরে দুই দেশের সম্পর্কের বিষয়ে বাস্তব প্রশ্ন গুলির সমাধানের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে. আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ অর্থনীতি বিজ্ঞানের ডক্টরেট প্রফেসর গেন্নাদি চুরফিনের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন.

    রাশিয়াতে মনমোহন সিংহের সফর সম্বন্ধে যথেষ্ট বড় করে প্রচার মাধ্যম গুলি খবর দিয়েছে, স্বাক্ষরিত দলিল গুলি, সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে আগামী দশ বছরের জন্য চুক্তি, শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি প্রসঙ্গে চুক্তি ও অন্যান্য বিষয় গুলি সম্বন্ধে অনেক প্রচার করা হয়েছে. কিন্তু এই আলোচনাতে আরও অনেক বাস্তবে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে গুলি সম্বন্ধে আলোক পাতের প্রয়োজন আছে, তাই আজ এগুলি সম্বন্ধে আলোচনা করা যেতে পারে, কি দিয়ে শুরু করলে ঠিক হবে? গেন্নাদি চুরফিন বলেছেনঃ

    "আমার মতে যথেষ্ট সম্ভাবনাময় অথচ সংবাদ মাধ্যমে সঠিক ভাবে প্রতিফলিত না হওয়া বিষয় হল দুই দেশের ঔষধি নির্মাণে সহযোগিতা. বর্তমানের রাশিয়াতে প্রায় সমস্ত রকমের পাশ্চাত্যে তৈরী ওষুধ কেনা সম্ভব, কিন্তু সে গুলির মূল্য সাধারণের নাগালের প্রায় বাইরে, সেগুলির গুণমান হয়ত খুবই ভাল, কিন্তু এই অবস্থায় মানুষ তার থেকে উপকার পাচ্ছে না. এর জায়গা নিতে পারে ভারতের বিখ্যাত ও কোন ক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের থেকে অনেক উন্নত মানের ওষুধ, দামেও তা অনেক সস্তা. মস্কোতে এই বিষয়ে আলোচনায় অনেক সময় দেওয়া হয়েছে, অথচ পশ্চিম ঘেঁষা সংবাদ মাধ্যম গুলি তার খবর বিশেষ দেয় নি. শীঘ্রই হয়ত দেখতে পাওয়া যাবে যে, দোকানে ভারতীয় ওষুধের পরিমান বেড়েছে. যেগুলি পশ্চিমের উত্পাদিত একই ধরনের ওষুধের চেয়ে দামে মানুষের সাধ্যের মধ্যেই".

    অন্য আর কোন দিক সম্বন্ধে আপনি বলতে পারেন যে, সম্ভাবনা প্রচুর? যে অর্থনৈতিক সহযোগিতায় দুই দেশেরই উন্নতি হতে পারে?

         "এই রকম একটি দিক হল বেসামরিক বিমান নির্মাণের ক্ষেত্রে ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতা, বিশেষজ্ঞরা যা বলেছেন, তাতে বোঝা গেছে যে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারত এবং দুই দেশের বিজ্ঞানী, কুশলী ও ব্যবসায়ীরা যথেষ্ট আগ্রহ দেখিয়েছেন, তাঁরা এই শিল্পে বিনিয়োগ করতে চান".

    বিগত কিছু কাল ধরে আমাদের দুই দেশে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে বাণিজ্যের দিকে, দুই দেশের ক্ষমতা ও আয়তনের তুলনায় বাণিজ্যের পরিমান খুবই লজ্জার. এখানে কি করা যেতে পারে?

         "দুঃখের হলেও সত্য যে, আমাদের বাণিজ্যের পরিমান খুবই কম, আমার মতে এই দশা থেকে বেরোতে হলে দুই দেশের মধ্যে ভিসা বিষয়ে আরও সহজ পথ নিতে হবে. বর্তমানে ভারতের থেকে কম ঘনিষ্ঠ দেশে রাশিয়ার লোকেদের যেতে গেলে ভিসা পাওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে খুবই সহজে, ইউরোপীয় সংঘের দেশ গুলির সাথেও বিনা ভিসাতে যাতায়াতের কথা হচ্ছে, অথচ ভারতের মতো দেশ, যাদের সাথে আমাদের কখনো কোন বিষয়ে কোন বিবাদ হয় নি এবং সম্পর্ক শুধু স্থিতিশীল তাই নয়, বরং বলা যেতে পারে বিশ্বাসযোগ্যতার বিচারে বহু আগেই আমরা পাশ করেছি, তাও ভিসা পেতে দুই পক্ষেরই যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে, এ টি যত দ্রুত সম্ভব সমাধান করা দরকার".

তার ওপরে আরও একটি বিষয়ে আমাদের সম্ভাবনা আছে, সাংহাই সহযোগিতা পরিষদের কাঠামোর মধ্যে দেশ গুলির মধ্যে জ্বালানী শক্তি বিষয়ক সমঝোতা হলে সমস্ত দেশেরই লাভ হবে, ভারত, পাকিস্থান, ইরান, চীন ও রাশিয়া একসাথে মধ্য এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার শক্তি সঙ্কটকে মোকাবিলা করার শক্তি রাখে. এখানে একবার ইতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব হলে সবারই সুবিধা হবে.

আশা করব যে এত সমস্ত সম্ভাবনা নষ্ট হবে না, ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক সামরিক প্রযুক্তি ও শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি চুক্তির বিপুল প্রসারের উপর ভর করে বর্তমানে যা মনে করা হয়েছে, সেই পরিমান বাণিজ্য বা তার থেকেও অনেক বেশী করা সম্ভব হবে.