পের্ম শহরের নাইট ক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ১১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, এই ঘটনায় দোষী শুধুমাত্র এই কাফের কর্মকর্তারাই নয়, এমন কি সরকারী কর্মীরাও, যারা তাদের কাজের ক্ষেত্রে চরম গাফিলতি দেখিয়েছে. গত রাত্রে পের্ম শহরের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই ঘোষণা করেছেন.

    পের্ম শহরের ট্র্যাজেডির মত ঘটনার পিছনে সব সময়ই থাকে অনেক গুলি কারণ. এখানে কাফের মালিকদের কাজের প্রতি অবহেলা, যারা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল, তাদের শিক্ষার অভাব, কিন্তু কোন ভাবেই তা সরকারি কর্মচারীদের দোষ কমিয়ে দেয় না, যারা তাদের দায়িত্বের বিষয়ে শুধু একটা পোষাকী মনোভাব নিয়ে থাকে. এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ভ্লাদিমির পুতিন, বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই শইগু এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিদের পের্ম শহরের ক্লাবের অগ্নিকাণ্ড সম্বন্ধে পেশ করা রিপোর্টের ভিত্তিতে.

    "পরীক্ষা করে দমকলের কর্মীরা যত খুঁত আছে, তা ঠিক করার জন্য কাফের মালিককে লিখে দিয়েছিলেন, কি ঠিক করতে হবে, তারপর এক বছর কেটে গেছে, অথচ আঞ্চলিক, শহরের বা রাজ্যের দমকলের কর্মীরা একবারও দেখতে আসেন নি, খুঁত সব ঠিক করা হল কি না. এই রকম কাজের প্রতি মনোভাবকে অবহেলা ছাড়া আর কোন নাম দেওয়া সম্ভব নয়. কম করে বললে এটা বলা যায়, আর সম্ভবতঃ সরকারের দমকল কর্মীদের এই রকম অবহেলার পিছনে আরও কোন কারণ থাকতে পারে, সমস্ত রকম ধারণাকেই গোয়েন্দা দের খতিয়ে দেখা উচিত্ হবে".

    সরকারের ব্যবসার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে প্রায় চক্রব্যূহ হয়ে আছে. যত বেশী করে ক্ষমতা বাড়ছে নিয়ন্ত্রণ কারী সরকারি দপ্তর গুলির, দুর্নীতিও তার সঙ্গে সমান তালে বেড়ে চলেছে. যদি নিয়ন্ত্রণ কমানো হয়, ব্যবসায়ী মহল তত্ক্ষণাত শুরু করে দেয় দায়িত্বহীণের মত ব্যবহার করতে. প্রাথমিক ভাবে লোকেদের নিরাপত্তার বিষয়ে খরচ কমিয়ে. পের্ম শহরের এই নির্দিষ্ট ঘটনাকে একমাত্র চুড়ান্ত অবহেলা ও গাফিলতি ছাড়া আর কিছু বলা সম্ভব নয়, বলে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী.

    "ব্যবসায়ী মহল সমস্ত কিছু ভঙ্গ করে বসে আছে, যা ভঙ্গ করা সম্ভব. কি করে বদ্ধ জায়গায় সেই সব বাজী পোড়াতে দেওয়া হল, যেখানে পরিষ্কার রুশী ভাষাতে লেখা যে, বদ্ধ জায়গায় ব্যবহার নিষিদ্ধ?"

এই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, প্রশাসনিক ও ফরিয়াদি আইনের পরিবর্তন করা হচ্ছে. এই সব পরিবর্তনের পর অগ্নি নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে.

    পের্ম শহরের ঘটনা নিয়ে যে চারজনকে সন্দেহ করা হয়েছে, তারা এখন জেলে. মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে শুক্রবার রাতে রাশিয়ার ভোলগা তীরবর্তী রাষ্ট্রীয় অঞ্চলের পের্ম রাজ্যের রাজধানী পের্ম শহরে. ল্যাংড়া ঘোড়া নাইট ক্লাবে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের সময় আগুন লাগে, সেই আগুনে প্রায় আড়াইশো লোক ক্ষতিগ্রস্থ হয়. এখন অবধি মারা গিয়েছেন ১১৮ জন এবং প্রায় ৬০ জন গুরুতর ভাবে দগ্ধ অবস্থা.য় হাসপাতালে রয়েছেন.

    রাশিয়ার প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মৃতদের পরিবার এক কালীণ পাঁচ লক্ষ রুবল সাহায্য পাবেন, যার মধ্যে ১ লক্ষ দেবে পের্ম অঞ্চলের প্রশাসন ও বাকী আসবে জাতীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে. যাঁরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তাঁরা তিন লক্ষ পাবেন জাতীয় প্রশাসন থেকে এবং ১ লক্ষ দেবে স্থানীয় প্রশাসন. (sound)