৯ই ডিসেম্বর রাশিয়া পিতৃভূমির বীর দিবস পালন করছে. এই দিনে যাঁরা সোভিয়েত দেশের বীর, রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের বীর, পূণ্য গিওর্গি বিজয় বহন কারী স্মারক পদকের অধিকারি এবং খ্যাতির স্মারক পদক অধিকারিদের সম্মানে অনুষ্ঠান করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়ে থাকে. দুই বছর আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির নির্দেশে এই দিবস পালন করা শুরু হয়েছে.

১৯১৭ সালের আগে পর্যন্ত এই দিনে রাশিয়াতে গিওর্গি পদক প্রাপ্ত লোকেদের উত্সব পালন করা হত. ৯ই ডিসেম্বর ১৭৬৯ সালে ইকাতেরিনা দ্বিতীয় সৈন্য দের তাঁদের বীরত্বের জন্য, যুদ্ধ ক্ষেত্রে সাহস ও আত্ম বলিদানের স্মরণে পূণ্য গিওর্গি বিজয় বহন কারীর নামে এই পদকের প্রচলন করেন. যাঁরা এই পদক পেয়েছেন, তাঁদের সকলকেই শ্রদ্ধার চোখে দেখা হত. এই পদক টিকে আবার সর্ব্বোচ্চ সামরিক পদকের সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০০০ সালে.

সোভিয়েত দেশের বীর জেনেরাল – লেফটেন্যান্ট ভালেরি ভস্ত্রোনিন বলেছেনঃ "আমি খুবই খুশী যে, এই উত্সব আবার পালন করা হচ্ছে, বীরদের জন্য শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করার ঐতিহ্য আবার শক্তি অর্জন করছে".

"আমার বয়স ৫৭, আমি বীর পদক পেয়েছিলাম, যখন আমার বয়স ছিল তিরিশের সামান্য বেশী. সারা জীবন এই জন্য তৈরী হয়েছি, ক্লাস ওয়ান থেকেই ঠিক করেছিলাম সেনা বাহিনীতে যাবো. যদিও আমাদের পরিবারে কেউ সৈন্য বাহিনীতে যায় নি তবুও ঠিক করেছিলাম সুভোরভের নামাঙ্কিত সেনা স্কুলে ভর্তি হবো. ক্লাস এইট পাস করে ভর্তি হয়েছিলাম. সেখানেই আমার চরিত্র তৈরী হয়েছিল, তারপর রিজান শহরের বিমান বাহিনীর যোদ্ধা দের কলেজ পাস করেছিলাম সোনার মেডেল নিয়ে".

ভালেরি ভস্ত্রোনিন আফগানিস্থানে সোভিয়েত সেনা বাহিনীর সীমিত সংখ্যক সৈন্যদলের হয়ে যুদ্ধ করেছেন. ১৯৭৯ সালে কাবুলে আমিনের প্রাসাদ দখলের লড়াইতে অংশ নিয়েছিলেন. তখন তিনি সেই বিখ্যাত ৯ নম্বর পদাতিক ব্যাটেলিয়নের কম্যাণ্ডার ছিলেন, যে বাহিনীর সম্বন্ধে পরে এক নাম করা সিনেমা তোলা হয়েছিল. তাঁকে অনেকবারই কঠিন কাজ করতে হয়েছিল, কিন্তু তিনি যে কারণে এই বীরের সম্মান পেয়েছিলেন, সে ঘটনা তাঁর বিশেষ করে মনে পড়ে. ১৯৮৭ সালের ঘটনা, এই সময়ে ভালেরি ভস্ত্রোনিন ছিলেন এক বাহিনীর নেতা, কাজ পড়েছিল পাকিস্থানের সীমান্তে, আফগান বাহিনীকে পাকিস্থানি সামরিক বাহিনী ও দুশমন দের হাত থেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে, "যাতে আফগানিরা আমাদের পিছনে থেকে সীমান্তের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত খুঁটি পাল্টে ফেলতে পারে এবং সীমান্ত অঞ্চলে রসদের ভাণ্ডার পূর্ণ করতে পারে. কাজটা ছিল যে রকম সাধারন ভাবে আমাদের করতে বলা হত সেই রকমই, কিন্তু আমরা পড়ে গেলাম ফাঁদে".

"আর তাই প্রায় দশ দিন ধরে প্রায় হাতাহাতি যুদ্ধ করে টিকে থাকতে হয়েছিল, আর এই দলগত কাজের জন্যই, আমি এটাকে অন্ততঃ তাই নাম দিয়ে থাকি, আমার অংশগ্রহণকে মূল্য দেওয়া হয়েছিল, কারণ এই দশ দিনে আমি নিজে এবং আমার নেতৃত্বে আমাদের অগ্রবর্তী বাহিনী প্রায় ৫০০ শত্রুকে নিধন করেছিল. কাজ যা দেওয়া হয়েছিল তা আমরা করেছিলাম". এই কাজের জন্যই তাঁকে বীর উপাধি দেওয়া হয়েছিল.

সোভিয়েত দেশের বীর উপাধি পেয়েছিলেন মোট ১২৭৭২ জন. এঁদের মধ্যে বেশীর ভাগই মহান পিতৃভূমির যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর.

বর্তমানের রাশিয়ার প্রধান বীরত্বের পদক রাশিয়ার বীর উপাধি দেওয়া চালু হয়েছে ২০ শে মার্চ ১৯৯২ সাল থেকে. সেই সময় থেকে "সোনার তারা" রাশিয়ার বীর উপাধি পেয়েছেন ৯৩০ জন, এঁদের মধ্যে ৪২০ জন পেয়েছেন মরণোত্তর সম্মান. প্রথম এই পদক পেয়েছেন মহাকাশচারী সের্গেই ক্রিকালিয়ভ – যিনি সর্বমোট মহাকাশে ছিলেন বিশ্বে সকলের চেযে বেশী. প্রথম দুই বারে তিনি পৃথিবীর বাইরে ছিলেন এক বছর তিন মাসের বেশী সময় এবং এর মধ্যে সাত বার খোলা মহাকাশে বেরিয়ে ছিলেন. তাঁর এই "মির" স্টেশনে বহুদিন থাকার জন্যই তিনি দেশের সেরা এই পদক পেয়েছেন. তিনি সেই চার জনের একজন যাঁরা একই সঙ্গে সোভিয়েত দেশের ও রাশিয়ার বীর পদক পেয়েছেন. সের্গেই ক্রিকালিয়ভ মনে করেছেন, এই মহাকাশ ভ্রমণ তাঁর কি কারণে মনে আছে এবং কেন তাঁকে এই পদক দেওয়া হয়েছিল. তিনি বলেছেনঃ

"কারণ প্রথমতঃ আমার এই মহাকাশচারনা ছিল একই সঙ্গে দুটি মহাকাশ অভিযানের অংশ. এই মহাকাশচারনা ছিল বহু দিনের. আর দ্বিতীয়তঃ এই সময়ে পৃথিবীতে অনেক ঘটনা ঘটেছিল. আমরা ১৯৯১ সালের বসন্তে আমাদের উড়ান শুরু করেছিলাম আর পৃথিবীতে ফিরে এসেছিলাম ১৯৯২ সালের বসন্তে. তাই প্রতিবিপ্লব, সোভিয়েত দেশ ভেঙে যাওয়া, স্বাধীন দেশ গুলির জোট তৈরী হওয়া – এই সব হয়েছে যখন আমরা ছিলাম মহাকাশ স্টেশনে".

পিতৃভূমির বীর দের সম্মানে সারা দেশে আজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে. আজ বিশেষ অনুষ্ঠান, সম্মেলন ও আর্ত দের সাহায্যের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে. আজ সমস্ত বীর দের অভিনন্দন ও শ্রদ্ধা জানানো হবে, যাঁরা দেশের জন্য বীরত্বের কাজ করেছেন.