রাষ্ট্রসংঘ আয়োজিত কোপেনহেগেন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পরিস্থিতি উতপ্ত হয়েছে. আলোচনায় অংশ গ্রহণ কারী দেশের প্রতিনিধিরা মূল প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করছেন, সেটা হল – নতুন চুক্তি কি রকম হবে? কিয়োটো চুক্তির সরল দীর্ঘায়িত করণ না কি সম্পূর্ণ নতুন চুক্তি? এরই মধ্যে আলোচনা দুই ঘন্টার জন্য বন্ধ রাখতে হয়েছিল, কারণ বৈঠকের আবহাওয়া খুবই উতপ্ত হয়ে উঠেছিল. প্রতিনিধিদের মধ্য বাগ বিতণ্ডা বেড়েই চলেছে, মূল বিবাদ শুরু হয়েছে ধনী উন্নতিশীল দেশ গুলি ও ক্ষুদ্র দ্বীপ পুঞ্জের দেশ গুলির মধ্যে.

    প্রায় চল্লিশটি ছোট দ্বীপ পুঞ্জের দেশ দাবী করেছে সম্পূর্ণ নতুন পরিবেশ দূষণ সংক্রান্ত চুক্তির জন্য. তাদের উদ্বেগের কারণ বোধগম্য. এই দেশ গুলি পরিবেশ দূষণের ফলে সবচেয়ে বেশী ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে. কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা মেরু অঞ্চলের বরফ গলে গিয়ে বাড়তে থাকলে এই দেশ গুলি মানচিত্র থেকেই মুছে যাবে. সেই কারণেই বোধহয় এই দেশ গুলি আরও গুরুত্ব দিয়ে আবহাওয়া পরিবর্তনের মোকাবিলার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলছে এবং নতুন চুক্তি সই করতে আহ্বান করছে. এই চুক্তির ফলে সমস্ত দেশ বিশেষত ধনী উন্নতিশীল দেশ গুলি গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানোর জন্য ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে আর উন্নত দেশ গুলি এদের সাহায্য করতেও বাধ্য হবে.

    এই চুক্তির বিপক্ষে কড়া ভাবে নিষেধ আরোপ করছে আরব দেশ গুলি, অংশতঃ সৌদী আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমীর শাহী. তারা চাইছে কিয়োটো চুক্তির সরল দীর্ঘায়িত করণ. সেই চুক্তিতে তারা উন্নতিশীল দেশের আওতায় পড়ে এবং তাতে তাদের পরিবেশ দূষণ বা অর্থ সাহায্য কোনটাই করতে হবে না. তাদের সমর্থন করছে চীন এবং ভারত.

    ইউরোপীয় সংঘ এবং রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপ পুঞ্জের ছোট দেশ গুলিকে সমর্থন করেছে এবং তারাও চাইছে নতুন আরও ফলপ্রসূ চুক্তি. কিন্তু গতকালের বিতর্কে তারা অংশ নেয় নি. পর্যবেক্ষক হিসাবে এই সম্মেলনে অংশ নেওয়া বিশ্ব বনাঞ্চল ফান্ডের বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই ককোরিন এই প্রসঙ্গে বলেছেনঃ

    "সমস্ত উন্নত দেশই, রাশিয়া অবশ্যই, চুপ করেছিল, কারণ দ্বীপ পুঞ্জের দেশ গুলিই আরব দেশ ও তাদের সমর্থন কারী দের সঙ্গে বিবাদের জন্য যথেষ্ট ছিল. কিন্তু মূল কথা হল আগেই রাশিয়া ও উন্নত দেশগুলি আলাদা সম্মিলিত চুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে ঘোষণা করেছিল. রাশিয়া আগেও বহুবার বলেছে যে, এই চুক্তি সম্পূর্ণ নতুন হওয়া উচিত্, কিয়োটো চুক্তি দীর্ঘায়িত করার দরকার নেই. আলোচনাতেও রাশিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পরিবেশে দূষণ ২০ -২৫ ভাগ কমানোর জন্য যে ঘোষণা করেছেন, তা নতুন চুক্তির কথা মাথায় রেখে, পুরনো কিয়োটো চুক্তির সরল দীর্ঘায়িত করণের মধ্যে নয়. এই কথাটি রাশিয়ার প্রতিনিধি দল প্রথম থেকেই বিশেষ করে উল্লেখ করেছে. আমার মনে হয় সমস্ত শক্তি নতুন চুক্তি করার জন্য পাঠাতে হলে যুদ্ধ হবে খুবই কঠিন".

    রাশিয়া এর আগেও বহুবার বলেছে যে, কিয়োটো চুক্তি তার বর্তমান রূপে ফলপ্রসূ নয়. যদিও এই চুক্তির আন্তর্জাতিক লক্ষ্য রয়েছে. এই চুক্তিতে ১৮২ টি দেশ স্বাক্ষর করেছিল, কিন্তু চুক্তি ব্যবহার করতে হয়েছে বিভিন্ন ভাগে. শুধুমাত্র উন্নত দেশ গুলিই আবহাওয়াতে গ্রীন হাউস এফেক্ট কমানোর ভার নিয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রোটোকল কংগ্রেস গ্রহণ করে নি, যে দেশ বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বাধিক পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী. উন্নতি শীল দেশের মধ্যে শিল্প থেকে সবচেয়ে বেশী বিষাক্ত ধোঁয়া আবহাওয়াতে যারা ছড়াচ্ছে, সেই ভারত এবং চীন এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও কার্য ক্ষেত্রে তাদের কোন দায়িত্ব নেয় নি.

    অন্য কথা হল, এই কিয়োটো প্রোটোকল কে আগামী দিনের বিশ্বের নিয়ন্ত্রণের চাবি কাঠি তৈরীর জন্য প্রথম প্রকল্প হিসাবে মানা যেতে পারে. তাই আজও কোপেনহেগেন শহরে তর্ক হচ্ছে আবহাওয়াতে বিষাক্ত গ্যাস বর্জন নিয়ে নয়, হচ্ছে অর্থ নিয়ে প্রাথমিক ভাবে. আলেক্সেই ককোরিন বলেছেনঃ

    "অবশ্যই এটা বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সম্মেলন. বোঝার অভাব এখানে নেই. কেউই এখানে নিজের অন্তরাত্মার কাছে বা বাইরে ভুল করেও ভাবছেন না, পরিবেশ সত্যিই যে পাল্টাচ্ছে সে বিষয়ে এবং পরিবেশ দূষণ কম করে হলেও অর্ধেক করতে হবে. কিন্তু সকলেই চাইছে এর দায়ভার অন্যের কাঁধে চাপাতে".

    বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করেছেন যে, এই আলোচনা হবে খুবই কঠিন এবং কড়া. দ্বীপ পুঞ্জের দেশ গুলি ছাড়া উন্নতিশীল দেশ গুলিও অনেক গুলি শর্ত আরোপ করেছে. যেমন, ভারত ও চীন নিজেদের উপর পরিবেশ দূষণের কোন আইনত দায়িত্ব নিতে চায় না. বাস্তবে এটা সমস্ত আলোচনাকে ভণ্ডুল করে দিতে পারে, সম্ভবতঃ এটাই কিছু দেশ করতে চাইছে.

<sound>