হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের পার্ল হার্বার মার্কিন সামরিক নৌবহরের ঘাঁটি ছিল, সেই ঘাঁটিতে আজ থেকে ৬৮ বছর আগে জাপানের আক্রমণ ঘটেছিল ৭ ই ডিসেম্বর ১৯৪১ সালে. এই ঘটনা আজও ফ্যাসীবাদের বিরোধী জোটের বেদনার কারণ হয়ে আছে.

    গত শতকের ৩০ শের দশকে জাপান ও তার সহযোগী নাত্সী জার্মানি ও ফ্যাসিস্ট ইতালি বিশ্বকে ভাগ করতে চেয়েছিল. জাপানের আগ্রাসী নীতি শুরু হয়েছিল ১৯৩৭ সালে চীন আক্রমণ দিয়ে, তারপর তা ছড়িয়ে পড়েছিল দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জে. সময়ের সঙ্গে এই নীতির ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাপানের সম্পর্ক খারাপ করে দেয় এবং শেষ অবধি যুদ্ধে বাধ্য করেছিল.

    এই যুদ্ধের শুরু হয়েছিল ১৯৪১ সালের ডিসেম্বর মাসে পার্ল হার্বার বন্দর আক্রমণ দিয়ে, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর মূল প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহর থাকত. ৭ ই ডিসেম্বর জাপানী নৌবহর ৬ টি বিমান বাহী জাহাজ, ২ টি যুদ্ধ জাহাজ, কয়েকটি ক্রুইসার জাহাজ, ডুবোজাহাজ, ডেস্ট্রয়ার, ট্যাঙ্কার ও সাহায্যকারী জাহাজ নিয়ে অলক্ষ্যে ঢুকে পড়ে হাওয়াই দ্বীপপূঞ্জের কাছে উত্তর দিক থেকে. পার্ল হার্বার দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ও বিমান বহরের ঘাঁটি জাপানী বিমান ও ছোট ডুবো জাহাজের অতর্কিত আক্রমণের শিকার হয়.

    কয়েক ঘন্টার মধ্যে জাপানী বিমান বাহিনী ৮ টির মধ্যে ৫ টি আমেরিকার যুদ্ধ জাহাজ ডুবিয়ে দেয়, বাকি গুলিও ক্ষতিগ্রস্থ হয়. ক্ষতিগ্রস্থ হলেও জলে ভেসে থাকতে পেরেছিল ৩ টি হালকা যুদ্ধ জাহাজ. ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে ডুবে গিয়েছিল ৪ টি সাহায্য কারী জাহাজ. ১৮৮ টি যুদ্ধ বিমান ধ্বংস হয়েছিল. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৪০০ জনেরও বেশী লোক নিহত এবং ১২০০ লোকেরও বেশী আহত হয়েছিল.

    জাপানী দের এই আক্রমণ আমেরিকার লোকেদের মনোভাব সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে ছিল, যাঁরা তাঁর কিছুদিন আগেও এই যুদ্ধ থেকে তফাতে থাকতে চাইছিলেন. সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের উপ প্রধান সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেনঃ

    "৭ ই ডিসেম্বরের আগে পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে সরকারি ভাবে নির্জোট থাকতে চেয়েছিল, যদিও রাজনৈতিক ভাবে সোভিয়েত দেশ ও গ্রেট ব্রিটেনকে সমর্থন জানিয়েছিল. কিন্তু ৭ ই ডিসেম্বরের পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সক্রিয় অংশীদার হয়েছিল. অর্থাত্ তারা জাপানের বিরুদ্ধে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষ অভিযান শুরু করেছিল – যার নাম প্রশান্ত মহাসাগরের নৌবাহিনীর যুদ্ধ. যে যুদ্ধ চলেছিল ১৯৪৫ সাল অবধি".

    ৮ ই ডিসেম্বর ১৯৪১ মার্কিন রাষ্ট্রপতি ফ্র্যাঙ্কলিন রুজভেল্ট দেশের লোকসভা ও বিধানসভার মিলিত বৈঠকে অংশ নিয়ে ৭ই ডিসেম্বরের ঘটনাকে লজ্জার ঘটনা বলে ঘোষণা করে জাপানের সঙ্গে যুদ্ধ করার অনুমতি প্রার্থনা করেন. কংগ্রেস প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয় ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়. এরপর শুরু হয়েছিল ফ্যাসীবাদের বিরোধী জোটের সৃষ্টি, যে জোটে সেই সময়ের বিশ্বের নেতৃত্ব দান কারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, গ্রেট ব্রিটেন ও সোভিয়েত দেশ সামিল হয়েছিল. এই তিন দেশের সম্মিলিত শক্তি প্রয়োগের ফলেই বহু ভাবে ফ্যাসীবাদের ধ্বংস সম্ভবপর হয়েছিল.