রবিবার সন্ধ্যায় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে বেসরকারি আলোচনা দিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাঁর রাশিয়া সফর শুরু করেছেন. "ছুটির দিনেও আপনি আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন বলে আপনাকে ধন্যবাদ"-  বলেছেন ডঃ মনমোহন সিংহ দিমিত্রি মেদভেদেভ কে. "ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফর এটা সবসময়েই উল্লেখযোগ্য ঘটনা" —  বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ. আরও যোগ করেছেন, যে "ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে তিনি শুধু সরকারি ভাবেই দেখা করে খান্ত হতে চান না". আমাদের দেশে শোক দিবস পালন হচ্ছে বলে আজ ভারত উত্সব সমাপ্তি দিবস হিসাবে বলশয় থিয়েটারে যে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল, তা বন্ধ রাখা হয়েছে, আর এই অনুষ্ঠানে এই রকম বেসরকারি আলাপের সুযোগ হয়ত হতে পারত. ভারতের প্রধানমন্ত্রীর রাশিয়া সফরের এক দিন আগে শুক্রবার রাতে রাশিয়ার পের্ম শহরে একটি নাইট ক্লাবে আগুন লেগে শতাধিক অল্প বয়সী লোক নিহত হয়েছেন, প্রায় তত লোক গুরুতর ভাবে আহতও হয়েছেন. উত্সব আরও হতে পারবে.

    মূল বিষয় হল বিশ্বাসযোগ্যতা ও সম্পর্ক যা আমাদের দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে গড়ে উঠেছে এবং ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্কের চরিত্রের বিশেষত্ব হয়েছে. দিমিত্রি মেদভেদেভের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়, ডঃ মনমোহন সিংহের কথায় রাশিয়া ও ভারতের সম্পর্ক ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারতের বর্তমানে অন্য কোন দেশের সঙ্গে এত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নেই. আর এটি আমাদের দুই জাতির লোকেদের জন্য সবচেয়ে প্রধান. আমরা সবসময়ই একসাথে ছিলাম, শোকের সময় ও আনন্দের সময়. আমাদের দুই দেশ কঠিন সময়ে একে অপরকে বিনা স্বার্থে সাহায্য করে এসেছে. রাশিয়াতে ভারত বর্ষ ও তার আগে ভারতে রাশিয়া বর্ষ দুই দেশের জন সাধারণের জন্য উল্লেখ যোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনা হয়েছে. এই উত্সবে কয়েক হাজার শিল্পী, লেখক, চিত্র শিল্পী, অন্যান্য পেশার লোক যোগ দিয়েছেন যেমন ভারতে তেমনই রাশিয়াতে. তাঁরা দুই দেশের মানুষকে একে অপরের কলা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সম্বন্ধে জানতে সাহায্য করেছেন.

    এই স্মরণীয় ঘটনা সম্বন্ধে রাশিয়ার বিখ্যাত পূর্ব দেশ বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসে ডক্টরেট প্রফেসর গেন্নাদি চুরফিন বলেছেনঃ

    "আমি নিজের চোখে দেখেছি, আর নিজেও এক বড় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছি. বলতে চাই যে, ভারতেও যেমন রাশিয়া নিয়ে, তেমনই রাশিয়াতেও ভারত নিয়ে ও তার সংস্কৃতি সম্বন্ধে উত্সাহী লোকের অভাব নেই. অনেক বছর ধরেই, বলা যেতে পারে বিগত কয়েক দশক ধরে দুই দেশের লোকেরা সংস্কৃতি ও সভ্যতার বিষয়ে একে অপরের কাছে আসছে. বিগত ২৫ বছরের সমস্ত রাজনৈতিক উথাল পাথাল স্বত্বেও এটা ভাল যে, আমরা এই আগ্রহ হারিয়ে ফেলি নি. আমাদের ভিত্তির বিষয় গুলিতে একে অপরের প্রতি সম্ভ্রম ও বিপুল আগ্রহ এখনও আছে. আমি আশা করব এটা সবসময়ই থাকবে.

    রাজনৈতিক ভাবে ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক সবসময়ই যথেষ্ট স্থিতিশীল ছিল, উন্নতি হয়েছে ইতিবাচক দিকেই. বর্তমানের বিশ্ব ও আঞ্চলিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা ও প্রসারতা বৃদ্ধির প্রয়োজন বাস্তবে দেখা দিয়েছে, বিশেষত ভারতের প্রতিবেশী পাকিস্থান ও আফগানিস্থানের পরিস্থিতি চিন্তা করে দেখলে. সুতরাং আমাদের দুই দেশের কথা বলার মত বিষয় আছে, যেখানে নিজেদের অবস্থান যাচাই করে দেখা সম্ভব হয় এবং বর্তমানের বিশ্বের খুবই জটিল ও তীক্ষ্ণ বিষয় গুলিতে নিজেদের পারস্পরিক অবস্থান সম্বন্ধে যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়".