রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ভারতের সঙ্গে স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্কের উন্নতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আশা করেছেন যে, বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কট উপেক্ষা করে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমান বৃদ্ধি পাবে. ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের সঙ্গে আলোচনার পর এক অন্তিম সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা করেছেন.

    রাশিয়া দেশের নেতা ঘোষণা করেছেন, বিগত কয়েক বছরে আমাদের সম্পর্ক, যা বহু দিনের ও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য বহন করে আসছে, তা দুর্বল তো হয়ই নি বরং শক্ত হয়েছে.

    দিমিত্রি মেদভেদেভের মতে, আমাদের উন্নতির লক্ষণ ভালই রয়েছে, একই সঙ্গে রয়েছে আর্থ বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতির গতিতে ইতিবাচক দিক. বর্তমানের অর্থনৈতিক সঙ্কট থাকা স্বত্ত্বেও আমাদের বাণিজ্যের পরিমান ৮ শতাংশ বেড়েছে. আশা করা যেতে পারে, এই বছরের শেষে তা আরও বাড়বে এবং আমরা সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের দিকে আশা নিয়ে দেখছি.

    নিজের পক্ষ থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ঘোষণা করেছেন যে, ২০০৯ সাল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ ভাবে সাফল্যের বছর. তিনি মনে করেন, দুই দেশের এই স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক অনন্য. বর্তমানের বহুমাত্রিক বিশ্বে দুই দেশের এই পারস্পরিক বিশ্বাসের ভিত্তিতে তৈরী সম্পর্কের গভীরতা ও তার ফল অনেক. একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, রাশিয়ার সঙ্গে বহু দিনের এই সম্পর্কের ক্ষতি করে ভারত কখনোই কোন তৃতীয় দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করবে না. তাঁর মূল্যায়নে শক্তিশালী ও উন্নত রাশিয়া বিশ্বের স্থিতিশীলতা ও উন্নতির জন্য একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ. প্রধানমন্ত্রী বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত ও রাশিয়ার মৈত্রী ও সহযোগিতা বিশ্বের ক্ষেত্রে এক বিশেষ মাত্রা রাখে, আর বিশ্বের নানা বিপদের সমাধানে, যেমন, সন্ত্রাসবাদের মোকাবিলা, আবহাওয়া পরিবর্তনের মোকাবিলা ইত্যাদি বিষয়ে খুবই প্রয়োজনীয় মূল সূত্র পেতে সাহায্য করে. দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর গত ভারত সফরের সময় ছিল মুম্বাই হামলার অব্যবহিত পরেই এবং বর্তমানের মনমোহন সিংহের সফরও নেভস্কি এক্সপ্রেসের সন্ত্রাসের পর. এই উদাহরণ দিয়ে উনি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস বিরোধী ভিত্তি আরও শক্ত করতে বলেছেন এবং ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়া ও ভারতের জন্য একটি অন্যতম মুখ্য বিষয় হল রাশিয়া ও ভারতের সামগ্রিক সন্ত্রাস বিরোধী দলিল তৈরীর বিষয়ে সহযোগিতা.

    বিশ্বের বিপদের মোকাবিলার উদ্দেশ্যে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার গভীরতা বাড়ানোর বিষয়ে এই সমস্তই আলোচনার পরে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে. রাশিয়া ও ভারত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তৈরীর ব্যবস্থার যে ভিত্তির উপর জোর দিয়েছে, তা হল মূলতঃ নিরাপত্তার বিষয়ে কোন ভাগ সৃষ্টি না করা এবং যা সারা বিশ্বের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য. দুই পক্ষই একমত হয়েছে যে, বিশ্বের অর্থনৈতিক কাঠামো ও নিয়ন্ত্রণ সাম্য ও ন্যায়ের ভিত্তিতে হওয়া উচিত্. রাশিয়ার নেতা দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন যে, ভারতের সঙ্গে একসাথে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র খোলার কথা.

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফরের শেষে আরও বিভিন্ন সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে. ভারতকে বিক্রীত রাশিয়াতে পুনর্নির্মাণ রত ভারী বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ অ্যাডমিরাল গর্শকভ এর বিষয়ে চুক্তি নিয়ে যত প্রশ্ন ছিল, সে গুলি অবশেষে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে. দিল্লী চায় এই ক্রুইসার যত দ্রুত সম্ভব পেতে, কারণ এই যুদ্ধ জাহাজকে কেন্দ্র করে দেশের সামরিক বাহিনীর নৌবহরের সমুদ্রের স্ট্র্যাটেজি তৈরী হয়েছে. শক্তি বিষয়েও কয়েকটি চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে, সে বিষয়ে শান্তিপূর্ণ প্রয়োগের জন্য পারমানবিক শক্তিও রয়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বিষয়ও রয়েছে. এই বিষয়ে রাশিয়ার পূর্ব দেশ বিশেষজ্ঞ তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেনঃ

জানা ছিল যে, রাশিয়া ভারতের জন্য অন্যতম প্রধান জ্বালানী শক্তি সরবরাহ কারী দেশ, ভারতের বর্তমান দ্রুত উন্নতির সময়ে এর প্রয়োজনও অনেক বেশী. এই খানে পথ খোঁজা দরকার যাতে দুই দেশের এই ক্ষমতা কাজে লাগে.

তাতিয়ানা শাউমিয়ান জানেন যে এটা করা কত শক্ত. কারণ বারত ও রাশিয়ার পাশাপাশি কোন সীমানা নেই আর সেখানে পাইপ লাইন বসানো খুবই কঠিন. সুতরাং অন্য পথ দেখতে হবে, যেমন ভারতে তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস ট্যাঙ্কার করে পাঠানো যেতে পারে. এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, দুই দেশেরই উচিত্ সক্রিয়ভাবে ব্যতিক্রমী জ্বালানীর বিষয়ে কাজ করা.

এই শেষ সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে যে, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের আমন্ত্রণে আগামী ২০১০ সালে ভারতে যেতে রাজী হয়েছেন.