রাশিয়াতে বলা হয়ে থাকে, পুরনো বন্ধু নতুন দুই বন্ধুর চেয়ে দামী, এই রকম একটা প্রবাদ আছে ভারতেও. এই কথার প্রমাণ পাওয়া গেল ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর থেকে. মস্কোর জাতীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর সের্গেই লুনেভ অন্ততঃ তাই মনে করেন, তিনি বলেছেনঃ

    "এই সফর থেকে কোন চাঞ্চল্যকর সংবাদ কেউই আশা করে নি, তা করার কোন কারণও নেই. তাও তিনটি মূল বিষয়ে আবারও প্রমাণ পাওয়া গেল যে, দুই দেশের সহযোগিতা পুরো মাত্রাতেই বজায় আছে.

প্রথমতঃ পারমানবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাশিয়া ও ভারতের সহযোগিতা. ভারত চাইছে আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে পারমানবিক রিয়্যাক্টর থেকে বিদ্যত আহরণের পরিমান বর্তমানের শতকরা দুই শতাংশ ভাগ থেকে বাড়িয়ে চল্লিশ শতাংশ করতে এবং এর জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলার খরচ করতে প্রস্তুত. রাশিয়া এই অর্থের ভাগের বড় অংশই পাচ্ছে ২০০২ সাল থেকে দক্ষিণ ভারতে কুদানকুলামে পারমানবিক রিয়্যাক্টর সরবরাহ করে, যা আগের চুক্তিতে দুটি থাকলেও বর্তমানে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির ভারত সফরের পর বেড়ে চারটি হয়েছে. এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গেও একটি পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র স্থাপন করার কথা হয়েছে রাশিয়ার সহযোগিতায়.

ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাশিয়াকে ভারতের পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে উন্নতিতে সহায়তা করার জন্য খোলাখুলি ভাবে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়েছেন. রাশিয়া যে ভারতকে পারমানবিক রিয়্যাক্টরের জন্য জ্বালানী সরবরাহ করে থেকে এবং ভারতের উপর থেকে বাধা নিষেধ তোলার ব্যাপারে সম্পূর্ণ ভাবে সহায়তা করেছে, সে কথাও তিনি উল্লেখ করতে ভোলেন নি.

পারমানবিক ক্ষেত্র ছাড়াও ভারতের সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজ তেলের বিষয়ে সহযোগিতার প্রসার ঘটেছে, প্রমাণ দক্ষিণ সাখালিন এবং সাইবেরিয়ার খনিজ তেল উত্পাদনে ভারতীয় কোম্পানীর লাইসেন্স পাওয়া. যেখানে সম্ভবতঃ ভারতীয় বিনিয়োগে তেল পরিশোধনের কারখানাও তৈরী হবে. ভারতের জন্য জ্বালানী শক্তির প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারত এই বিষয়ে যে সমস্ত স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা করেছে, রাশিয়া তার অংশীদার.

দ্বিতীয়তঃ সামরিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও রাশিয়া ও ভারত দীর্ঘ সময়ের জন্য সহযোগিতা চুক্তি করেছে, যার ফলে রাশিয়ার অস্ত্র রপ্তানীর শতকরা চল্লিশ ভাগ ভারত ক্রয় করে থাকে প্রতি বছর এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভারতের অস্ত্র আমদানীর বিষয়ে রাশিয়াকে অগ্রাধিকার দিয়ে গিয়েছেন. ভারত অস্ত্র আমদানীর ক্ষেত্রে যদি বিভিন্ন উত্সের খোঁজ করেও, তাও রাশিয়া আছে এবং ভবিষ্যতেও ভারতের জন্য প্রথম ঠিকানা হবে.

তৃতীয়তঃ দুই দেশই আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বের ও আঞ্চলিক ক্ষেত্রে বহু কেন্দ্রীয় রাজনীতির পক্ষে এবং সন্ত্রাস মোকাবিলার প্রশ্নে সহমত হয়ে একটি দলিল তৈরী করেছে, যা গৃহীত হলে বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলার জন্য একটি অন্যতম ভিত্তি মূলক নীতি প্রবর্তন সম্ভব হবে".