রাশিয়ার লোকেরা বেশী করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে অভিযোগ আনতে শুরু করেছে. এটা শুধুমাত্র সমাজে সমস্যা বৃদ্ধির কথাই বলে না, বরং মনে করা যেতে পারে যে, মানুষের মানবাধিকার রক্ষা পরিষদের প্রতি বিশ্বাসের বৃদ্ধি হয়েছে – বলেছেন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. তাঁর রাশিয়ার মানবাধিকার রক্ষা পরিষদের প্রধান লোকপাল ভ্লাদিমির লুকিনের সঙ্গে আলোচনার সময় বোঝা গিয়েছে যে, রাশিয়ার লোকেদের অভিযোগের মূল বিষয় হল শিশুদের অধিকার, বাসস্থান এবং শ্রমের অধিকার. এই সাক্ষাত্কার হয়েছে ১০ ই ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনের আগে.

    রাষ্ট্রসংঘের সাধারন সভা ৫৯ বছর আগে মানবাধিকার দিবস পালনের জন্য আহ্বান করেছিল. তারপর থেকে ১০ ই ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার দলিল গ্রহণের বর্ষপূর্তি উদযাপন করা হয়ে থাকে. খুবই স্বাভাবিক যে, এই দিনটিতে সারা বছরের কাজের হিসেব করা হয়ে থাকে, যা সাধারণতঃ দেখার জন্য যে, এক বছরে এই বিষয়ে উন্নতি বা অবনতি কতটা হয়েছে. এর পরিবর্তনের জন্যই বা কি করা হয়েছে. যেমন, রাশিয়াতে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা এখনও অনেক. মস্কোর হেলসিঙ্কি গ্রুপের প্রধান ল্যুদমিলা আলেক্সেয়েভা বলেছেনঃ

    লোকে অভিযোগ করেছেন বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়ে, জেলের ভিতরের কঠিন পরিস্থিতি এবং পুলিশের দুর্ব্যবহার নিয়ে. প্রতিটি মানুষের অধিকারই গুরুত্বপূর্ণ. প্রত্যেক লোকের জন্যই সবচেয়ে বেদনা দায়ক হল তার প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে সেটা.

    দুঃখের সঙ্গে উল্লেখ করতে বাধ্য হতে হচ্ছে যে, বেশীর ভাগ সময়েই মানুষের অধিকার তারাই রক্ষা করেন না, যাদের উপর এই ভার দেওয়া হয়েছে ও যাদের স্বার্থ সরাসরি ভাবে এদের সঙ্গে জড়িত. এই রকম মনে করে জাতীয় সভার আইন রক্ষা দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ পরিষদের সদস্য আলেকজান্ডার ব্রদ বলেছেনঃ

    এই রকম একটা ধারণা তৈরী হয়েছে যে, সাধারন লোক বাস্তবে দুর্নীতির জালের কাছে সুরক্ষিত নয়, সরকারি কর্মীদের ইচ্ছাকৃত বদমায়েসী এবং অবিশ্বাসের বদ্ধ দেয়ালের কাছে নিরুপায়. কিন্তু আমি ইতিবাচক লক্ষণের কথাও বলতে পারি, এটা হল বর্তমানে মানবাধিকার নিয়ে আলোচনা বেশী হচ্ছে. আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আর শত্রুর চোখে দেখা হচ্ছে না, ইউরোপীয় সংঘের প্রতিনিধি যাঁরা মানবাধিকারের বিষয় নিয়ে এই দেশে আসছেন বা রাষ্ট্রসংঘ থেকে যাঁদের পাঠানো হচ্ছে, তারাও স্বাভাবিক ব্যবহার পাচ্ছেন. এই বিষয় নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে লেখা হচ্ছে বেশী. বিচার ব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে. দুর্নীতি রোধের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আইন রক্ষার দপ্তর গুলির কাজও নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে.

    মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত বিষয়টি রাশিয়ার সরকার সর্ব্বোচ্চ স্তরে দেখা শোনা করছে. আর এটা জরুরী. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানের অবস্থা পরিবর্তনের জন্য শুধুমাত্র ক্ষমতাসীন সরকারি বিভাগই যথেষ্ট নয়, প্রথমতঃ এটা সামগ্রিক ভাবে অধিকার এবং সরাসরি দায়িত্ব সমাজের সকলের. আর এখানেই সব কিছু মোটেই সমান নয়, রাশিয়ার লোকেদের নিষ্ক্রিয়তা বিরাট. মানবাধিকার রক্ষার কাজ যাঁরা করে থাকেন, তাঁরা সকলেই বলেছেন যে, এই নিষ্ক্রিয়তা এবং মানুষের নিজের অধিকারের জন্য দাঁড়াতে না পারা, জ্ঞানের অভাব সমস্ত সমস্যার সব চেয়ে মূল কারণ. কারণ নিজের অধিকারের জন্য উঠে দাঁড়ানো – সমাজের প্রধান আলাদা করে দেখার মতো চরিত্রের লক্ষণ. এর কথাই বিগত কিছু কাল ধরে রাশিয়াতে এত বেশী করে বলা হয়েছে.