পর্যবেক্ষকেরা খেয়াল করে দেখেছেন যে, আফগানিস্থানের সম্পর্কে নতুন স্ট্র্যাটেজি ঘোষণা করার সময় রাষ্ট্রপতি ওবামা বেন লাদেনকে ধরবার কথাটা বলেন নি. আর এক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্থানের মূল লক্ষ্য ছিল এটাই. তার অবস্থানের খবরের জন্য দেওয়ার কথা হয়েছিল অনেক টাকা. আজও ওয়াশিংটন আল কায়দার সঙ্গে যুদ্ধকে নিজেদের প্রাথমিক কাজ বলে উল্লেখ যদিও করছে, তবে কেন বেন লাদেন একটা অশরীরী ছায়াতে পরিণত হচ্ছে আর তাকে ধরার উদ্দেশ্যটাও হারিয়ে যাচ্ছে? রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ভিক্টর নাদেইন রায়েভস্কি "রেডিও রাশিয়া"কে এই সম্বন্ধে মন্তব্য করে বলেছেনঃ

"এই যুক্তিটা খুবই জনপ্রিয় ছিল, যখন একটা সাফল্যের আশা ছিল, তখন. বর্তমানে সমস্ত আশা উবে যাচ্ছে, আর যুক্তিটা তাই আর শোনা যাচ্ছে না. এই উদ্দেশ্য নিয়ে প্রচার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে. বোধহয় এটা টের পেয়েই রাষ্ট্রপতি ওবামা আফগানিস্থানের নূতন স্ট্র্যাটেজি বলার সময়ে আর এই বিষয় টা নিয়ে বিশেষ নাড়া ঘাঁটা করেন নি. সে ভাবে দেখতে গেলে নূতন স্ট্র্যাটেজি ঘোষণার কারণটাই হল, তালিবান বা আল কায়দা ধ্বংস বা বেন লাদেনকে ধরবার পুরনো স্ট্র্যাটেজি আর কাজ করছে না. আর হার হয়েছে বলতে কার ভাল লাগে? কিন্তু এটা হল একটা ধারণা. আর একটা ধারাও আছে, যা বেন লাদেনের অমরত্বের কারণ দর্শায়. কয়েক দিন আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ভিতরের সেনেটের পররাষ্ট্র বিষয়ের পরিষদ একটা রিপোর্ট তৈরী করেছিল, যাতে বলা হয়েছে যে, ২০০১ সালে আমেরিকার বিশেষ বাহিনী তোরা বোরা পাহাড়ে বেন লাদেন ও তার চ্যালা দের দেখতে পেয়েছিল এবং ধরতেও তৈরী ছিল.বেন লাদেন এমনকি উইলও তৈরী করে ফেলেছিল. কিন্তু সে উইল দেখা গেল সময়ের আগেই তৈরী. সেই সময়ের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রামসফেল্ড প্রয়োজনীয় শক্তি বাহিনীকে দেন নি, যাতে বেন লাদেন কে ধরতে বা মারতে পারা যায়. বেন লাদেন পালাতে পেরেছিল. বিগত কয়েক দশক আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বেন লাদেন ও তার সন্ত্রাসবাদী সাঙ্গোপাঙ্গ মোজাহেদ্দিন দের দিয়ে সোভিয়েত দেশের আফগানিস্থানকে আধুনিকীকরণের প্রচেষ্টা বানচাল করে দিয়েছিল. সোভিয়েত দেশ এই দেশে শুধু সৈন্য বাহিনীই পাঠায় নি, সেখানে কল কারখানা, রাস্তাঘাট, বাঁধ, স্কুল সবই তৈরী করেছিল. আফগানিস্থানের লোকদের শিক্ষা দিতেও চেয়েছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এটা পছন্দ হয় নি. পরে দেখা গিয়েছিল যে, বেন লাদেন রাষ্ট্রপতি বুশের শাসন কালে সময় বুঝে উদয় হত, যখনই ওয়াশিংটনকে নিকট প্রাচ্যে নিজেদের শক্তি প্রয়োগের কারণ দেখাতে হত. যেমন, ইরাক আক্রমণ, আজ তার পর থেকে ৮ বছর কেটে গেছে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বজ্র কন্ঠে ঘোষণা করেছিল যে, বেন লাদেন কে ধরতে হবে অথবা মারতে হবে. কিন্তু বেন লাদেন এখনও বেঁচে. কিছু সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী সে এখন পাকিস্থানে থাকে, আফগান সীমান্তের কাছে, তার অল্প বয়সী বউ এর সাথে সময় কাটাচ্ছে. বোধহয় সে এখনও কোন কাজে লাগবে?"