অনেক চিন্তা করার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি অবশেষে ঠিক করেছেন যে, উনি বিশ্ব আবহাওয়া সম্মেলনে যাবেন. ১৭ -১৮ ডিসেম্বর তিনি রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রশাসন প্রধানদের জন্য নির্ধারিত দিনে এই রাষ্ট্রসংঘ আয়োজিত আবহাওয়ার পরিবর্তন সংক্রান্ত এই সম্মেলনে অংশ নিতে যাবেন.

    ৮ ই ডিসেম্বর কোপেনহেগেন শহরে রাষ্ট্রসংঘের সদস্য দেশ গুলির সম্মেলন শুরু হয়েছে. ২০১২ সালে শেষ হয়ে যাওয়া কিয়োটো প্রোটোকলের পরিবর্তে নতুন চুক্তির বিষয়ে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত এই সম্মেলন থেকে আশা করা হচ্ছে. একই সঙ্গে ডেনমার্কের রাজধানীতে দেখা গেল যে, এই সম্মেলন প্রথম থেকেই চক্রব্যূহে আবদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং উন্নত ও উন্নতিশীল দেশ গুলির মধ্যে বিতর্কের সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না. উন্নতিশীল দেশ গুলি চাইছে, কিয়োটো প্রোটোকলের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে, যেখানে তাদের জন্য গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানোর জন্য কোন আইনত দায়িত্ব নেই ও কোন অর্থ ব্যয় ও করতে হবে না. আর এ ছাড়া তারা চাইছে এই সমস্যার সমাধানের জন্য প্রতি বছর কয়েক বিলিয়ন ডলার ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ. তাদের মূল মন্ত্র হল উন্নত দেশ গুলি নিজেদের উন্নতি করেছে শিল্পের মাধ্যমে এবং তা আজ থেকে একশ বছর আগে, সেখানে তাদের উন্নতির রসদ তারা যুগিয়েছে কলোনি ভুক্ত দেশ গুলিকে শোষণ করে. আর উন্নতিশীল দেশ গুলি এই গ্রীন হাউস এফেক্টের কারণ হয়েছে মাত্র কয়েক দশক আগে.

    উন্নত দেশ গুলি এবং রাশিয়াও নিজেদের পক্ষ সমর্থন করে বলেছে যে, নতুন  অর্থনীতি গুলি বিগত কয়েক দশকে সবচেয়ে বেশী দূষিত গ্যাস বাতাসে ছাড়ছে, আর তাই সমস্ত দেশের জন্য একই রকম ভাবে ব্যবস্থা নিয়ে নতুন চুক্তি করতে হবে বলে মনে করেছে. কিন্তু তারা উন্নতিশীল দেশগুলিকে সাহায্যের বিষয়ে না করে নি, যাতে সেই সব দেশের জাতীয় অর্থনীতি পরিবেশ দূষণ কমায়. কিন্তু বেশীর ভাগ পর্যবেক্ষকই যে বিষয় টিতে একমত তা হল কোপেনহেগেন শহরে কিয়োটো দলিলের পরবর্তী কোন দলিল নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না. আশা করা হচ্ছে, সমস্ত পক্ষই রাজনৈতিক চুক্তি শুধু করবে, যেখানে ২০১০ সালে পরিবেশ সংক্রান্ত আলোচনার কাঠামো তৈরী হবে. একই রকম ধারণা করা হয়েছে মস্কোতে পররাষ্ট্র দপ্তরে, তাই বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র আন্দ্রেই নেস্তেরেঙ্কো বলেছেনঃ

    "কোপেনহেগেন শহরে প্রতিনিধিরা শেষ অবধি যা করবেন মনে হচ্ছে, তা হল আগামী আলোচনার কাঠামো ও সমস্যা সমাধানের একটি মূল সূত্র তৈরী করতে পারবেন. এই বিষয়ে আয়োজক দেশ ডেনমার্কের প্রস্তাবিত রাজনৈতিক চুক্তির কাঠামো সমস্ত দেশের জন্যই যদি বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হয়, তবে কিছুটা সাফল্য আশা করা যেতে পারে. আর রাষ্ট্রসংঘের পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে এই রাজনৈতিক চুক্তির কাঠামোই যথেষ্ট হবে. এর ফলে মূল সমস্যা গুলির জট ছাড়াতে সুবিধা হবে এবং ২০১০ সালের মধ্যে প্রত্যেক দেশের নির্দিষ্ট দায়িত্ব সম্বন্ধে ব্যবস্থা, কৌশল ও বাস্তবায়িত করার রাস্তা খোঁজা সম্ভব হবে".

    যদিও কোপেনহেগেন সম্মেলনের প্রতিনিধিরা এখনও আশা ছাড়েন নি যে, কোপেনহেগেনে এই চক্রব্যূহ থেকে বেরোনো সম্ভব, এক্ষেত্রে সদস্য দেশ গুলির মন্ত্রী পরিষদ ও পরবর্তী কালে নেতৃত্বের বৈঠক সাহায্য করতেও পারে. বর্তমানে এই সম্মেলন সেই কিনারাতে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে এই সমস্ত পরস্পর বিরোধী বিষয়কে একটি বজ্র সম রাজনৈতিক ধাক্কা দিয়ে সরানো সম্ভব হবে. হতে পারে এই কারণেই দিমিত্রি মেদভেদেভ ও বারাক ওবামার পরেই এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন চীন প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সভার প্রধান ভেন জিয়াবাও.

<sound>